৪ মে-র মহাযুদ্ধের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে দিল্লিতে ঘটে গেল এক বিশাল আইনি ধামাকা! যে তৃণমূল কংগ্রেস গত কয়েকদিন ধরে রাজ্য সরকারি কর্মীদের ব্যবহার করে গণনায় কারচুপির ছক কষছিল, সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ে তাদের সেই সব চক্রান্ত আজ ধূলিসাৎ হয়ে গেল। দেশের শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিল—ভোট গণনায় কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরাই থাকবেন পাহারায়। তৃণমূলের সব আপত্তি, সব অজুহাত আজ নর্দমায় ছুড়ে ফেলে দিল আদালত। আজ আমরা বিশ্লেষণ করব, কেন এই রায় মোদীজির ‘সোনার বাংলা’ গড়ার পথে এক বিরাট মাইলফলক আর কেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের জন্য এটি এক অশনি সংকেত।
চুরির পথ বন্ধ হতেই সুপ্রিম কোর্টে দৌড়েছিল তৃণমূল। কলকাতা হাই কোর্টে ধাক্কা খাওয়ার পর তারা ভেবেছিল দিল্লিতে গিয়ে হয়তো পার পাবে। কিন্তু বিচারপতি পিএস নরসিংহ এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ আজ যে কড়া পর্যবেক্ষণ দিল, তাতে তৃণমূলের উকিলদের মুখ দেখানোর জায়গা নেই। আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে—”সরকারি কর্মচারী মানেই তিনি সরকারি কর্মচারী, সেখানে রাজ্য বা কেন্দ্র বলে কোনো বিভাজন চলে না।” তৃণমূলের দাবি ছিল, কেন্দ্রীয় কর্মীরা থাকলে নাকি পক্ষপাতিত্ব হবে! হাসির খোরাক তৈরি করে আদালত বুঝিয়ে দিল, পক্ষপাতিত্বের ভয় আসলে তাদেরই থাকে যারা সাধারণ মানুষের রায়কে চুরি করতে অভ্যস্ত। মোদীজির শাসনে চুরির সব রাস্তা যে একে একে বন্ধ হচ্ছে, সুপ্রিম কোর্টের এই রায় তারই প্রমাণ।তৃণমূলের হয়ে সওয়াল করতে নেমেছিলেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল। তাঁর যুক্তি ছিল—কেন রাজ্য সরকারি কর্মীদের ওপর ভরসা রাখা হচ্ছে না? কিন্তু আদালত পাল্টা বুঝিয়ে দিল, গণতন্ত্রের পবিত্রতা রক্ষায় কোনো নির্দিষ্ট তথ্যের প্রয়োজন হয় না, স্বচ্ছতাই শেষ কথা।
আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, প্রতিটি টেবিলে রাজনৈতিক দলগুলোর এজেন্টরা উপস্থিত থাকবেন। তাহলে তৃণমূলের এত ভয় কিসের? আসলে তারা জানে, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব নয়। রাজ্য পুলিশ বা রাজ্য সরকারি কর্মীদের একাংশকে ভয় দেখিয়ে বা প্রলোভন দিয়ে যা করা সম্ভব, কেন্দ্রীয় কর্মীদের সামনে সেই কারচুপি করা অসম্ভব। পরাজয়ের গন্ধে তৃণমূল এখন এতটাই দিশেহারা যে তারা খড়কুটো আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করছে।সুপ্রিম কোর্টের এই সবুজ সংকেতের পর নির্বাচন কমিশন এখন সম্পূর্ণ স্বাধীন। ৪ মে যখন ইভিএম খোলা হবে, তখন প্রতিটি টেবিলের প্রতিটি ভোট গুনবেন সেই সব আধিকারিকরা যাদের তৃণমূল ভয় দেখাতে পারবে না। মোদীজির নেতৃত্বে দেশ আজ যে স্বচ্ছতার পথে হাঁটছে, বাংলাও এবার সেই পথেই এগোবে।
তৃণমূল যখন আইনি লড়াইয়ে হেরে গিয়ে হতাশায় ভুগছে, বিজেপি কর্মীরা তখন মানুষের রায়কে রক্ষা করতে তৈরি। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিল, ব্যক্তির পরিচয় ‘কেন্দ্রীয়’ না ‘রাজ্য’ তা বড় নয়, তিনি একজন সরকারি সেবক। আর এই সত্যটাই তৃণমূলের কাছে সবচেয়ে বড় আতঙ্ক। কারণ এবার আর ‘ছাপ্পা’ বা ‘গণনা কারচুপি’র সুযোগ নেই।দিন শেষে জয় হলো সত্যের। সুপ্রিম কোর্টের এই রায় প্রমাণ করল যে এ দেশে আইন সবার ঊর্ধ্বে। তৃণমূলের কুশাসনের দিন এবার শেষ হতে চলেছে। ৪ মে-র সকালে যখন গণনা শুরু হবে, তখন কেন্দ্রীয় বাহিনীর সুরক্ষায় আর কেন্দ্রীয় কর্মীদের পাহারায় মানুষের প্রকৃত রায় বেরিয়ে আসবে।
আপনার কি মনে হয়? কেন্দ্রীয় কর্মীরা গণনা করলে কি তৃণমূলের কারচুপির ছক ভেস্তে যাবে? আপনার মতামত কমেন্টে জানান। গণতন্ত্রের এই ঐতিহাসিক জয়ের প্রতিটি মুহূর্তের খবর পেতে আমাদের সাথেই থাকুন।
