পর্দায় তাঁর কণ্ঠস্বরেই তৈরি হত আলাদা এক অভিঘাত। চোখের চাহনি, সংলাপ বলার ভঙ্গি আর তীব্র অভিনয়ে পাঁচ দশক ধরে দর্শকের মনে রাজত্ব করেছেন তিনি। সেই বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকর আর নেই। বৃহস্পতিবার ভোরে গোয়ার ডোনা পাওলায় নিজের বাড়িতে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন জাতীয় পুরস্কারজয়ী এই অভিনেতা। বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। ভোর ৫টা ২০ মিনিটে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকরের প্রয়াণে গভীর শোকপ্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। অভিনেতার অভিনয়ের দক্ষতা, নিজস্বতা এবং পর্দায় তাঁর অনন্য উপস্থিতির প্রশংসা করে মোদী জানান, নানা পাটেকরের অভিনীত চরিত্রগুলি প্রজন্মের পর প্রজন্ম মনে রাখবে। তাঁর প্রয়াণে হিন্দি ও মারাঠি চলচ্চিত্র জগতে গভীর শূন্যতা তৈরি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।এক্স হ্যান্ডেল অর্থাৎ যা আগে টুইটার নামে পরিচিত ছিল সেখানে নরেন্দ্র মোদি নানা পাটেকরের প্রয়াণে শোকজ্ঞাপন করে লেখেন, ‘খুব কম সংখ্যক অভিনেতাদের মধ্যেই দৃঢ়তা, গভীরতা ব্যক্তিত্ব থাকে। তাঁদের উপস্থিতি উপেক্ষা করা যায় না। আর তেমনই একজন ব্যক্তি ছিলেন শ্রী নানা পাটেকরজি। তিনি বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এমন এমন চরিত্র আমাদের উপহার দিয়েছেন যেগুলো আগামী বহু প্রজন্ম মনে রাখবে।’
প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান, ‘উনি ওঁর স্পষ্ট বক্তব্য, চিন্তার জন্যও মনে থেকে যাবেন। যা ভাবতেন, বিশ্বাস করতেন সেটা স্পষ্ট করা বলা থেকে কখনও পিছপা হতেন না। হিন্দি এবং মারাঠি ছবিতে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। ওঁর চলে যাওয়া এক অপার শূন্যতা তৈরি করল। ওঁর পরিবার, বন্ধু এবং অসংখ্য অনুরাগীদের প্রতি সমবেদনা জানাই। ওম শান্তি।
মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশও নানা পাটেকরের প্রয়াণে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন। তাঁর কথায়, পর্দায় নানা যেমন অসাধারণ ছিলেন, তেমনই বাস্তব জীবনেও ছিলেন অত্যন্ত বড় মনের মানুষ। ‘ক্রান্তিবীর’ থেকে ‘নটসম্রাট’ মারাঠি এবং হিন্দি সিনেমাকে তিনি যেন একটি গোটা যুগ উপহার দিয়েছেন।শুধু অভিনয় নয়, সমাজসেবাতেও নানা পাটেকরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা স্মরণ করেন ফড়নবিশ। ‘নাম ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে কৃষক এবং খরায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্যও অভিনেতাকে শ্রদ্ধা জানান তিনি।