প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবার রাজ্যজুড়ে চরম প্রশাসনিক সার্জিক্যাল স্ট্রাইক শুরু করল পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতর! কাঁচা বাড়ির প্রকৃত হকদারদের বঞ্চিত করে বিগত দিনে প্রভাব খাটিয়ে যাঁরা বেআইনিভাবে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করেছিলেন, তাঁদের রেহাই দেওয়ার দিন এবার চিরতরে শেষ। কোচবিহারের রবীন্দ্রভবনে আয়োজিত এক হাইভোল্টেজ প্রশাসনিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্বভাবসুলভ চাঁচাছোলা ও আক্রমণাত্মক মেজাজে হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর সাফ ও স্পষ্ট বার্তা— “টাকা ফেরত দাও, নয়তো জেলে যাও!”
কোচবিহারের রবীন্দ্রভবনে দুই জেলার পদস্থ প্রশাসনিক আধিকারিক ও স্থানীয় বিধায়কদের নিয়ে পঞ্চায়েত দফতরের সামগ্রিক কাজ পর্যালোচনার জন্য এক মেগা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়ন, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কাজ, জি-রাম-জি প্রকল্প এবং নতুন পঞ্চায়েত আইনের কঠোর রূপায়ণ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। যে সমস্ত এলাকায় পঞ্চায়েত প্রধান নেই, সেখানে বিকল্প প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি অতীতে ঘটে যাওয়া আর্থিক অনিয়ম নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী।
বৈঠক শেষে সাংবাদিক বৈঠকে আবাসের হিসাব টেনে ধরে এক বিরাট পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে আনেন দিলীপ ঘোষ। তিনি স্পষ্ট জানান— রাজ্যজুড়ে নিবিড় ও স্বচ্ছ তদন্ত চালিয়ে দেখা গিয়েছে, প্রায় সাড়ে ১২ হাজার এমন ব্যক্তি রয়েছেন, যাঁরা কোনো নিয়মের আওতাতেই পড়েন না, অথচ প্রভাবশালীদের মদতে বেআইনিভাবে আবাস যোজনার টাকা নিজেদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢুকিয়ে নিয়েছেন! মন্ত্রীর দাবি, এই সাড়ে ১২ হাজার অযোগ্য ব্যক্তির নামের তালিকা ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তাঁদের প্রত্যেককে ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া আইনি নোটিশ পাঠিয়ে অবিলম্বে সেই সরকারি অর্থ রাজকোষে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এরপরই ভুয়ো সুবিধাভোগীদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান তুলে ধরে দিলীপ ঘোষ সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন— “বহু লোক অন্যায়ভাবে আবাসের টাকা লুটে নিয়েছে। তাদের নোটিশ পাঠানো হয়ে গিয়েছে। সরকারের নির্দেশ একটাই— জনগণের রক্তজল করা ট্যাক্সের টাকা অবিলম্বে ফেরত দাও, অন্যথায় শ্রীঘরে যাওয়ার জন্য তৈরি হও!” তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, নোটিশ পাওয়ার পরেও যাঁরা সময়মতো টাকা জমা দেবেন না, তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করে সরাসরি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হবে।
শুধু আবাস যোজনাতেই থেমে থাকা নয়, জি-রাম-জি প্রকল্পেও অতীতের ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। একসময় যে পঞ্চায়েত ব্যবস্থা দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছিল, সেখানে স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং কাটমানির সংস্কৃতি সমূলে উপড়ে ফেলতে বিজেপি সরকারের এই জিরো-টলারেন্স নীতি গ্রামীণ রাজনীতিতে এক বিরাট কম্পন সৃষ্টি করেছে। যোগ্যদের হাতে পাকা ঘর আর লুটেরাদের জন্য জেলের দরজা— এই স্পষ্ট নীতিতেই এবার বাংলা জুড়ে নতুন গতিতে এগোচ্ছে পঞ্চায়েত দফতর।
