Suvendu Adhikari's stern remedy

রেলের সম্পত্তি ছারখার করলে ঘর-বাড়ি বেচে দিতে হবে ক্ষতিপূরণ! কড়া দাওয়াই শুভেন্দু অধিকারীর!

 

সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করে পার পাওয়ার দিন এবার শেষ! উগ্র আন্দোলন বা প্রতিবাদের নামে যারা দেশের কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি ছারখার করে, তাদের জন্য এবার নেমে আসতে চলেছে চরম বিপর্যয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর স্পষ্ট ও কড়া ঘোষণা— সরকারি বা রেলের সম্পত্তি ইচ্ছাকৃতভাবে নষ্ট করলে, এবার নিজের ঘর-বাড়ি বেঁচে সেই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে অপরাধীদের। হ্যাঁ, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় তৈরি সম্পত্তি যারা ধ্বংস করবে, তাদের আর এক ইঞ্চিও রেয়াত করবে না রাজ্য সরকার। মনে করে দেখুন, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসের সেই কালো দিনগুলোর কথা। মোদী সরকার যখন ‘নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন’ তথা CAA পাস করল, তখন একশ্রেণীর উগ্র ও দেশবিরোধী শক্তি গোটা দেশজুড়ে বিশেষ করে এ রাজ্যে তাণ্ডব চালিয়েছিল। সাধারণ মানুষের যাতায়াতের মাধ্যম ভারতীয় রেলকে টার্গেট করা হয়েছিল। উলুবেড়িয়া এবং মুর্শিদাবাদে একের পর এক ট্রেনে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল, স্টেশন লুট করা হয়েছিল। কোটি কোটি টাকার জাতীয় সম্পত্তি চোখের পলকে ছারখার করে দেওয়া হয়েছিল স্রেফ সস্তার রাজনীতির জন্য।

কিন্তু সময় বদলেছে, রাজ্যে এখন আইনের শাসন। আর তাই, সেই পুরনো ক্ষতে প্রলেপ দিতে এবং অপরাধীদের যোগ্য শাস্তি দিতে এবার নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার নবান্নে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি বিধায়কেরা। আর সেই বৈঠকের পরেই এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করা সরকারের পরম কর্তব্য। তিনি রাজ্য পুলিশের ভারপ্রাপ্ত ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তকে নির্দেশ দিয়েছেন, ২০১৯ সালের সেই দেশবিরোধী তাণ্ডবের প্রতিটি ঘটনার ফাইল নতুন করে খুলতে হবে। পাশাপাশি গঠন করা হচ্ছে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ তদন্ত কমিটিও। আর এই তদন্তে রাজ্য পুলিশকে পূর্ণ সহযোগিতা করবে রেল পুলিশও।

সবথেকে বড় বিষয়, এই তদন্তে যাদের নাম সামনে আসবে, যারা সেদিন দেশের সম্পত্তি পুড়িয়ে আনন্দ পেয়েছিল, সরকারি নিয়ম মেনে এবার তাদের সম্পত্তি বা ঘর-বাড়ি ক্রোক করা হবে এবং সেই সম্পত্তি বিক্রি করে আদায় করা হবে রেল ও সরকারি দপ্তরের কানাকড়ি হিসাব! রাজনৈতিক মহলের মতে, তুষ্টিকরণের রাজনীতি ঝেড়ে ফেলে রাজ্যে প্রকৃত ‘আইনের শাসন’ প্রতিষ্ঠা করতেই শুভেন্দু অধিকারী সরকারের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি। অপরাধী সে যেই হোক না কেন, তার স্থান যে জেলেই হবে এবং তাকে যে পথের ভিখারি হতে হবে— এই সিদ্ধান্ত তারই প্রমাণ। অতএব, ভাঙচুর ও সন্ত্রাসের রাজনীতির দিন যে এ রাজ্যে শেষ, তা এই একটি সিদ্ধান্তেই পরিষ্কার করে দিয়েছে বর্তমান রাজ্য সরকার। সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে চাইছিলেন যাতে দাঙ্গাবাজরা শাস্তি পায়। আর এবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের এই যৌথ রণকৌশল সেই প্রত্যাশাকেই পূরণ করল। তবে এখন দেখার, পুলিশের এই স্পেশাল টিম কত দ্রুত বাংলার শান্তি বিঘ্নিত করা সেই সমস্ত দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করে খাঁচায় পোরে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *