"Sir, will you please visit our school?" Young students are waiting by the roadside, holding the national flag!

“স্যর, একবার আমাদের স্কুলে আসবেন?” জাতীয় পতাকা হাতে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে অপেক্ষায় খুদে পড়ুয়ারা!

মেদিনীপুরের আকাশ খারাপ থাকায় হেলিকপ্টারের পরিকল্পনা বাতিল করে কোলাঘাট থেকে সোজা সড়কপথে পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুরের দিকে রওনা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর সেই সড়কপথেই দেখা গেল এক অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী ও অভাবনীয় দৃশ্য! কেশপুরে পৌঁছানোর আগে ক্ষুদিরাম মোড়ের কাছে জাতীয় পতাকা হাতে স্থানীয় এক স্কুলের একঝাঁক খুদে পড়ুয়া রাস্তার পাশে অপেক্ষা করছিল মুখ্যমন্ত্রীকে একঝলক দেখার জন্য।

রাস্তার পাশে খুদে শিশুদের অত আগ্রহ ও উৎসাহ দেখে নিজের কনভয় থামানোর নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। গাড়ি থেকে নেমে সোজা এগিয়ে যান শিশুদের দিকে, হাসিমুখে মেলামেশা করেন, হাত মেলান এবং ছবিও তোলেন। মুখ্যমন্ত্রীকে এতটা কাছে পেয়ে আনন্দিত এক খুদে পড়ুয়া বলেই বসে— “স্যর, একবার আমাদের স্কুলে আসবেন?” পড়ুয়াদের এমন অমলিন আবদার শুনে হেসে ফেলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রশাসনিক ব্যাস্ততার কারণে সেদিন স্কুলে যাওয়া সম্ভব না হলেও, অত্যন্ত আদরে তাদের বিদায় জানিয়ে নিজের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি।

এরপর কেশপুরের ঐতিহ্যবাহী মোহবনিতে পৌঁছে শহীদ ক্ষুদিরাম বসুর পৈতৃক ভিটে সংস্কারের জন্য একগুচ্ছ ঐতিহাসিক ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান— মোহবনিতে বিপ্লবীর পৈতৃক বাড়ি পূর্ণাঙ্গ সংস্কার করার পাশাপাশি একটি সর্বাধুনিক গ্যালারি এবং লেজার শো-এর ব্যবস্থা করা হবে। যাতে দেশ-বিদেশের গবেষক ও পর্যটকরা এখানে এসে মহান বিপ্লবীর লড়াইয়ের ইতিহাস জানতে পারেন, তার জন্য গেস্ট হাউজসহ একটি পূর্ণাঙ্গ ডিপিআর তৈরির নির্দেশ দেন তিনি।

উল্লেখ্য, প্রাথমিক পর্যায় হিসেবে ‘মোহবনি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি’র হাতে ৫ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা তুলে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দেন— শহীদ স্মরণে অর্থ কোনো বাধা হবে না, আগামী বছরের মধ্যেই সমস্ত কাজ শেষ করে এই প্রকল্প জনসমক্ষে তুলে ধরা হবে। তো খুদেদের প্রতি মমত্ববোধ আর ঐতিহ্য সংরক্ষণের এই জোড়া বার্তা সত্যিই এক জনমুখী প্রশাসনিক ভাবনার আলো দেখাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *