দিল্লির বঙ্গভবনে হতে চলা এই বৈঠককে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে বাড়ছে জল্পনা। কারণ, তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদ এনডিএ-র শরিক হিসেবে এখন নতুন রাজনৈতিক অবস্থানে রয়েছেন। সেই সাংসদদের সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে, এই সাক্ষাৎ কি শুধুই সৌজন্য, নাকি এর আড়ালে রয়েছে আরও বড় রাজনৈতিক পরিকল্পনা?
সবচেয়ে বড় বিষয় হল, এই বৈঠক এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন দলত্যাগ বিরোধী আইন নিয়ে এখনও আইনি লড়াই চলছে। সেই কারণে প্রত্যেকটি রাজনৈতিক পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈঠকে কী আলোচনা হয়, তার উপর ভবিষ্যতের রাজনৈতিক কৌশল অনেকটাই নির্ভর করতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এনডিএ-র শরিক হওয়ার পর সংসদ এবং রাজ্যের রাজনীতিতে আরও সমন্বিতভাবে কাজ করার রূপরেখা তৈরি হতে পারে। বিজেপি চাইবে তাদের শরিকদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে, যাতে আগামী দিনে রাজনৈতিক লড়াইয়ে একসঙ্গে এগোনো সহজ হয়।
অন্যদিকে, সরাসরি বিজেপিতে যোগ দেওয়া বা দল একীভূত হওয়ার মতো কোনও সিদ্ধান্ত এখনই নেওয়া সহজ নয়। কারণ, তেমন পদক্ষেপ নিলে দলত্যাগ বিরোধী আইন এবং আদালতে চলা মামলার উপর তার প্রভাব পড়তে পারে। তাই রাজনৈতিকভাবে সুবিধাজনক হলেও আইনি দিকটি মাথায় রেখেই এগোতে হবে।শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতি এই বৈঠককে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির অন্যতম মুখ হিসেবে তিনি আগামী বিধানসভা নির্বাচন, সাংগঠনিক সমন্বয় এবং বিরোধী রাজনীতির কৌশল নিয়ে আলোচনা করতে পারেন বলেই মনে করা হচ্ছে।
এই বৈঠক থেকে যদি কোনও যৌথ কর্মসূচি, সমন্বিত আন্দোলন বা রাজনৈতিক বার্তা বেরিয়ে আসে, তাহলে তা রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিরোধী ভোটকে একজোট করার কৌশলও আলোচনায় থাকতে পারে বলে জল্পনা রয়েছে।তবে এটাও মনে রাখতে হবে, এখনও পর্যন্ত কোথাও ঘোষণা করা হয়নি যে এনসিপিআই বিজেপিতে মিশে যাচ্ছে বা তাদের সাংসদরা বিজেপির সদস্য হচ্ছেন। তাই শুধুমাত্র এই বৈঠকের ভিত্তিতে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। আপাতত এটিকে এনডিএ-র শরিকদের মধ্যে রাজনৈতিক সমন্বয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, মঙ্গলবারের এই বৈঠক শুধু একটি রাজনৈতিক সাক্ষাৎ নয়, বরং আগামী দিনের সমীকরণের ইঙ্গিতও বহন করতে পারে।
