রাজ্যে পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশন বা রেশন ব্যবস্থাকে একশো শতাংশ স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত এবং আধুনিক করে তুলতে এবার সবচেয়ে বড় আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ্য সরকার। এতদিন ধরে চলা ভুয়া উপভোক্তা ও অযোগ্য কার্ডধারীদের সম্পূর্ণ ছেঁটে ফেলে, প্রকৃত গরিব ও অভাবী মানুষের অধিকার সুনিশ্চিত করতে শুরু হয়ে গিয়েছে ব্যাপক রেশন কার্ড যাচাইকরণ প্রক্রিয়া। সরকারের স্পষ্ট বার্তা— জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনের মূল উদ্দেশ্য হলো দুস্থদের মুখে অন্ন তুলে দেওয়া। তাই আর্থিক ও সম্পত্তিগত দিক থেকে যাঁরা সচ্ছল, তাঁদের চিহ্নিত করে এই সরকারি তালিকার বাইরে রাখা হবে।
কী কী মানদণ্ডে শহর ও গ্রামে আপনার রেশন কার্ড বাতিল হতে পারে? খাদ্য দফতরের গাইডলাইন অনুযায়ী, শহরাঞ্চলে যাঁদের একাধিক পাকা ঘর, চার চাকার বিলাসবহুল গাড়ি, এসি, কিংবা আয়কর বা প্রফেশনাল ট্যাক্স প্রদান করেন এবং সরকারি চাকরি করেন— তাঁদের বিশেষ কার্ড বাতিল হতে পারে। অন্যদিকে গ্রামীণ এলাকায় যদি পরিবারে ট্র্যাক্টর, নির্দিষ্ট সীমার বেশি কৃষিজমি, ১৫ হাজার টাকার বেশি মাসিক আয়, কিষাণ ক্রেডিট কার্ডের উচ্চ ঋণ কিংবা চার চাকা বা ফিশিং বোট থাকে, তবে তাঁরাও এই তালিকার আওতা থেকে বাদ পড়তে পারেন। বর্তমানে অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনা (AAY), বিশেষ অগ্রাধিকার পরিবার (SPHH), অগ্রাধিকার পরিবার (PHH) এবং RKSY কার্ডের মাধ্যমে বিনামূল্যে চাল, গম ও আটা বিতরণ করা হচ্ছে। খাদ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন— সাধারণ মানুষের প্রাপ্য নিয়ে কোনো প্রকার মধ্যস্বত্বভোগীর দাদাগিরি বা নয়ছয় আর বরদাস্ত করা হবে না।
শুধু ভেরিফিকেশনই নয়, রাজ্যে এবার চালু হতে চলেছে হাইটেক ‘স্মার্ট রেশন ব্যবস্থা’। ডিজিটাল প্রযুক্তির সাহায্যে খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ থেকে বিতরণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ হবে সম্পূর্ণ অনলাইন ও ট্র্যাকযোগ্য। বায়োমেট্রিক পদ্ধতি, যেমন আঙুলের ছাপ কিংবা চোখের মণি বা আইরিস স্ক্যানের মাধ্যমে উপভোক্তার সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করেই হাতে তুলে দেওয়া হবে সরকারি রেশন। তো দালালরাজ ও জালিয়াতদের চিরতরে বিদায় জানিয়ে, আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষের খাদ্য সুরক্ষা সুনিশ্চিত করার এই ডিজিটাল পদক্ষেপ সত্যিই এক স্বচ্ছ, গতিশীল ও সুশাসিত বাংলার নতুন উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।