কালীপুজো মানেই শক্তির আরাধনা। আর কাঁথির ভবতারিণী মন্দিরের কালীপুজো মানেই অধিকারী পরিবারের বিশেষ উপস্থিতি। দীর্ঘদিন ধরেই এই মন্দিরের পুজোয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা কাঁথির প্রাক্তন সাংসদ শিশির অধিকারী। প্রত্যেক বছর নিয়ম মেনে ব্রত পালন, পুজোয় অংশগ্রহণ এবং সংকল্প গ্রহণ সবেতেই দেখা যেত তাঁকে। কিন্তু এবারের কালীপুজোয় সেই চেনা ছবিতে এসেছে বদল।
এবার আর নিজের হাতে সংকল্প করলেন না শিশির অধিকারী। বরং পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মের হাতে তুলে দিলেন সেই দায়িত্ব। আর সেই দায়িত্ব পালন করলেন তাঁর নাতি দেবদীপ অধিকারী।
কালীপুজোর আগের দিন ভবতারিণী মন্দিরের সামনে দাঁড়িয়েই এই সিদ্ধান্তের কথা জানালেন শিশির অধিকারী। তাঁর কথায়, বহু বছর ধরে তিনি নিজে ব্রতী হিসেবে থেকেছেন এবং সংকল্প করেছেন। কিন্তু এখন আর আগের মতো সেই দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই এবার পরিবারের নতুন প্রজন্মকে সামনে নিয়ে আসতে চান তিনি। দেবদীপের পাশে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও থাকবেন বলে জানিয়েছেন শিশির অধিকারী।
এবারের কালীপুজো অধিকারী পরিবারের কাছেও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, ছেলে শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এটাই প্রথম কালীপুজো। স্বাভাবিকভাবেই ভবতারিণী মন্দিরের পুজো ঘিরে অধিকারী পরিবারের উপস্থিতি এবং ভূমিকা নিয়ে আগ্রহ রয়েছে। তবে শিশির অধিকারীর বক্তব্যে রাজনৈতিক প্রসঙ্গের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে পারিবারিক ঐতিহ্য এবং ধর্মীয় পরম্পরা। এতদিন যে দায়িত্ব তিনি পালন করে এসেছেন, এবার সেই দায়িত্ব সামলাচ্ছে নতুন প্রজন্ম। দেবদীপের সংকল্প গ্রহণের মধ্য দিয়ে যেন সেই ধারাবাহিকতাই বজায় রাখার চেষ্টা করল অধিকারী পরিবার।
তবে শুধু পারিবারিক ঐতিহ্য নয়, কালীপুজোর তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতেও শোনা যায় শিশির অধিকারীকে। শক্তির আরাধনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সমাজের সমস্ত খারাপ এবং অশুভ শক্তির বিনাশের জন্যই দেবী কালীর আরাধনা করা হয়। এদিন নারী নির্যাতনের ঘটনা নিয়েও সরব হন শিশির অধিকারী। রাজ্যে একের পর এক নাবালিকা ও মহিলার উপর অত্যাচারের ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে মেয়েদের নিরাপত্তার প্রশ্ন।
শিশির অধিকারী বলেন, “রাজ্যে বাচ্চা বাচ্চা মেয়েদের তুলে নিয়ে গিয়ে মেরে দিচ্ছে। রাজ্যে এখনও পর্যন্ত তিনটে হয়েছে… আরও শাস্তি হবে। মেয়েদের গায়ে হাত দেওয়া যাবে না কোনওভাবেই।” নারীদের উপর অত্যাচার এবং অপরাধের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থানের বার্তা দেন তিনি।
