বাবার খুনিরা এখনও বাইরে, আগে তাদের শাস্তি চাই, তারপর চাকরি! সরকারি চাকরির ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েও সরব নিহত বিজেপি নেতার ছেলে।

সরকারি চাকরির ঘোষণা পেয়েও বাবার হত্যার বিচারকেই অগ্রাধিকার দিতে চাইছেন নদিয়ার নিহত বিজেপি নেতার ছেলে। রাজনৈতিক হিংসায় নিহতদের পরিবারের সদস্যদের একজনকে সরকারি চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে পরিবার। কিন্তু তাঁদের দাবি, চাকরির পাশাপাশি আট বছর আগের হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার এবং অভিযুক্তদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

ঘটনাটি ২০১৮ সালের ২৪ মে। নদিয়ার হরিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মেলের মাঠ এলাকার বাসিন্দা বিপ্লব শিকদারকে তাঁর বাড়িতে ঢুকে গুলি করে খুন করার অভিযোগ ওঠে। বিপ্লব শিকদার বিজেপির বুথ সভাপতি ছিলেন। পরিবারের দাবি, পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক সংঘর্ষের জেরেই তাঁকে টার্গেট করা হয়েছিল।

পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার রাতে বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন বিপ্লব। রাত দুটো থেকে আড়াইটের মধ্যে তিন-চারজন দুষ্কৃতী বাইকে করে এসে বাড়িতে ঢোকে। এরপর তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বিপ্লবের।

পরিবারের দাবি, পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় তৃণমূলের দুষ্কৃতীদের হামলার প্রতিবাদ করেছিলেন বিপ্লব। সংশ্লিষ্ট বুথে ভোটের ফল প্রকাশের পর বিজেপি জয়ী হওয়ায় তাঁর উপর রাজনৈতিক আক্রোশ আরও বেড়েছিল বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা বিচারাধীন মামলার নিষ্পত্তির পরই স্পষ্ট হবে।

এই ঘটনায় মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। কিন্তু ঘটনার আট বছর পেরিয়ে গেলেও মামলার এখনও বিচার চলছে। পরিবারের দাবি, অভিযুক্তদের কয়েকজন এখনও বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং তাঁরা এখনও তাঁদের প্রাপ্য বিচার পাননি।

এই পরিস্থিতিতেই রাজনৈতিক হিংসায় নিহতদের পরিবারের জন্য সরকারি চাকরির ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে বিপ্লব শিকদারের পরিবার। পরিবারের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির কথা মাথায় রেখে সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা মানবিক। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে পুরনো মামলাগুলির বিচারও দ্রুত শেষ হওয়া প্রয়োজন।

বিপ্লব শিকদারের ছেলে সুফল শিকদারের দাবি, তাঁর বাবাকে যারা বাড়িতে ঢুকে গুলি করে খুন করেছে, তাঁদের প্রত্যেকের সঠিক বিচার হওয়া দরকার। তাঁর বক্তব্য, এখনও অভিযুক্তদের অনেকে বাইরে রয়েছেন। প্রথমে তাঁদের গ্রেপ্তার করে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক, তারপর তাঁর চাকরির বিষয়টি বিবেচনা করা হোক।

সুফলের বক্তব্য অনুযায়ী, সরকারি চাকরির সুযোগ তাঁদের পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও আট বছর ধরে বাবার হত্যার বিচার না পাওয়ার যন্ত্রণা আরও বড়। তাই চাকরির পাশাপাশি তিনি চান মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি এবং দোষীদের শাস্তি।

সরকারের সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হলেও, নদিয়ার এই পরিবারটির কাছে পুরনো বিচারই এখনও সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। তাই সরকারি চাকরির আশ্বাসের পাশাপাশি আট বছর আগের হত্যাকাণ্ডে দ্রুত বিচার এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিই এখন সামনে এনেছে নিহত বিপ্লব শিকদারের পরিবার।

সরকারি চাকরির আশ্বাস মিললেও বিপ্লব শিকদারের পরিবারের কাছে আট বছর আগের হত্যার বিচারই এখনও সবচেয়ে বড় দাবি—এবার সেই অপেক্ষা কবে শেষ হয়, নজর থাকবে সেদিকেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *