Performing the Peacock Pose (Mayurasana) with ease even at the age of 100.

১০০ বছর বয়সেও ময়ূরাসন করছেন অনায়াসে ! পুরুলিয়ার এই ‘দাদু’র কায়দা দেখে থমকে গেল গোটা বাংলা !

২০২৬ সালের বিশ্ব যোগা দিবসে এক অবিশ্বাস্য ও তাক লাগানো দৃশ্যের সাক্ষী থাকল গোটা পশ্চিমবঙ্গ! একদিকে যখন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্বয়ং কলকাতায় উপস্থিত থেকে রেড রোডে মহাসাড়ম্বরে যোগা দিবসের সূচনা করলেন, ঠিক তখনই কলকাতার লাইমলাইট কেড়ে নিলেন পুরুলিয়ার এক চিরতরুণ বৃদ্ধ। বয়স একশো পার, চুলে পাক ধরেছে, চামড়াতেও পড়েছে বার্ধক্যের ছাপ—অথচ শরীর যেন ঠিক ২০ বছরের কোনো টগবগে যুবকের মতো! মেদিনীপুর-পুরুলিয়ার রুক্ষ মাটিতে দাঁড়িয়ে তিনি যখন অনায়াসে কখনও সর্বাঙ্গাসন তো কখনও কঠিন ময়ূরাসন করে দেখালেন, তখন উপস্থিত জেলা প্রশাসনের তাবড় তাবড় কর্তাদের মুখ হাঁ হয়ে গেল! কে এই শতায়ু ‘যুবক’? কী তাঁর এই অবিশ্বাস্য ফিটনেসের আসল রহস্য?

আশ্চর্য করে দেওয়া এই ঘটনাটি ঘটেছে পুরুলিয়ার জয়পুর ব্লকের শিরামপুর গ্রামে। এই চিরসবুজ মানুষটির নাম বলরাম প্রামাণিক। পরিবারের দাবি, তাঁর বয়স ইতিমধ্যেই একশো বছরের গণ্ডি পার করে গেছে। আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে প্রশাসনের বিশেষ অনুষ্ঠানে নিজের নাতির হাত ধরে অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণে হাজির হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু মাঠে নামতেই দাদু যা ভেলকি দেখালেন, তাতে উপস্থিত সবাই আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়াতে বাধ্য হলেন। আট থেকে আশি—সবাই যখন সাধারণ প্রাণায়াম করতে ব্যস্ত, বলরামবাবু তখন একের পর এক কঠিন ও জটিল যোগাসন অনায়াসে করে তাক লাগিয়ে দিলেন।

আজকের জিম কালচার আর সাপ্লিমেন্টের যুগে বলরাম প্রামাণিকের এই ফিটনেস কোনো রূপকথার চেয়ে কম নয়। যখন ওনাকে ওঁর এই দীর্ঘায়ু এবং সুস্বাস্থ্যের রহস্য জিজ্ঞেস করা হলো, তখন তিনি যা জানালেন তা শুনলে আপনিও চমকে যাবেন ।

এই ১০০ বছর বয়সেও তিনি প্রতিদিন নিয়ম করে প্রায় ২০ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে অনায়াসে ঘুরে বেড়ান। প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে নিজের নিয়ম মেনে নিষ্ঠার সাথে বাড়িতে যোগাসন অভ্যাস করেন। ওঁর নাতি গর্বের সাথে জানান, দাদুর এই ইস্পাত-কঠিন শরীর আর এনার্জি নিয়ে গোটা এলাকার মানুষের কৌতুহলের শেষ নেই।

বলরাম বাবুর এই অবাস্তব শারীরিক ক্ষমতা দেখে মুগ্ধ হয়ে বিজেপি নেতা জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো ওনাকে কুর্নিশ জানিয়ে এক ঐতিহাসিক মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “উনি আসলে ১০০ বছরের এক তরতাজা যুবক! যত রকমের কঠিন যোগাসন আছে, সব ওঁর নখদর্পণে। পুরুলিয়ার মাটিতে এমন একজন মানুষ আছেন ভেবে সত্যিই গর্ব অনুভব হচ্ছে।”

আজকের অলস জীবনযাত্রা আর গ্যাজেটের দুনিয়ায় মজে থাকা তরুণ প্রজন্মের কাছে বলরাম প্রামাণিক এক জীবন্ত অনুপ্রেরণা। তিনি প্রমাণ করে দিলেন, বয়স কেবলই একটা সংখ্যা মাত্র, যদি খাঁটি দেশি লাইফস্টাইল আর যোগব্যায়ামকে জীবনের অঙ্গ বানিয়ে নেওয়া যায়।

১০০ বছর বয়সেও বলরাম প্রামাণিকের এই অনায়াসে ময়ূরাসন করা এবং ২০ কিমি সাইকেল চালানোর এই অদম্য জেদকে আপনি কীভাবে দেখছেন? কমেন্ট বক্সে জানান আপনার মতামত !

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *