“ফুটপাত আসলে কার? সাধারণ পথচারীর নাকি হকারদের?”—রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর এই মুহূর্তে এই প্রশ্নই সবচেয়ে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে বাংলার বুকে। বছরের পর বছর ধরে বেআইনি জবরদখলের জেরে কলকাতার চওড়া ফুটপাতগুলো যখন সাধারণ মানুষের হাঁটার অযোগ্য হয়ে উঠেছিল, তখন জনগণের স্বার্থে এক ঐতিহাসিক ও সাহসী পদক্ষেপ নিল শুভেন্দু অধিকারীর নতুন ডবল ইঞ্জিন সরকার। শহরের সৌন্দর্য ফেরাতে এবং যানজট মুক্ত করতে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে বেআইনি হকার উচ্ছেদ অভিযান। কিন্তু এই সরকার যেমন কড়া, তেমনই মানবিক! উচ্ছেদের নামে গরিবের পেটে লাথি মারা নয়, বরং হকারদের স্থায়ী রুটিরুজির জন্য শ্রমদপ্তরের এক যুগান্তকারী স্কিমের ঘোষণা করলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। কী এই মেগা প্ল্যান? আর বিরোধীদের সস্তার রাজনীতিকে কীভাবে কড়া জবাব দিলেন শুভেন্দুজী?
দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অব্যবস্থার জেরে হাওড়া, শিয়ালদহ স্টেশন থেকে শুরু করে যাদবপুর, বালীগঞ্জ ও দমদমের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকার ফুটপাতগুলি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল। সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মূল রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলেন, যার জেরে প্রতিনিয়ত বাড়ছিল দুর্ঘটনা। শুভেন্দু সরকার এই বেআইনি জবরদখলের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতেই বরাবরের মতো সস্তার রাজনীতি করতে রাস্তায় নেমে পড়েছে বাম ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলি। উচ্ছেদ অভিযানে বাধা দিয়ে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কোনো রকম রাজনৈতিক চাপ বা মুষ্টিমেয় গোষ্ঠীর স্বার্থের কাছে মাথা নত করবে না এই সুশাসনের সরকার।
বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠক থেকে বিরোধীদের তোষণ-রাজনীতিকে এক হাত নিয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বুক চিতিয়ে বলেন- “ফুটপাত দিয়ে হাঁটার অধিকার এদেশের সাধারণ জনগণের আছে। সেই ফুটপাত জবরদখল করার অধিকার কারও নেই। আপনি নিউ মার্কেটের রাস্তা দখল করে নেবেন, মোটরসাইকেলও যেতে পারবে না; রাজাবাজার বেহাত হয়ে যাবে; খিদিরপুর বা মেটিয়াবুরুজে যা খুশি তাই করবেন-এটার জন্য পাবলিক আমাকে মুখ্যমন্ত্রী করেনি!” মুখ্যমন্ত্রীর এই একটি বক্তব্যই প্রমাণ করে দেয়, তিনি কোনো বিশেষ ভোটব্যাঙ্কের পরোয়া করেন না, তাঁর কাছে রাজ্যের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও স্বার্থই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ।
তবে কড়া প্রসাশনের পাশাপাশি শুভেন্দুজীর সরকারের এক পরম মানবিক রূপও দেখল বাংলা। হকার ভাই-বোনদের আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন যে, সরকার তাঁদের সম্পূর্ণ অসহায় করে ছেড়ে দেবে না। যেখানে সরকারের ফাঁকা জমি রয়েছে বা যেখানে জনগণের চলাচলের কোনো অসুবিধা নেই, সেখানে হকারদের বসার বিষয়টি সম্পূর্ণ মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা হবে। ইতিমধ্যেই শ্রমদপ্তরের মাধ্যমে হকারদের পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য একটি বিশেষ আর্থিক ও সামাজিক স্কিম তৈরি করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী হকারদের উদ্দেশ্যে আর্জি জানিয়েছেন যে, প্রাথমিকভাবে তাঁরা যেন রাস্তা ও ফুটপাত ফাঁকা করে দেন, পরবর্তীতে সরকারি নিয়মের আওতায় এনে তাঁদের সমস্ত সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে। ভোটের স্বার্থে জবরদখলকে প্রশ্রয় দেওয়ার দিন এবার শেষ। জনসাধারণের হাঁটার অধিকার রক্ষা এবং গরিব হকারদের পুনর্বাসনের এই যুগান্তকারী ‘শুভেন্দু মডেল’ আজ বাংলার বুকে সুশাসনের এক নতুন নজির গড়ল।
জনসাধারণের স্বার্থে ফুটপাত মুক্ত করার পাশাপাশি হকারদের জন্য শ্রমদপ্তরের এই নতুন সরকারি স্কিম নিয়ে আপনার মতামত কী? কমেন্ট বক্সে আপনার বক্তব্য অবশ্যই জানান।
