নিজের জন্মদিনের শুভলগ্নে বাংলার কোটি কোটি মা-বোনেদের জন্য এক বিরাট উপহার নিয়ে হাজির হলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী! সল্টলেকে আয়োজিত ‘অন্নপূর্ণা দিবস’ উদযাপন ও আর্থিক অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন— পরিবর্তনের বাংলায় নারীদের আর্থিক স্বনির্ভরতা ও মর্যাদাই নতুন সরকারের প্রধান ভিত্তি। আর সেই ঐতিহাসিক প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই উৎসবের মরশুম শুরুর ঠিক মুখে রাজ্যের প্রায় দেড় কোটি মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি পৌঁছে গেল অন্নপূর্ণা যোজনার চতুর্থ কিস্তির টাকা— মাসে ৩ হাজার টাকার সুনিশ্চিত আর্থিক সুরক্ষা!
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সাথে তুলে ধরেন পরিবারের নারীদের আত্মত্যাগের কথা। তিনি বলেন— একটি সংসারের হাল ধরতে আমাদের মা-বোনেদের কাঁধেই থাকে সবচেয়ে গুরুদায়িত্ব। ছোট-বড় নানা সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তাঁরা সংসার আগলে রাখেন। কিন্তু তাঁদের হাতে যখন নিজস্ব জরুরি খরচের সুনির্দিষ্ট সংস্থান থাকে, তখন তাঁদের আত্মবিশ্বাস এক লাফে বহু গুণ বেড়ে যায়। অন্নপূর্ণা যোজনার মূল লক্ষ্যই হলো সেই স্বাবলম্বিতা গড়ে তোলা, যাতে নিজের সন্তানের শিক্ষার খরচ, চিকিৎসার ওষুধ কিংবা ঘরের জরুরি প্রয়োজনে কোনো মা-বোনকে অন্যের কাছে হাত পাততে না হয়।
বিগত সরকারের কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন— অতীতে আয়ুষ্মান ভারত সহ একাধিক জনকল্যাণমূলক কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা থেকে বাংলার সাধারণ মানুষকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত বঞ্চিত করে রাখা হয়েছিল। সেই অন্ধকারের অবসান ঘটিয়ে চলতি বছরের ৪ মে বাংলার মানুষ এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের রায় দিয়েছেন, আর সেই গণজাগরণের অগ্রভাগে ছিলেন এই রাজ্যের মা-বোনেরাই। প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত জোরের সাথে বলেন— “আমাদের নীতি একটাই— কথা কম, কাজ বেশি। সরকার গঠনের অল্প কিছুদিনের মধ্যেই এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। আজ কোনো কাটমানি নেই, কোনো দালালের রাজত্ব নেই। এখন বাংলায় কাটমানি চলে না, সরাসরি উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে সম্মান ও অধিকারের টাকা জমা হয়।”
শুধু অন্নপূর্ণা যোজনাই নয়, মাতৃবন্দনা থেকে শুরু করে ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’, স্কুলে মেয়েদের জন্য শৌচাগার নির্মাণ, সুকন্যা সমৃদ্ধি, উজ্জ্বলা গ্যাসের নিখরচায় সংযোগ এবং মাতৃত্বকালীন ছুটির বিস্তার— নারীর জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে ডাবল ইঞ্জিন সরকারের পাশে থাকার খতিয়ান তুলে ধরেন তিনি।
বক্তব্যের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশে রাজ্যের প্রান্তিক দরিদ্র মানুষদের জন্য এক ঐতিহাসিক পরিসংখ্যান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি জানান— বিগত ১২ বছরে কেন্দ্রের যে সমস্ত আবাসন ও সামাজিক প্রকল্প বাংলায় আটকে রাখা হয়েছিল, নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেই সেগুলি যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চালু করেছে। বিজেপি সরকার আসার পর বাংলায় নতুন করে এমন ৫০ লক্ষেরও বেশি গরিব পরিবারকে স্বচ্ছ সমীক্ষার মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে, যাঁদের ‘প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা’র আওতায় দ্রুত পাকা ছাদ তুলে দেওয়া হবে! এর পাশাপাশি পিএম বিশ্বকর্মা যোজনাও গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করছে। প্রধানমন্ত্রী প্রত্যয়ের সাথে ঘোষণা করেন— বাংলার মা-বোনেদের আশীর্বাদকে পাথেয় করেই ‘বিকশিত বাংলা’ গড়ে উঠবে, যা ২০৪৭ সালের মধ্যে গোটা ভারতকে এক স্বনির্ভর ও শক্তিশালী ‘বিকশিত ভারত’ হিসেবে বিশ্বের দরবারে প্রতিষ্ঠিত করবে।