বিজয়া দশমীর দিন দিল্লির রামলীলা ময়দান থেকে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে দেশবাসীকে একজোট হওয়ার বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দশেরার বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সমাজে বিভাজন তৈরি করা এবং ভারতীয় সংস্কৃতিকে আঘাত করার চেষ্টা চালানো শক্তিগুলির বিরুদ্ধে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
দশেরা শুধু বাঙালির দুর্গাপুজোর শেষ দিন নয়, গোটা দেশেই এই দিনটি অশুভের বিরুদ্ধে শুভ শক্তির জয়ের প্রতীক হিসেবে পালিত হয়। সেই তাৎপর্যকে সামনে রেখেই দেশবাসীকে বিজয়া দশমীর শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। এরপরই তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে দেশের সম্মান, সংস্কৃতি এবং সামাজিক ঐক্যের প্রসঙ্গ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন শক্তিকে চিহ্নিত করতে হবে যারা দেশের সম্মান নষ্ট করে, ভারতীয় সংস্কৃতিকে ঘৃণা করে এবং সমাজের মানুষের মধ্যে বিভাজন তৈরি করতে চায়। তাঁর বক্তব্যে বিজয়া দশমীর দিন নতুন করে সংকল্প নেওয়ার কথাও উঠে আসে। একইসঙ্গে এই ধরনের শক্তির মোকাবিলায় সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রামলীলার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গোটা দেশ এখন উৎসবের আবহে রয়েছে। রামলীলা ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। প্রভু রামের আদর্শ থেকেই আগামী দিনের পথ দেখার কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পায় রামের আদর্শ ও সংকট মোকাবিলার প্রসঙ্গ। তাঁর মতে, শ্রীরাম প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও নিজের আদর্শ থেকে সরে যাননি। নানা সংকটের মুখোমুখি হয়েও তিনি ধর্ম ও ন্যায়ের পথে থেকে লড়াই চালিয়ে গিয়েছিলেন। সেই কারণেই রামের আদর্শ ভারতের মানুষের কাছে এতটা গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
এদিনের বক্তব্যে আত্মনির্ভর ভারতের প্রসঙ্গও সামনে আনেন নরেন্দ্র মোদী। দেশের উন্নতির জন্য নিজেদের সম্পদ ও সামর্থ্যের উপর আরও বেশি নির্ভর করার বার্তা দেন তিনি। দেশের প্রয়োজন মেটাতে দেশীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার করার উপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।
এক্ষেত্রেও রামের আদর্শের উদাহরণ টেনে তিনি বোঝানোর চেষ্টা করেন, নিজেদের হাতে থাকা সম্পদ ও সামর্থ্য কাজে লাগিয়েই কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করা সম্ভব। অর্থাৎ দেশের অগ্রগতির সঙ্গে আত্মনির্ভরতার বিষয়টিকেও একই সূত্রে দেখেছেন তিনি।
তবে বিজয়া দশমীর দিন দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়েও চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ, একই সময়ে রাজধানীতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের বিক্ষোভ চলছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানের কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে বিরোধী দলগুলি। এই কর্মসূচিতে তৃণমূল কংগ্রেস, কংগ্রেস এবং আম আদমি পার্টির মতো দলগুলিও রয়েছে।
একদিকে রাজধানীর রাজনীতিতে নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিরোধীদের আন্দোলন, অন্যদিকে বিজয়া দশমীর মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রীর ঐক্য, সংস্কৃতি ও অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বার্তা—দুই ঘটনাই একই সময়ে রাজনৈতিক মহলের নজর কেড়েছে।
সব মিলিয়ে রামলীলা ময়দানের মঞ্চ থেকে বিজয়া দশমীর আবহে নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্যে উঠে এল দেশ, সংস্কৃতি, সামাজিক ঐক্য এবং আত্মনির্ভরতার একাধিক বার্তা। আর সেই বক্তব্য ঘিরেই এখন শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা।
