ইতিহাসের এক মস্ত বড় ভুল সংশোধন করতে চলেছে নতুন পশ্চিমবঙ্গ সরকার। যে মানুষটি না থাকলে আজকের মানচিত্রে ‘পশ্চিমবঙ্গ’ নামক রাজ্যটির কোনো অস্তিত্বই থাকত না, দশকের পর দশক ধরে ভোটব্যাংকের নোংরা রাজনীতিতে তাঁকে ভুলিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু সত্যকে কখনো চেপে রাখা যায় না। পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে তারকেশ্বরের পুণ্যভূমি থেকে এক ঐতিহাসিক ঘোষণা করলেন রাজ্যের বলিষ্ঠ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আধুনিক পশ্চিমবঙ্গের রূপকার এবং ভারতীয় জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতি রক্ষায় এবার এক অভূতপূর্ব মেগা প্রজেক্টের সূচনা করতে চলেছে রাজ্য সরকার।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ড. শ্যামাপ্রসাদের পৈতৃক ভিটে হুগলির জিরাটের সেই ঐতিহাসিক বাড়িটিকে এবার রাজ্য সরকার সসম্মানে অধিগ্রহণ করবে। সেখানে শুধু কোনো ইট-পাথরের ইমারত তৈরি হবে না, বরং গড়ে উঠবে এক আন্তর্জাতিক মানের স্মৃতিসৌধ, গবেষণাকেন্দ্র এবং একটি সমৃদ্ধ ডিজিটাল লাইব্রেরি। নতুন প্রজন্মের বাঙালি যেন জানতে পারে, কীভাবে এই মহান জাতীয়তাবাদী নেতা নিজের জীবনের পরোয়া না করে দিল্লির বুকে বাংলার হিন্দু ও শরণার্থীদের অধিকারের জন্য লড়াই করেছিলেন।
বাঙালি এতদিন ভুলে গিয়েছিল নিজের আত্মপরিচয়। কিন্তু বিজেপির জাতীয়তাবাদী ভাবধারায় অনুপ্রাণিত এই সরকার আজ প্রমাণ করে দিল- যারা নিজেদের পূর্বসূরিদের সম্মান করতে জানে না, তারা কখনো নতুন ভবিষ্যৎ গড়তে পারে না।
তবে সবথেকে বড় ধামাকাটি অপেক্ষা করছে তিলোত্তমা কলকাতার জন্য। গুজরাতের ‘স্ট্যাচু অব ইউনিটি’র আদলে কলকাতার বুকে মাথা তুলে দাঁড়াবে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫ ফুট উচ্চতার এক বিশাল ব্রোঞ্জের মূর্তি। এই মূর্তিটি কেবল একটি স্থাপত্য হবে না, এটি হবে প্রগতিশীল ও অখণ্ড ভারতের এক জ্বলন্ত প্রতীক। উচ্চমানের স্টেইনলেস স্টিল ও নিখুঁত ব্রোঞ্জের কারুকার্যে তৈরি এই মূর্তিটি যেকোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা ভূমিকম্পেও থাকবে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত। দেশের সেরা ভাস্করদের হাতের ছোঁয়ায় কলকাতার বুকে জীবন্ত হয়ে উঠবেন ড. শ্যামাপ্রসাদ।
এই মেগা প্রকল্পের চারপাশে গড়ে তোলা হবে একটি আন্তর্জাতিক মানের সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স। যেখানে থাকবে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর থ্রি-ডি ডিজিটাল মিউজিয়াম এবং অত্যাধুনিক লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো। দেশভাগের সেই যন্ত্রণাদায়ক দিনগুলোতে কীভাবে ড. শ্যামাপ্রসাদ পাঞ্জাব ও বাংলার একাংশকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত রেখেছিলেন, কীভাবে কাশ্মীরকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ করতে গিয়ে নিজের জীবন বলিদান দিয়েছিলেন , সেই বীরত্বের ইতিহাস ফুটিয়ে তোলা হবে প্রযুক্তির মাধ্যমে। এটি পর্যটনের মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গকে এক লাফে বিশ্বমঞ্চে নিয়ে যাবে।
আজকের এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ রাজনৈতিক গণ্ডি ছাড়িয়ে প্রতিটি দেশপ্রেমিক বাঙালির বুক গর্বে ভরিয়ে দিয়েছে। ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্ন ছিল এক দেশ, এক বিধান এবং এক প্রধান। তাঁর সেই পবিত্র আদর্শকে বুকে নিয়েই আজ বাংলায় সুশাসনের এক নতুন সূর্য উদিত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই বলিষ্ঠ সিদ্ধান্ত প্রমাণ করল নতুন বাংলা আর তোষণের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না, এ বাংলা বিশ্বাস করে নিজের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর জাতীয় সুরক্ষায়।
ড. শ্যামাপ্রসাদের এই মেগা প্রকল্প নিয়ে আপনার মতামত কী? কমেন্ট বক্সে অবশ্যই জানান।
