তিলোত্তমার রাজপথে যখন শারদোৎসবের আলো, ঠিক তখনই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাসতালুক কালীঘাটে ঘটে গেল এক অভাবনীয় ও রক্তহিম করা ঘটনা! সোমবার দিল্লি থেকে কলকাতায় ফেরার পর মঙ্গলবার তৃতীয়ার সন্ধ্যায় নিজের পাড়ার পুজো উদ্বোধন সেরে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। কিন্তু হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের কাছে নিজের বাড়ির ঠিক ঢিলছোড়া দূরত্বেই এক মহিলার হাতে চরম হেনস্থা ও হামলার মুখে পড়তে হলো তাঁকে! অভিযোগ, ভিড়ের সুযোগ নিয়ে আচমকাই এক মহিলা ‘পিসি’ বলে চিৎকার করতে করতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর দিকে ধেয়ে যান এবং হাতে ধারালো অস্ত্র বা ছুরি নিয়ে তাঁর ওপর আক্রমণের চেষ্টা চালান! অবশেষে পুলিশের তৎপরতায় সেই অভিযুক্ত মহিলাকে আটক করার পর প্রকাশ্যে এসেছে তাঁর আসল পরিচয়, যা শুনে হতবাক প্রশাসনিক মহল!
ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ঠিক ছ’টা নাগাদ। কালীঘাট অঞ্চলের একটি পূজা মণ্ডপ উদ্বোধন শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন পায়ে হেঁটে বাড়ির দিকে এগোচ্ছিলেন, ঠিক তখনই ঘটে এই অনভিপ্রেত আক্রমণ। প্রত্যক্ষদর্শী ও কালীঘাটপন্থী নেত্রী উপাসনা চৌধুরীর দাবি অনুযায়ী— ওই মহিলা কেবল মমতার দিকে হিংস্রভাবে ছুটে যাননি, বরং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে লাগাতার চরম অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ দিতে শুরু করেন। এমনকি তাঁর হাতে ধারালো ছুরি ছিল বলেও গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়।
ঘটনার আকস্মিকতায় নিরাপত্তারক্ষী ও উপস্থিত নেতারা স্তম্ভিত হয়ে গেলেও মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে কালীঘাট থানার পুলিশ। দ্রুত ওই মহিলাকে পাকড়াও করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তবে ঘটনার পরেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে চরম ক্ষোভ উগরে দেন তৃণমূল নেতৃত্ব। সাংসদ দোলা সেন সরাসরি দাবি করেন— অভিযুক্ত মহিলা দৃশ্যত চরম নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন। ভিড়ের মধ্যে নিজেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের ‘ভাইঝি’ বলে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে নিরাপত্তার বেষ্টনী ভেঙে ভেতরে ঢোকার মরিয়া চেষ্টা চালান তিনি। খাস নিজের পাড়ায়, নিজের বাড়ির এত কাছে এমন প্রাণঘাতী আক্রমণের মুখে পড়তে হওয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নবান্ন ও পুলিশ মহলে কড়া প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এদিকে কালীঘাট থানার পুলিশ সূত্রে অবশেষে ধৃত মহিলার সম্পূর্ণ পরিচয় প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত মহিলার নাম অনসূয়া সাহা। তিনি দক্ষিণ কলকাতার নিউ আলিপুর এলাকার বাসিন্দা। তবে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো— অভিযুক্ত ওই মহিলা পেশায় একজন সিভিক ভলান্টিয়ার! কলকাতা পুলিশের পশ্চিম বন্দর থানায় ২০১১ সাল থেকেই পোস্টিং ছিল তাঁর। তবে পুলিশি তদন্তে আরও জানা গেছে যে, তিনি বিগত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ডিউটিতে অনুপস্থিত ছিলেন।
একজন কর্মরত সিভিক ভলান্টিয়ার দীর্ঘদিন ধরে কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিত থেকে কীভাবে এমন অপ্রকৃতিস্থ অবস্থায় খোদ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে ছুরি নিয়ে পৌঁছে গেলেন— তার নেপথ্যে কোনো গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে, নাকি এটি নিছকই কোনো মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির বিশৃঙ্খলা— তা খতিয়ে দেখতে দফায় দফায় জেরা শুরু করেছে কলকাতা পুলিশ!