মতুয়া সম্প্রদায়ের লাখো মানুষ ও সাধারণ ভক্তদের উন্নত স্বাস্থ্য়সেবা প্রদান করতে এবার এক যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করল মতুয়া মহাসংঘ। সাধারণ ও দুস্থ মানুষের কাছে ভালো বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা খরচ যেখানে প্রায় নাগালের বাইরে চলে যায়, ঠিক সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে চিকিৎসা পরিষেবাকে অতি সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করে তুলতে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হলো ‘মতুয়া বন্ধু মেডিক্যাল কার্ড’। রবিবার ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়িতে আয়োজিত এক জমকালো ও ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানে কলকাতার নামী বেসরকারি হাসপাতালের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এই জনকল্যাণমুখী উদ্যোগের সূচনা করা হয়।
গাইঘাটার বিধায়ক তথা মতুয়া মহাসংঘের সংঘাধিপতি সুব্রত ঠাকুরের হাত ধরে এই বিশেষ কার্ডের শুভ উন্মোচন ঘটে। সুব্রত ঠাকুর পন্থী মতুয়া মহাসংঘ ও বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মধ্যে এই সংক্রান্ত একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তিও আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই ‘মতুয়া বন্ধু মেডিক্যাল কার্ড’-এর দৌলতে এখন থেকে কার্ডধারীরা হাসপাতালের ওপিডি পরিষেবা, বিভিন্ন জটিল ল্যাবরেটরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং ওষুধ কেনার ক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের বিশেষ ছাড় ও বাড়তি একাধিক প্রিমিয়াম সুবিধা পাবেন। নামী হাসপাতালের প্রতিনিধি শ্রীতপা চক্রবর্তী জানান, আধুনিক ও উন্নতমানের চিকিৎসা যেন শহরের নির্দিষ্ট গণ্ডি পেরিয়ে পিছিয়ে পড়া মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছায়— সেটাই এই প্রগতিশীল উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
অন্য দিকে, বিধায়ক সুব্রত ঠাকুর সগৌরবে আশ্বস্ত করেছেন যে এটি শুধুই শুরু। আগামী দিনে গোটা রাজ্যের আরও একাধিক নামী ও প্রথম সারির বেসরকারি হাসপাতালকে এই মতুয়া মহাসংঘের সাথে এক সুতোয় বাঁধা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ সব জায়গা থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে চিকিৎসা পান। এমনকি মতুয়া মহাসংঘের সাধারণ সম্পাদক মিঠু বালা জানিয়েছেন, বর্তমানে মতুয়া ভক্তদের জন্য এটি চালু হলেও, খুব শীঘ্রই সর্বসাধারণের চিকিৎসার সুবিধার্থে এর পরিধি বাড়িয়ে সবার জন্য দরজা খুলে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। তো তোষণ আর প্রতিশ্রুতির রাজনীতি ভুলে, পিছিয়ে পড়া মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে এবং তাঁদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মতুয়া মহাসংঘের এই কল্যাণমুখী ও জনহিতকর প্রয়াস সত্যিই এক অনন্য ও রূপান্তকারী নজির সৃষ্টি করেছে।