No more foot-dragging on accepting complaints! 'Zero-tolerance' policy adopted for incidents of violence against women Stern message from the state government

অভিযোগ নিতে আর গড়িমসি নয়! নারী নির্যাতনের ঘটনায় এবার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কড়া বার্তা রাজ্য সরকারের

রাজ্যে নারী সুরক্ষাকে আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করে রাজ্যের সমস্ত থানার জন্য নতুন গাইডলাইন জারি করেছে নবান্ন। নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, মহিলা নির্যাতন সংক্রান্ত কোনও অভিযোগ গ্রহণ করতে আর কোনও ধরনের টালবাহানা বা অযথা দেরি করা যাবে না। অভিযোগ থানায় পৌঁছানো মাত্রই দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু ধর্ষণ বা শারীরিক নির্যাতন নয়, মহিলাদের বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসা, মানসিক নির্যাতন কিংবা মহিলা সংক্রান্ত যে কোনও অভিযোগকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নবান্নের নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত এফআইআর দায়ের করতে হবে। যদি কোনও থানায় এফআইআর নিতে অযথা দেরি করা হয় বা অভিযোগ নিতে গাফিলতি দেখা যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট থানা কিংবা দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই নতুন গাইডলাইন ইতিমধ্যেই রাজ্যের সমস্ত জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ সুপারদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। যাতে রাজ্যের প্রতিটি থানায় একই নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করা যায়।

এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। বারুইপুরে এক নাবালিকার খুন ও গণধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে রাজ্যজুড়ে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, নাবালিকা নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা থানায় অভিযোগ জানাতে গেলেও প্রথমে তা গ্রহণ করা হয়নি। পরে একটি পুকুর থেকে উদ্ধার হয় নাবালিকার অর্ধনগ্ন দেহ। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং রাজ্যজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এই আবহেই নারী সুরক্ষার ক্ষেত্রে কোনওরকম শিথিলতা বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিল রাজ্য সরকার। প্রশাসনের দাবি, নারী সংক্রান্ত প্রতিটি অভিযোগকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে এবং দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই এই নতুন নীতির মূল লক্ষ্য।

এখন দেখার বিষয়, নতুন এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবে কতটা কার্যকর হয় এবং অভিযোগ জানাতে আসা মহিলারা কত দ্রুত ন্যায়বিচার পান। নারী সুরক্ষায় প্রশাসনের এই কড়া বার্তা কতটা বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। তবে অভিযোগ গ্রহণ থেকে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ সব ক্ষেত্রেই আর কোনও গাফিলতি নয়, এমনই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে নবান্ন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *