বাংলার গরিব মানুষের মাথার ওপর ছাদ দেওয়ার প্রকল্পেও কোটি কোটি টাকার মেগা কেলেঙ্কারি! তবে শুভেন্দু অধিকারীর সুশাসনের জমানায় চোরদের আর রক্ষা নেই। এবার ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে হওয়া দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে সরাসরি ময়দানে নামলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল। পঞ্চায়েত এবং গ্রামোন্নয়ন দফতরকে কড়া চিঠি পাঠিয়ে এক নজিরবিহীন নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে—অন্যায়ভাবে যারা এই প্রকল্পের সুবিধা নিয়েছে, সেই সমস্ত অযোগ্য উপভোক্তাদের তালিকা এবার রাতারাতি তৈরি করতে হবে। সরকারি রাজকোষের টাকা লুটে যারা নিজেদের পকেট ভরিয়েছে, তাদের কীভাবে গ্রাসরুট থেকে ক্র্যাকডাউন করছে নতুন সরকার? কিন্তু ঠিক কী ধরণের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি হয়েছে এই ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে?
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিটি দুঃস্থ পরিবারকে পাকা বাড়ি তৈরির জন্য মোট ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়ে থাকে। প্রথমে নিয়ম ছিল—প্রথম কিস্তিতে ৪০ হাজার, দ্বিতীয় কিস্তিতে ৪০ হাজার এবং ঘর তৈরি সম্পন্ন হওয়ার পর শেষ কিস্তিতে ৪০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। এমনকি প্রথম কিস্তির টাকা পাওয়ার ১২ মাসের মধ্যে বাড়ি তৈরি শেষ করার কড়া নিয়মও ছিল। পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত হয় তিনটি নয়, বরং দুই কিস্তিতে দেওয়া হবে এই টাকা। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে এই প্রকল্পের টাকা প্রথমবার দেওয়া শুরু হতেই নজিরবিহীনভাবে থাবা বসায় পূর্বতন জমানার কাটমানি খোরেরা। পাকা বাড়ি থাকা সত্ত্বেও স্রেফ দলীয় আনুগত্য দেখে অযোগ্যদের অ্যাকাউন্টে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় গরিবের টাকা!
লুটের বহর স্রেফ ‘বাংলার বাড়ি’র মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। মুখ্যসচিবের পাঠানো এই অত্যন্ত জরুরি চিঠিতে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, মনরেগা বা ১০০ দিনের কাজ থেকে শুরু করে কেন্দ্রের ‘আয়ুষ্মান ভারত’—প্রতিটি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে কোথায় কোথায় দুর্নীতি লুকিয়ে রয়েছে, তার প্রতিটা ইঞ্চির হিসাব বের করতে হবে। বিশেষ সমীক্ষা বা এসআইআর প্রক্রিয়া থেকে যাদের নাম বাদ গিয়েছিল, অথচ যারা জালিয়াতি করে ভুল উপায়ে সরকারি সুবিধা ভোগ করে চলেছে, তাদের নাম রিপোর্টে আলাদা করে উল্লেখ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকা লুটে যারা রাজকোষের বিপুল ক্ষতি করেছে, তাদের চিহ্নিত করে টাকা আদায় করার পথেই হাঁটছে প্রশাসন।
বিগত ১৫ বছর ধরে বাংলায় যে প্রাতিষ্ঠানিক লুটের সাম্রাজ্য চালানো হয়েছিল, আজ নতুন সরকারের জমানায় তার ওপর নেমে এসেছে আইনি খাঁড়া। কোনো রাজনৈতিক তোষণ নয়, প্রকৃত গরিব মানুষ যাতে তাঁর হকের ঘর পান, তা সুনিশ্চিত করছে মোদী-শুভেন্দুর ডবল ইঞ্জিন সরকার। চোর তাড়াতে এবং বাংলাকে দুর্নীতিমুক্ত করতে নবান্নের এই মেগা একশন সত্যিই প্রশংসনীয়।
‘বাংলার বাড়ি’ আর ১০০ দিনের কাজের টাকা যারা চুরি করেছে, তাদের চিহ্নিত করে কড়া শাস্তি দেওয়ার এই সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে আপনার কী মতামত? কমেন্ট বক্সে জানান আপনার মতামত ।
