ঘূর্ণিঝড় বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে আর ভিনরাজ্যের ওপর নির্ভরতা নয়! এবার বাংলায় তৈরি হচ্ছে বাংলার নিজস্ব ‘অর্জুন বাহিনী’ !

ঝড়, বন্যা কিংবা কোনো বড় ধরনের আকস্মিক নগর দুর্ঘটনা— দুর্যোগ মুহূর্তে উদ্ধারকাজ চালাতে গিয়ে আর কোনোভাবেই বাইরের কোনো রাজ্য বা এজেন্সির মুখাপেক্ষী হয়ে বসে থাকতে রাজি নয় পশ্চিমবঙ্গ। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে একেবারে চোখের পলকে উদ্ধারকার্যে ঝাঁপিয়ে পড়তে রাজ্য প্রশাসন এবার জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী অর্থাৎ এনডিআরএফ-এর আদলে গড়ে তুলতে চলেছে এক অত্যন্ত সুসংগঠিত ও আধুনিক প্রশিক্ষিত দল, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘অর্জুন বাহিনী’।

হঠাৎ কেন এই নতুন বিশেষায়িত বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত? সূত্রের খবর, আমফানের মতো বিধ্বংসী প্রলয়ের পর তিলোত্তমা কলকাতার রাজপথ থেকে বিশাল বিশাল উপড়ে পড়া গাছ দ্রুত সরিয়ে স্বাভাবিক অবস্থা ফেরাতে যেখানে চরম কালঘাম ছুটছিল, এমনকি পরিস্থিতি সামলাতে প্রতিবেশী ওড়িশার টিমের সাহায্য নিতে হয়েছিল— সেই পুরনো ও তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকেই শিক্ষা নিয়েছে নতুন রাজ্য সরকার। তার ওপর সম্প্রতি তারাতলায় ঘটে যাওয়া মারাত্মক বহুতল দুর্ঘটনা এবং সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি উদ্ধার ব্যবস্থার পরিকাঠামোগত ফাঁকফোকরগুলোকে স্পষ্ট করে দিয়েছে। আর ঠিক এই কারণেই আপদকালীন দুর্যোগ রুখতে সম্পূর্ণ স্বাবলম্বী ও আত্মনির্ভর এক কাঠামো তৈরির মূল ছক সাজানো হয়েছে।

আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই আত্মপ্রকাশ করতে চলা এই ‘অর্জুন বাহিনী’ তৈরি করা হচ্ছে সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্বকে কাজে লাগিয়ে। প্রাথমিক পর্যায়ে ‘সৈনিক বোর্ড’-এর অভিজ্ঞ প্রাক্তন সেনাকর্মীদের এই বিশেষ টিমে যুক্ত করার চিন্তাভাবনা করা হয়েছে, যাঁদের কাছে থাকবে কাটিং-এজ হাই-টেক প্রযুক্তি এবং আধুনিক উদ্ধারকারী সরঞ্জাম। আর সবচেয়ে বড় চমক? এই বিশেষ স্পেশাল স্কোয়াডে সরাসরি অগ্রাধিকার পেতে চলেছেন দেশের তরুণ ‘অгниবীর’রা! সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, অর্জুন বাহিনীতে নিয়োগের সময় প্রায় ২০ শতাংশ পদ সংরক্ষিত রাখা হবে প্রাক্তন অগ্নিবীরদের জন্য।

একদিকে রাজ্য ডিফেন্স ও ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্পক্ষেত্রে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হওয়া, অন্যদিকে কাটমানি ও তোলাবাজিহীন দক্ষ পুলিশি পরিকাঠামো গড়ে তোলা— এই জোড়া লক্ষ্যেই এগোচ্ছে প্রশাসন। সেনাকর্মীদের অভিজ্ঞতা ও অগ্নিবীরদের উদ্যমকে কাজে লাগিয়ে গঠিত এই ‘অর্জুন বাহিনী’ সত্যি প্রাকৃতিক কিংবা রাজনৈতিক কোনো দুর্যোগের সামনে রাজ্যের রক্ষাকবচ হতে পারে কিনা— এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে পুরো বাংলা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *