No more prayers on the streets.

রাস্তার উপর আর নামাজ নয়! মসজিদেই যেতে হবে মুসলিমদের….. এমনই কড়া বার্তা দিলেন বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিং

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই প্রশাসনিক স্তরে একের পর এক কড়া বার্তার ইঙ্গিত মিলছিল। দুর্নীতি দমন, সরকারি কাজে স্বচ্ছতা, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা সব ক্ষেত্রেই নতুন সরকারের অবস্থান যে আগের থেকে অনেক বেশি কঠোর হতে চলেছে, তা নিয়ে আলোচনা চলছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। আর এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল আরও এক স্পর্শকাতর বিষয়, রাস্তায় নামাজ পড়া। সোমবার এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিং স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, রাস্তায় নামাজ পড়া আর বরদাস্ত করা হবে না। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী নিজে এই বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন এবং প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

অর্জুন সিং বলেন, সাধারণ মানুষের চলাচলের স্বার্থে এবং আদালতের নির্দেশ মেনেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাস্তা কোনোভাবেই ধর্মীয় জমায়েতের জায়গা হতে পারে না। রাস্তা সাধারণ মানুষের জন্য, যান চলাচলের জন্য। তাই নামাজ পড়তে হলে মসজিদেই যেতে হবে। এই মন্তব্য সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। কারণ, দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন জায়গায় রাস্তার উপর নামাজ পড়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কখনও যানজট, কখনও সাধারণ মানুষের অসুবিধা— এই অভিযোগ বহুবার উঠেছে। অন্যদিকে সংখ্যালঘু সংগঠনগুলির দাবি ছিল, পর্যাপ্ত জায়গার অভাবেই অনেক সময় খোলা জায়গা বা রাস্তার একাংশ ব্যবহার করতে হয়।

তবে এবার প্রশাসনের বার্তা স্পষ্ট বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। নতুন সরকার আইনের প্রয়োগে আরও কড়া হতে চাইছে। আর সেই কারণেই আদালতের নির্দেশকে সামনে রেখে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি শাসক শিবিরের। অর্জুন সিং এদিন আরও বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধেও সরকার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তাঁর কথায়, “কোনো ধরনের দুর্নীতি সহ্য করা হবে না।” প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে বলেও তিনি জানান। অর্থাৎ শুধু ধর্মীয় জমায়েত নয়, সামগ্রিক প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণেই এবার শৃঙ্খলার বার্তা দিতে চাইছে সরকার।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই মন্তব্যের মধ্যে দিয়ে সরকার মূলত দুইটি বার্তা দিতে চাইছে। প্রথমত, আইন-শৃঙ্খলার প্রশ্নে তারা আপসহীন। দ্বিতীয়ত, জনজীবনে যাতে কোনোভাবেই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেটাই প্রশাসনের অগ্রাধিকার। তবে বিরোধীদের একাংশ ইতিমধ্যেই এই মন্তব্যের সমালোচনা শুরু করেছে। তাদের দাবি, ধর্মীয় বিষয়কে সামনে এনে বিভাজনের রাজনীতি করা হচ্ছে। যদিও বিজেপির পাল্টা বক্তব্য, এখানে কোনো ধর্মীয় আক্রমণের প্রশ্নই নেই। আদালতের নির্দেশ মেনেই প্রশাসন ব্যবস্থা নিতে চলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে আগেও রাস্তায় ধর্মীয় জমায়েত নিয়ে আদালত পর্যবেক্ষণ করেছে। জনস্বার্থ, নিরাপত্তা এবং যান চলাচলের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েই একাধিক ক্ষেত্রে প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সেই আইনি অবস্থানকেই এবার সামনে আনছে নতুন সরকার।

এদিকে সাধারণ মানুষের একাংশও বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দিচ্ছেন। কেউ বলছেন, রাস্তা অবরোধ করে কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠানই হওয়া উচিত নয়। আবার কেউ মনে করছেন, সংবেদনশীল বিষয় হওয়ায় প্রশাসনের আরও সতর্কভাবে এগোনো উচিত। সব মিলিয়ে অর্জুন সিংয়ের এই মন্তব্য ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ যে বেশ খানিকটা চড়েছে, তা বলাই যায়। আগামী দিনে প্রশাসন বাস্তবে কতটা কড়াকড়ি করে, আর এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর কোন দিকে গড়ায়, এখন সেদিকেই নজর রাজ্যবাসীর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *