মা তারার দর্শনে যাবেন? তাহলে সাবধান!হাফপ্যান্ট, বারমুডা পরে ঢোকা নিষেধ সেবায়েতদের জন্যও নয়া নিয়ম

মা তারার দর্শনে তারাপীঠ যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন? তাহলে এবার কিন্তু মন্দিরে যাওয়ার আগে পোশাক নির্বাচনে বিশেষ সতর্ক হতে হবে। কারণ, মায়ের দর্শন পেতে শুধু ভক্তি আর বিশ্বাস নিয়েই পৌঁছলে হবে না, মানতে হবে মন্দিরের নির্দিষ্ট পোশাকবিধিও। হাফপ্যান্ট, বারমুডা, লুঙ্গি কিংবা গামছা পরে আর প্রবেশ করা যাবে না তারাপীঠ মন্দিরে। মন্দিরের পবিত্রতা, মর্যাদা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবার আরও কঠোর হচ্ছে কর্তৃপক্ষ। কালীপুজোর পর থেকেই কার্যকর হতে পারে এই নতুন নিয়ম।

 

তারাপীঠ! শুধু একটি মন্দির নয়, লক্ষ লক্ষ মানুষের বিশ্বাস আর আবেগের ঠিকানা। বীরভূমের এই পুণ্যভূমিতে প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন অসংখ্য ভক্ত। কারও মনে থাকে মনস্কামনা পূরণের আশা, কেউ আসেন জীবনের কঠিন সময়ে মায়ের কাছে একটু আশ্রয় চাইতে। কেউ আবার বছরের পর বছর ধরে নিয়ম করে মায়ের দর্শনে আসেন। সেই তারাপীঠেই এবার মন্দিরের পরিবেশ ও শালীনতা বজায় রাখতে পোশাকবিধি কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আসলে তারাপীঠ মন্দিরে পোশাক নিয়ে বিধিনিষেধ আগে থেকেই ছিল। কিন্তু অভিযোগ, সেই নিয়ম অনেক ক্ষেত্রেই মানা হচ্ছিল না। ফলে এবার আর শুধু মুখের কথায় নিয়ম সীমাবদ্ধ রাখতে চাইছে না মন্দির কমিটি। স্পষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে, কোন পোশাকে মন্দিরে প্রবেশ করা যাবে আর কোন পোশাকে নয়। হাফপ্যান্ট, বারমুডা, লুঙ্গি ও গামছা পরে মন্দিরে ঢোকা যাবে না। দর্শনার্থীদের আগে থেকেই সতর্ক করতে মন্দির চত্বরের বিভিন্ন জায়গায় লাগানো হবে সচেতনতামূলক বোর্ড।

 

দেশের নানা প্রান্ত থেকে তারাপীঠে আসেন পুণ্যার্থীরা। অনেকেই প্রথমবার মায়ের দর্শনে আসেন। তাঁদের কাছে মন্দিরের নিয়মকানুন সম্পর্কে আগাম ধারণা নাও থাকতে পারে। তাই মন্দিরে পৌঁছনোর পর যাতে কাউকে অস্বস্তিতে পড়তে না হয়, সেই কারণেই প্রবেশপথ ও মন্দির চত্বরে নিয়ম সংক্রান্ত বোর্ড লাগানোর পরিকল্পনা। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, তারাপীঠ কোনও সাধারণ পর্যটনকেন্দ্র নয়। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় তীর্থক্ষেত্র। তাই এই পবিত্র স্থানের মর্যাদা রক্ষায় প্রত্যেক দর্শনার্থীরই দায়িত্ব রয়েছে।

তবে শুধু ভক্তদের পোশাকবিধিতেই থেমে থাকছে না পরিবর্তন। এবার মন্দিরের সহযোগী সেবায়েতদের জন্যও নির্দিষ্ট পোশাক চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। কালীপুজোর পর থেকেই এই নিয়ম কার্যকর করার ভাবনা রয়েছে মন্দির কমিটির। এতদিন মূল পুরোহিতদের লাল পোশাক দেখেই সহজে তাঁদের চেনা যেত। কিন্তু সহযোগী সেবায়েতদের ক্ষেত্রে সেই পরিচয় সবসময় স্পষ্ট ছিল না। এবার তাঁদের জন্যও নির্দিষ্ট রঙের পোশাক চালু করা হবে।

এর ফলে মন্দিরের ভিতরে কে মূল পুরোহিত, আর কে সহযোগী সেবায়েত, তা সহজেই বুঝতে পারবেন দর্শনার্থীরা। মায়ের দর্শনে এসে কোনও প্রয়োজনে সাহায্য চাইতে হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকেও সহজে খুঁজে পাওয়া যাবে। মন্দিরের দৈনন্দিন কাজকর্মে শৃঙ্খলা আনতেও এই উদ্যোগ কার্যকর হবে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ। অর্থাৎ, শুধু পোশাকের পরিবর্তন নয়, মন্দিরের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনাকেও আরও সুসংগঠিত করার চেষ্টা চলছে।

মায়ের কাছে ভক্তির কোনও পোশাক নেই, মায়ের কাছে সবচেয়ে বড় পরিচয় ভক্তের বিশ্বাস। তবুও প্রতিটি ধর্মীয় স্থানের নিজস্ব কিছু নিয়ম ও ঐতিহ্য থাকে। সেই নিয়ম মেনেই পবিত্র স্থানটির মর্যাদা রক্ষা করতে চান কর্তৃপক্ষ। তাই তারাপীঠ যাওয়ার আগে এবার থেকে পোশাকের দিকেও নজর রাখুন। দূরদূরান্ত থেকে মায়ের টানে ছুটে গিয়ে যেন নিয়ম না জানার কারণে দর্শন করতে কোনও সমস্যায় পড়তে না হয়। কারণ, মায়ের দর্শনে যাওয়ার আনন্দটাই তো আলাদা!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *