আন্তর্জাতিক কূটনীতির মঞ্চে আবারও ভারতের জয়জয়কার! মধ্য এশিয়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দেশ উজবেকিস্তান সফরে গিয়ে এক নতুন ইতিহাস রচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাশখন্দে উজবেক প্রেসিডেন্ট শভকত মির্জিওয়েভের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক এক অভূতপূর্ব ও শক্তিশালী উচ্চতায় পৌঁছে গেল।
এই ঐতিহাসিক বৈঠকের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি— ভারত ও উজবেকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে এখন থেকে ‘কম্প্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’ বা সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারিত্বের পর্যায়ে উন্নীত করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এখানেই শেষ নয়; ভারতের ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের চাহিদা মেটাতে এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে নিচ্ছিদ্র করতে উজবেকিস্তানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত হলো দীর্ঘমেয়াদি ইউরেনিয়াম সরবরাহের এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মেগা চুক্তি। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে নিজস্ব শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং বিকল্প উৎস থেকে পারমাণবিক জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন জোগান সুনিশ্চিত করতে ভারতের জন্য এটি এক মাস্টারস্ট্রোক বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে এই সফরের আবেগঘন ও গৌরবময় মুহূর্তটি তৈরি হয় যখন উজবেকিস্তানের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘ওলি দারাজালি দোস্তলিক’ বা দ্য অর্ডার অব ফ্রেন্ডশিপ-এ সম্মানিত করা হয় ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে। স্বয়ং প্রেসিডেন্ট মির্জিওয়েভ মোদীর হাতে এই সম্মান তুলে দেন। বিরল এই সম্মাননা গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত বিনম্র সুরে জানান— এই পুরষ্কার শুধু তাঁর ব্যক্তিগত কোনো অর্জন নয়, বরং এটি ১৪০ কোটি দেশবাসীর সম্মান। ‘দোস্তলিক’ শব্দের অর্থ যে গভীর ও অকৃত্রিম বন্ধুত্ব, দুই দেশের শতাব্দীপ্রাচীন সম্পর্ক ও ঐতিহাসিক আস্থাকে স্মরণ করে তিনি এই পুরস্কার সমস্ত ভারতবাসীকে উৎসর্গ করেন।
জ্বালানি নিরাপত্তার পাশাপাশি দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, ডিজিটাল যোগাযোগ এবং শিক্ষার বিকাশ ঘটাতে ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’ ও ‘উজবেকিস্তান-২০৩০’ পরিকল্পনা দুটিকে একসাথে বেঁধে কাজ করার রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। মোদীর এই সফল তাশখন্দ সফর প্রমাণ করে দিল যে— বর্তমান ভারতে মধ্য এশিয়া নীতি এখন কতটা সুদূরপ্রসারী ও শক্তিশালী ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে।
