অবশেষে অবসান হলো দীর্ঘ প্রতীক্ষার। ঐতিহাসিক জয়ের পর এবার বাংলায় সুশাসনের নতুন অধ্যায়। সম্পন্ন হলো রাজ্যের নবনির্বাচিত মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন। গত মঙ্গলবার নবান্নে এক ম্যারাথন বৈঠকের পর রূপরেখা চূড়ান্ত করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সামনে এল কার কাঁধে কোন মন্ত্রকের গুরুদায়িত্ব উঠতে চলেছে সেই তালিকা। আসলে পরিবর্তনের বাংলায় সুশাসনের কান্ডারী স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী; তাই স্বরাষ্ট্র, আইন ও বিদ্যুৎ দপ্তর নিজের হাতে রেখেছেন শুভেন্দু অধিকারী। অর্থ মন্ত্রকের গুরুদায়িত্ব পেলেন অভিজ্ঞ স্বপন দাশগুপ্ত, শিল্প ও বাণিজ্যে ভরসা বর্ষীয়ান তাপস রায়ের ওপর। শিক্ষা দপ্তরের খোলনলচে বদল করতে দুই ভাগে বিভক্ত হল এই মন্ত্রক, দায়িত্ব পেলেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় ও দীপক বর্মণ। কৃষিতে ভূমিপুত্র দুধকুমার মণ্ডল, স্বাস্থ্যে ডা. শারদ্বত এবং পরিবহণে অর্জুন সিং।
আসলে গত ৪ঠা মে বাংলার মানুষ এক ঐতিহাসিক রায় দিয়েছিলেন। ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৮টি আসন পেয়ে বাংলায় তৈরি হয়েছিল বিজেপির ডবল ইঞ্জিন সরকার। আর সরকার গঠনের পর থেকেই মানুষের মনে প্রশ্ন ছিল, বাংলার খোলনলচে বদলে দিতে কার কাঁধে কোন দায়িত্ব তুলে দিতে চলেছেন নয়া মুখ্যমন্ত্রী? চলতি সপ্তাহের মঙ্গলবার নবান্নের দীর্ঘ বৈঠকের পর সেই জল্পনার অবসান ঘটেছে। যদিও সরকারি ঘোষণা এখনও বাকি। তবে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলার আইন-শৃঙ্খলা এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের রাশ নিজের হাতেই রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর সে কারণেই স্বরাষ্ট্র, আইন, বিদ্যুৎ এবং ভূমি ও ভূমি রাজস্বের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলি নিজের হাতে রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং। যদিও এ বিষয়ে রাজনৈতিক মহলের দাবি, গত কয়েক বছরে বাংলার আইন-শৃঙ্খলার যে অবনতি হয়েছিল, তা শক্ত হাতে দমন করতেই মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত। একই সাথে শিল্পায়নের স্বার্থে বিদ্যুৎ ও ভূমি দপ্তর নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখে দ্রুত উন্নয়নের বার্তা দিয়েছেন তিনি।
তবে, এবারের ক্যাবিনেটে সবচেয়ে বড় চমক অর্থনৈতিক ও শিল্প ক্ষেত্রে। কারণ পরিবর্তনের বাংলায় ভাঙা অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে এবং যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে দলের দুই অভিজ্ঞ ও বিশ্বস্ত মুখের ওপর ভরসা রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে সুপণ্ডিত, বিজেপির পুরনো মুখ স্বপন দাশগুপ্ত পেতে চলেছেন অর্থ দপ্তরের দায়িত্ব। অর্থাৎ, রাজ্যের শূন্য রাজকোষকে আবার ভরিয়ে তুলতে তার অভিজ্ঞতাই বড় হাতিয়ার। অন্যদিকে, বাংলার বন্ধ কারখানা খোলা এবং নতুন বিনিয়োগ টানার গুরুদায়িত্ব যাচ্ছে বর্ষীয়ান বিধায়ক তাপস রায়ের কাঁধে। তার রাজনৈতিক দূরদর্শিতা বাংলার শিল্পে জোয়ার আনবে বলেই বিশ্বাসী নবান্ন।
পাশাপাশি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার হাল ফেরাতে কোনো রাজনীতিক নয়, বরং একজন পেশাদার চিকিৎসককে বেছে নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের মতো অতিগুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব যাচ্ছে ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের হাতে। ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পকে বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়াই হবে তার প্রধান লক্ষ্য। এছাড়া, শুভেন্দু অধিকারীর আমলে শিক্ষা দপ্তরে স্বচ্ছতা ফেরাতে বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দুর্নীতিগ্রস্ত পুরনো শিক্ষা ব্যবস্থাকে ভেঙে আগের মতো একে দু’ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যার একটি ভাগ তথা উচ্চশিক্ষা দপ্তরের দায়িত্বে আসছেন সিউড়ির লড়াকু বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় এবং স্কুলশিক্ষা দপ্তর তথা প্রাথমিক ও স্কুলস্তরের শিক্ষার মানোন্নয়নের দায়িত্ব পাচ্ছেন দীপক বর্মণ। পরিবহণ ও শ্রম দপ্তরের দায়িত্ব বারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ তথা নোয়াপাড়ার বিধায়ক, দাপুটে নেতা অর্জুন সিংকে দেওয়া হচ্ছে। বাংলার অন্নদাতাদের মুখে হাসি ফোটাতে বিজেপির আদি ও নিষ্ঠাবান মুখ দুধকুমার মণ্ডলের হাতে যাচ্ছে কৃষি দপ্তরের দায়িত্ব। উত্তরবঙ্গের পর্যটনকে বিশ্বমঞ্চে নিয়ে যেতে শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ হচ্ছেন পর্যটন মন্ত্রী এবং বনাঞ্চল রক্ষায় বন ও পরিবেশ মন্ত্রী হচ্ছেন মনোজ ওঁরাও।
