শারদোৎসবের দিনগুলিতে নতুন জামা-কাপড়ের গন্ধ বাঙালি জীবনের চিরন্তন এক আনন্দ। কিন্তু দ্রব্যমূল্য আর টানাটানির সংসারে সমাজের প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া বহু পরিবারের কাছে সেই আনন্দ আজও এক বুকচাপা দীর্ঘশ্বাস। সেই দীর্ঘশ্বাস মুছে ফেলে উৎসবের আলো প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিতে এবার উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতে নেওয়া হলো এক অবিশ্বাস্য ও মানবিক উদ্যোগ! কোনো ভিক্ষা বা কৃপার দান নয়, সম্পূর্ণ আত্মমর্যাদার সাথে মাত্র ১০ টাকার বিনিময়ে পছন্দমতো নতুন পোশাক কেনার সুযোগ করে দিতে গড়ে তোলা হলো এক অভিনব অস্থায়ী শপিং মল— যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘নমো শপিং মল’!
‘এবার পুজো, সবার পুজো’— এই মানবিক দর্শনকে সামনে রেখে সোদপুরের এইচবি টাউনশিপের একটি ভবনে পানিহাটির বিজেপি কর্মী ও স্থানীয় যুব সমাজের উদ্যোগে গড়ে উঠেছে এই বিশেষ মল। গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মলগ্নে এই সেবামূলক ভাবনার সূচনা হয়েছিল। গত সাত দিন ধরে এলাকার আর্থিক সংগতিহীন পরিবারের মাঝে বিলি করা হয় মাত্র দশ টাকার কুপন। আর সেই কুপন হাতে নিয়েই ৮ ও ৯ অক্টোবর— এই দু’দিন সাধারণ মানুষ সেখানে প্রবেশ করছেন মাথা উঁচু করে, একজন পূর্ণাঙ্গ ক্রেতার মর্যাদায়!
এখানে কোনো পুরনো কাপড়ের স্তূপ নেই; উদ্যোক্তা এবং সমাজের সচেতন মানুষদের যৌথ উদ্যোগে সংগৃহীত হয়েছে একেবারে নতুন ব্র্যান্ডেড পোশাক। শিশুদের রঙিন জামা, যুবকদের আধুনিক টি-শার্ট, মায়েদের শাড়ি থেকে শুরু করে বয়স্ক ঠাকুমা-দিদিমাদের জন্য আরামদায়ক পরিধেয়— সব বয়সের মানুষের জন্য পছন্দের সম্ভার সাজিয়ে রাখা হয়েছে কাউন্টারে। মানুষ আসছেন, ট্রায়াল দিচ্ছেন এবং মাত্র ১০ টাকার কুপন জমা দিয়ে নিজের পছন্দের নতুন পোশাকটি হাসিমুখে ব্যাগে ভরে বাড়ি ফিরছেন।
বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই ‘নমো শপিং মল’-এর শুভ উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতা সুকান্ত মজুমদার। বিক্রম বণিক, অমিত দাস, সুমন মুখোপাধ্যায় এবং শুভঙ্কর গুহদের মতো উদ্যোগী যুবকদের এই প্রচেষ্টাকে ভূয়সী প্রশংসা করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান— রাজনৈতিক ক্ষমতার লড়াইয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের নিঃস্বার্থ সেবা করাই ভারতীয় জনতা পার্টির মূল সংস্কৃতি। সমাজের দুর্বল ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা অংশকে উৎসবের মূল স্রোতে শামিল করার এই প্রয়াস প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দীর্ঘ ২৫ বছরের জনকল্যাণমূলক প্রশাসনিক দর্শনেরই এক উজ্জ্বল প্রতিফলন।
পুজোর মুখে পানিহাটির এই ১০ টাকার ‘নমো শপিং মল’ আজ শুধু সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল কোনো খবর নয়; এ হলো মাটির মানুষের চোখের জল মুছে তাদের মুখে অনাবিল হাসি ফোটানোর এক নিখাদ অঙ্গীকার। চকচকে আলোয় মোড়া অভিজাত মলে যাওয়ার সাধ্য যাদের নেই, সেই মানুষগুলি যখন মাত্র ১০ টাকায় পরিবারের মুখে নতুন পোশাকের আনন্দ তুলে দিচ্ছেন— তখন সেটাই হয়ে উঠছে বদলে যাওয়া বাংলার আসল বিজয়ার প্রস্তুতি!