বাংলার আকাশে পরিবর্তনের হাওয়া। মাটির ঘরে বাস করা কোটি কোটি মানুষের স্বপ্ন এবার সত্যি হতে চলেছে। যে পাকা বাড়ির জন্য গরিব মানুষ চাতক পাখির মতো তাকিয়ে ছিলেন, যা এতদিন ‘কাটমানি’ আর ‘তোষণের’ রাজনীতির জাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছিল—সেই প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা এবার বীরদর্পে ফিরছে বাংলায়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর স্পষ্ট বার্তা— “চোরদের দিন শেষ, এবার যোগ্যরা পাবেন নিজের ঘর।” বিগত এক দশকের বেশি সময় ধরে তৃণমূল জমানায় কী হয়েছে, তা সবাই জানে। যোগ্য প্রার্থীকে বঞ্চিত করে তৃণমূলের নেতাদের দু’তলা বাড়ির ওপর ফের জুটত আবাস যোজনার টাকা। আর প্রকৃত গরিব মানুষ বৃষ্টিতে ভিজেছেন, শীতে কেঁপেছেন। কিন্তু বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসতেই বদলে গেছে সেই দুর্নীতির মডেল।
ইতিমধ্যেই শুভেন্দু অধিকারী নিশ্চিত করেছেন, প্রতিটি পয়সা সরাসরি উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে যাবে, মাঝে কোনো ‘ভাইপো’ বা ‘দাদা’ থাকবে না।
তবে এই সুবিধা পাওয়ার জন্য রয়েছে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম। যারা অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল এবং যাদের কোনো নিজস্ব পাকা বাড়ি নেই, তাঁরাই এই প্রকল্পের যোগ্য। তবে, পরিবারের কেউ যদি সরকারি চাকরি করেন কিংবা বাড়িতে চারচাকা গাড়ি বা বাইক থাকে—তবে এই ঘরের সুবিধা মিলবে না। এমনকি কিষান ক্রেডিট কার্ডে ৫০ হাজার টাকার বেশি ঋণের ক্ষমতা থাকলেও আপনি আবেদন করতে পারবেন না।
এই কড়াকড়ি কেন?
এই সিদ্ধান্তের কারণ তৃণমূল আমলের মতো চোরেরা যাতে আর কোনো সুযোগ না পায়। এবার বলি, কত টাকা পাবেন আপনি! সমতল এলাকায় বাড়ি তৈরির জন্য কেন্দ্র সরকার দেবে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা, যা কয়েক ভাগ কিস্তিতে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকবে। আর যারা উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকায় থাকেন, তাদের জন্য থাকছে ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকার বড় সহায়তা। বিজেপি সরকারের লক্ষ্য একটাই—পাকা বাড়ি শুধু স্বপ্ন নয়, হবে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার।
আবেদন করবেন কীভাবে?
গ্রামে থাকা ব্যক্তিদের সরাসরি বিডিও অফিস বা গ্রাম প্রধানের সাথে যোগাযোগ করতে হবে এই যোজনার জন্য। আর শহরাঞ্চলের মানুষ হলে অনলাইনে pmaymis.gov.in পোর্টালে গিয়ে নিজের তথ্য যাচাই করে আবেদন সারতে হবে। তৃণমূলের জমানায় যেখানে ‘ভোট দিলে ঘর’ দেওয়ার রাজনীতি চলত, সেখানে আজ বিজেপি সরকার বলছে— ‘আপনি যোগ্য হলে ঘর আপনার প্রাপ্য’। দিল্লিতে মোদীজি আর বাংলায় শুভেন্দু অধিকারী—এই ডবল ইঞ্জিন সরকার এবার বাংলার প্রতিটি ঘরকে সুরক্ষিত করবে। দুর্নীতির মেঘ সরিয়ে ন্যায়ের সূর্য উঠেছে। আবাস যোজনার মাধ্যমে বাংলা আবার তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে, প্রতিটি মাটির ঘর বদলে যাবে পাকা ছাদের আশ্রয়ে।