No liquor shops near schools or temples—the Chief Minister issues a strict directive.

স্কুল-মন্দিরের কাছে কোনও ম*দের দোকান নয় একেবারে কড়া নিদান দিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

রাজ্যে মদের দোকানের লাইসেন্স নীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চর্চার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে স্কুল, কলেজ, মন্দির কিংবা জনবহুল সামাজিক প্রতিষ্ঠানের আশেপাশে নতুন করে কোনও মদের দোকানের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্তকে অনেকেই বড় সামাজিক বার্তা হিসেবে দেখছেন। সরকারের দাবি, তরুণ প্রজন্মকে নেশার প্রভাব থেকে দূরে রাখতেই এই কড়া অবস্থান নেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা ধর্মীয় স্থানের খুব কাছেই অনেক ম*দের দোকান গড়ে উঠেছে। ফলে ছাত্রছাত্রীদের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছিলেন অভিভাবকরা। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, অল্প বয়সে নেশার সঙ্গে পরিচয় সমাজের ভবিষ্যতের জন্য বড় বিপদ তৈরি করতে পারে। তাই এই সিদ্ধান্তকে সামাজিক সুরক্ষার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের পিছনে শুধুমাত্র প্রশাসনিক কারণ নয়, একটি বড় রাজনৈতিক বার্তাও রয়েছে। সরকার বোঝাতে চাইছে যে আইনশৃঙ্খলা এবং সামাজিক পরিবেশ নিয়ে তারা আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের ভোটার ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর কাছে ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তুলতেই এই ধরনের সিদ্ধান্তকে সামনে আনা হচ্ছে বলে মত অনেকের।

রাজ্যের বিপুল রাজস্ব আসে আবগারি শুল্ক ও ম*দের ব্যবসা থেকে। ফলে একদিকে সামাজিক নিয়ন্ত্রণ, অন্যদিকে রাজস্ব আদায় এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে। তাই বাস্তবে কতটা কঠোরভাবে এই নীতি কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল লাইসেন্স প্রদান নীতির বদল। সূত্রের খবর, নতুন করে লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে দূরত্ব, জনঘনত্ব, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থানের অবস্থান সবকিছু খতিয়ে দেখা হতে পারে। অর্থাৎ শুধুমাত্র ব্যবসায়িক দিক নয়, সামাজিক প্রভাবও এবার বড় ফ্যাক্টর হতে চলেছে। এর ফলে ভবিষ্যতে অনেক আবেদনই বাতিল হতে পারে বলে অনুমান।

এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও দেখা যাচ্ছে। সমাজের একাংশ সরকারকে সাধুবাদ জানালেও, ব্যবসায়ী মহলের একাংশ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। তাঁদের বক্তব্য, অতিরিক্ত কড়াকড়ি করলে বৈধ ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং বেআইনি ম*দের কারবার বাড়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। ফলে প্রশাসনকে নজরদারি আরও বাড়াতে হবে বলেই মত তাঁদের।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র দোকানের সংখ্যা কমালেই সমস্যার সমাধান হবে না। নেশা বিরোধী সচেতনতা, পরিবারে নজরদারি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাউন্সেলিং এবং কড়া আইন প্রয়োগ সবকিছুকে একসঙ্গে চালাতে হবে। না হলে শুধু লাইসেন্স নীতির পরিবর্তনে দীর্ঘমেয়াদে খুব বড় প্রভাব নাও পড়তে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *