ঝাড়গ্রামে সভা করতে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখান থেকে ফেরার পথে ঝালমুড়ি খান বিক্রমকুমার সাউ নামের এক ব্যক্তির দোকানে। আর তারপরেই ব্যাপক ভাইরাল হয়ে যায় সেই দোকান। অনেক লোকজন এখন বিক্রমের দোকান দেখতে আসছেন এবং তাঁর সঙ্গে ছবি তুলতে আসছেন। যাঁরা সকাল সন্ধে তাঁর দোকানের সামনে আড্ডা মারেন, তাঁরাও ঘুরে ঘুরে দেখছেন। এমনকি এলাকার বিজেপি নেতা কর্মীরাও এখন বিক্রমের দোকানে ভিড় করছেন। এককথায় বলা যায় ঝাড়গ্রামের জনপ্রিয় দোকান হয়ে উঠেছে এটি।
প্রধানমন্ত্রীর ঝালমুড়ি খাওয়া এবং গোটা ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে ঝাড়গ্রামের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করেছেন অভিষেক। তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর প্রধানমন্ত্রী মোদী। কেন এ কথা বলেছেন, সেটাও খোলসা করেছেন তিনি। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের মতে, ঝাড়গ্রামে ২০১১ সালের আগে মানুষ ১০টার পরে বেরোতেন না। সেখানে প্রধানমন্ত্রী ঝালমুড়ি খাচ্ছেন, এটাই মমতা সরকারের উন্নয়ন বলে জানিয়েছেন তিনি।
বিক্রেতা কী বলছেন জানেন? বিক্রম কুমার সাউ বলেছেন, “সে সব আমি কী করে বলব? প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দোকানে আসার মিনিট দশেক আগে কালো পোশাকে বডিগার্ড এর মতো এক জন এসে মুড়ি খেতে চেয়েছিলেন। উনি মুড়ি কিনে যাওয়ার পরে দেখলাম দোকানের সামনের বাঁশের ব্যারিকেড খোলা হয়। আমি তখনও কিছু জানতাম না। আর ওই কালো পোশাক পরা ব্যক্তি আমাকে কিছুই বলেননি। এছাড়াও তাঁর আরও সংযোজন,মোদীজী আমাকে এসে যখন জিজ্ঞাসা করলেন ঝালমুড়ি আছে কি না, আমি যে কী বলব বুঝতে পারছিলাম না। ১০ টাকার মুড়ি কিনলেন তিনি। আমি টাকা নিতে চাইনি।
সাধারণত দেশের প্রধানমন্ত্রীর জীবনযাত্রা অনেকটাই নিরাপত্তা ও প্রোটোকলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, ফলে এমন স্বতঃস্ফূর্ত মুহূর্ত মানুষের কাছে আলাদা গুরুত্ব পায়। রাস্তার ধারের এক দোকানে দাঁড়িয়ে ঝালমুড়ি খাওয়া, আশপাশের মানুষদের সঙ্গে কথা বলা বা শিশুদের সঙ্গে মিশে যাওয়া এসব ছবি মানুষের মনে এক ধরনের কাছের মানুষ হিসেবে তাঁর ভাবমূর্তি তৈরি করে। এতে সাধারণ মানুষের মনে মনে হয়, দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্বও তাঁদের জীবনযাত্রা, খাবার, সংস্কৃতির সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রাখতে চান। তবে এটাও মাথায় রাখা দরকার, রাজনীতিতে এমন মুহূর্ত অনেক সময় জনসংযোগের অংশ হিসেবেও দেখা হয়। তবুও এই ধরনের আচরণ মানুষের সঙ্গে নেতার দূরত্ব কিছুটা কমায় এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বকে আরও মানবিক করে তুলতে সাহায্য করে এটাই এই ঘটনার সবচেয়ে বড় দিক।