আলোর উৎসব দীপাবলিতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একইসঙ্গে দেশের উন্নতি, সমৃদ্ধি এবং শান্তির জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানালেন তিনি। অন্ধকারের বিরুদ্ধে আলোর জয়, অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির জয়—দীপাবলির এই বার্তাকেই সামনে রেখে দেশবাসীর উদ্দেশে বিশেষ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কামনা, প্রতিটি ঘরে সুখ-শান্তি আসুক, মানুষের মধ্যে আরও দৃঢ় হোক সৌভ্রাতৃত্বের বন্ধন।
দীপাবলির আগে একটি ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ঘরে ঘরে প্রদীপ জ্বলে উঠেছে। এই আলো অন্ধকারকে দূরে সরিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রতীক। ভারতও সেই আলোর পথ ধরেই উন্নতি ও সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে চলেছে। তবে সেই লক্ষ্য পূরণ করতে হলে দেশের প্রত্যেক মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। শুধু নিজের উন্নতি নয়, দেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার দায়িত্বও নিতে হবে সকলকে।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, অন্যান্য বছরের মতো এবারও তিনি দেশের সেনা জওয়ানদের সঙ্গে দীপাবলি উদযাপন করবেন। তাঁর কথায়, দেশবাসীর মতো তিনিও অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গে এই উৎসব পালন করবেন। তবে এবার কোন জায়গায় গিয়ে সেনাদের সঙ্গে উৎসবে যোগ দেবেন, তা নির্দিষ্ট করে জানাননি তিনি। উল্লেখ্য, প্রতি বছরই সীমান্তে বা সেনা জওয়ানদের সঙ্গে দীপাবলি পালন করে থাকেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করা সেনাদের পাশে থাকার বার্তাও দেন তিনি।
দীপাবলি উপলক্ষে কেন্দ্রীয় সরকারের জনসংযোগ পোর্টালেও একটি বিশেষ বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেন, দীপাবলি শুধু আলোর উৎসব নয়, ভারতের চিরাচরিত ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে উদযাপন করারও সময়। এই উৎসব মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও মজবুত করে। প্রতিটি পরিবারে সুখ ও শান্তি বাড়ুক, সমাজে সৌভ্রাতৃত্ব এবং মানুষের জীবনে সমৃদ্ধি আসুক—এমনই কামনা করেছেন তিনি।
একইসঙ্গে মানুষের মধ্যে দয়া, সহমর্মিতা এবং ভালোবাসার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়তে হলে সবাইকে মিলেমিশে এগিয়ে আসতে হবে। দেশের উন্নয়নের পথে একে অপরের পাশে দাঁড়ানো এবং সম্মিলিতভাবে কাজ করাই হওয়া উচিত লক্ষ্য।
এদিকে, দীপাবলি উপলক্ষে উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যাতেও আয়োজন করা হয়েছে বর্ণাঢ্য দীপোৎসবের। ভগবান রামের বনবাস শেষে অযোধ্যায় ফিরে আসার স্মৃতিকে কেন্দ্র করে শনিবার সাকেত কলেজ থেকে রামকথা পার্ক পর্যন্ত শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। শোভাযাত্রায় ছিল মোট ২১টি সুসজ্জিত ট্যাবলো। রামচরিতমানসের বিভিন্ন পর্বের পাশাপাশি কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পও তুলে ধরা হয়।
অন্যদিকে, সরযূ নদীর তীরে ৫৬টি ঘাট জুড়ে প্রদীপ প্রজ্বলনের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে পড়ুয়া এবং স্বেচ্ছাসেবকরাও অংশ নেন। আয়োজকদের লক্ষ্য ছিল ৩০ লক্ষ প্রদীপ জ্বালানো। উৎসবকে কেন্দ্র করে অযোধ্যার হোটেলগুলিও সম্পূর্ণ বুক হয়ে যায়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু মানুষ সেখানে পৌঁছন।
সব মিলিয়ে দীপাবলির আলোয় একদিকে যেমন উৎসবের আনন্দে মেতেছে দেশ, তেমনই শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর আহ্বান, একসঙ্গে এগিয়ে গিয়েই গড়ে তুলতে হবে আরও সমৃদ্ধ ভারত।
