পুরভোটের মুখে মমতাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ সুকান্ত মজুমদারের !

শারদোৎসবের আবহ কাটতে না কাটতেই রাজ্যে বেজে উঠেছে পুরভোটের দামামা। তিলোত্তমা সহ রাজ্যের পুরসভাগুলির দখল নিতে পূর্ণ শক্তি নিয়ে ময়দানে নেমে পড়েছে শাসকদল বিজেপি। কোন রণকৌশলে লড়বে পদ্মশিবির? বিরোধীদের সঙ্গে কি কোনো আসন সমঝোতা হবে? আর প্রার্থী বাছাইয়ের মাপকাঠিই বা কী? শুক্রবার সমস্ত জল্পনা ও প্রশ্নের চাঁচাছোলা জবাব দিয়ে রাজনৈতিক পারদ এক ধাক্কায় শীর্ষে তুলে দিলেন পুরভোটে বিজেপির কলকাতার ইনচার্জ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। এনসিপিআই-এর সঙ্গে জোটের তত্ত্বকে এক ফুঁয়ে উড়িয়ে দিয়ে তিনি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে— “বিজেপিকে দেখতে আসার আগে উনি নিজের ঘর সামলান, ক্ষমতা থাকলে পুরভোটে আগে নিজের ওয়ার্ড ও নিজের বুথে জিতে দেখান!”

শুক্রবার কলকাতায় আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক বৈঠকে প্রার্থী নির্বাচনের প্রক্রিয়া ও দলের কৌশল স্পষ্ট করেন সুকান্ত মজুমদার। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, প্রার্থী হতে ইচ্ছুক নেতা-কর্মীদের জন্য ড্রপবক্সে আবেদনপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। আগামী সোমবার, অর্থাৎ ২৬শে অক্টোবর বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই ড্রপবক্সে আবেদন জমা দেওয়া যাবে। এই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে জমা পড়া সমস্ত আবেদন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা তৈরি করবে।

প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে দলের পুরোনো ও একনিষ্ঠ কর্মীদের উদ্বেগকে প্রাধান্য দিয়ে সুকান্তবাবু জানান— “প্রার্থী নির্বাচনে প্রথম অগ্রাধিকার পাবেন ভারতীয় জনতা পার্টির খাঁটি কার্যকর্তা ও কর্মীরা। পাশাপাশি সমাজের বিশিষ্ট ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির মানুষদেরও সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিশেষ করে বিধানসভা নির্বাচনের আগে, দলের সেই কঠিন ও দুর্দিনের সময়ে যাঁরা বুক চিতিয়ে পদ্মশিবিরের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁদের অবদান দল কখনোই ভুলবে না; প্রার্থী তালিকায় তাঁদের গুরুত্ব থাকবে সবার আগে।” তবে টিকিট পাওয়ার ক্ষেত্রে এলাকায় প্রার্থীর ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি বা ‘ইমেজ’ কেমন, তা কঠোরভাবে বিবেচনা করা হবে।

কিন্তু শাসকদলে কি এবার তৃণমূলের কোনো মুখকে প্রার্থী হিসেবে দেখা যাবে? দলবদলের ‘বেনোজল’ বিতর্ক নিয়ে দলের অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ উড়িয়ে দিয়ে সুকান্ত মজুমদারের অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য— “রাজনীতি মানেই হলো সম্ভাবনার খেলা। এখানে কোনো নির্দিষ্ট ছক বা পথ থাকে না।” তিনি স্পষ্ট করেন যে, জেলাস্তর থেকে রাজ্যস্তরের নেতা, বিধায়ক এবং সাংসদ— প্রত্যেকের মতামত সংগ্রহ করেই সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রার্থীতালিকা চূড়ান্ত করা হবে।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুকান্ত মজুমদার বিরোধীদের একহাত নিয়ে স্পষ্ট ঘোষণা করেন— কোনো বিরোধী দলের সাথে কোনো রকম জোট নয়, পুরভোটে ২০৯টি আসনেই পদ্ম প্রতীকে একলা লড়াই করবে বিজেপি। ময়দানে বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি কতটা মজবুত, তা তুলে ধরে তিনি দাবি করেন— ইতিমধ্যেই প্রতি ওয়ার্ডে প্রার্থী হতে গড়ে অন্তত ১০ জন করে যোগ্য প্রার্থীর আবেদন জমা পড়েছে। এরপরই কালীঘাটের দিকে সরাসরি নিশানা দেগে তিনি বলেন— “আমরা চাইলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি থেকেই অনায়াসে দু’জনকে প্রার্থী করে দিতে পারি। কিন্তু আমরা সেই পথে হাঁটব না।” মমতাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তাঁর চূড়ান্ত তোপ— “বিজেপির কী আছে আর কী নেই, তা নিয়ে ওদের মাথা ঘামানোর দরকার নেই। আগে নিজের ওয়ার্ড সামলান। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আগে নিজের বুথে পদ্মকে হারিয়ে জিতে দেখান!”

পুরভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই সুকান্ত মজুমদারের এই আক্রমণাত্মক মেজাজ এবং স্বয়ং মমতার ঘরের মাঠে গিয়ে চ্যালেঞ্জ ছোড়ার ঘটনা বুঝিয়ে দিল— আসন্ন পুরযুদ্ধকে এক ইঞ্চিও হালকাভাবে নিচ্ছে না বিজেপি, বরং প্রাক্তন শাসকদলকে তাদের ঘরের বুথেই কোণঠাসা করাই এখন পদ্মশিবিরের প্রধান লক্ষ্য!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *