প্রাচীন ধর্মীয় গ্রন্থ ‘মনুস্মৃতি’ থেকে শ্লোক উদ্ধৃত করে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর একটি রাজনৈতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এবার দেশজুড়ে শুরু হলো তীব্র বিতর্ক ও চরম আইনি লড়াই! পুনেতে আয়োজিত ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ নামে এক ছাত্র সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে সমাজের নারী স্বাধীনতা ও অধিকার নিয়ে মুখ খোলেন রাহুল। আর সেই আলোচনাতেই মনুস্মৃতির একটি নির্দিষ্ট অংশ টেনে এনে তিনি দাবি করেন— প্রাচীন ধারণায় নাকি বলা হয়েছে শৈশবে নারী বাবার অধীন, যৌবনে স্বামীর অধীন এবং স্বামীর মৃত্যুর পর পুত্রের অধীনে থাকে; অর্থাৎ নারীদের স্বাধীন সত্তাকে অস্বীকার করা হয়েছে।
কংগ্রেস নেতার এই মন্তব্যকে ‘লজ্জাজনক’ আখ্যা দেওয়ার পরপরই দেশজুড়ে রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করে। তবে বিতর্কের সবচেয়ে বড় মোড়টি ঘটিয়েছেন বিজেপি নেত্রী তথা সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী নাজিয়া ইলাহি খান! প্রাচীন সনাতন গ্রন্থের অর্থ বিকৃত করা এবং ধর্মীয় ঐতিহ্যকে খাটো করার লিখিত অভিযোগ তুলে গাজিয়াবাদে সরাসরি রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছেন তিনি।
সংবাদমাধ্যমের সামনে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে নাজিয়া খান অভিযোগ করেন— রাহুল গান্ধী মনুস্মৃতির কেবল সুবিধাজনক নির্দিষ্ট কিছু অংশ বেছে নিয়ে নিজের রাজনৈতিক স্বার্থে তার বিকৃত ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়েছেন। সবচেয়ে বড় আপত্তির বিষয় হলো, এই বক্তব্যের সময় মঞ্চের ব্যাকগ্রাউন্ডে কেন রাখা হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ও আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের ছবি? বিজেপি নেতৃত্ব বা কোনো শীর্ষ নেতা দেশবাসীকে কখনো মনুস্মৃতি মেনে চলার নির্দেশ দেননি; অথচ রাজনৈতিক উদ্দেশে বর্তমান বিজেপি নেতৃত্বের ছবি ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর ধারণা তৈরি করা হচ্ছে।
নিজের ধর্মীয় ও নাগরিক পরিচয় নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে নাজিয়া খান জানান— তিনি একজন গর্বিত মুসলিম হয়ে শাহাদাত পাঠ যেমন করেন, তেমনই সমান গর্বের সাথে ‘বন্দে মাতরম্’ গানও গান। কিন্তু মতপ্রকাশের স্বাধীনতার দোহাই দিয়ে কোনো ধর্মের প্রাচীন বিশ্বাস ও ঐতিহ্যকে অপমান করার অধিকার কারও নেই। রাহুল গান্ধীর মনুস্মৃতি-মন্তব্য এবং তার উত্তরে মুসলিম নারী নেত্রীর এই এফআইআরের পর, জাতীয় রাজনীতির ময়দানে লড়াই কিন্তু নতুন মাত্রা পেল।
