রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর সনাতনী সংস্কৃতি ও নিষ্ঠার আবহে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে প্রথম দুর্গাপূজা। আর সেই পুজোকে কেন্দ্র করে ক্লাব ও পুজো কমিটিগুলোর জন্য এককালীন এক লক্ষ টাকা অনুদান এবং সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিদ্যুতের বড় ঘোষণা আগেই করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু এবার সেই অনুদানের টাকা বিলির ক্ষেত্রে চরম স্বচ্ছতা আনতে এবং অতীতের কাটমানি বা দলীয় ফান্ডিংয়ের অপসংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ করতে একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা জারি করল নবান্ন। সরকার সাফ জানিয়ে দিয়েছে— কোনো ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে না, অনুদান পেতে হলে সংশ্লিষ্ট পুজো কমিটির নামেই থাকতে হবে নিজস্ব অফিশিয়াল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট!
উৎসবের অর্থ প্রদানে একশো শতাংশ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবার নবান্নের তরফে অত্যন্ত কঠোর প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। নয়া নির্দেশিকা অনুযায়ী, অনুদানের টাকা পেতে হলে পুজো কমিটির সভাপতি কিংবা সম্পাদককে কমিটির নিজস্ব অফিশিয়াল লেটারহেডে লিখিত আবেদনপত্র নিকটবর্তী থানায় জমা দিতে হবে। সেই আবেদনের সাথে কমিটির ব্যাংক অ্যাকাউন্টের একটি ক্যানসেলড চেক এবং পাসবইয়ের প্রথম পাতার স্পষ্ট প্রতিলিপি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যাতে সরকারি কোষাগারের টাকা সরাসরি কমিটির অ্যাকাউন্টে ঢোকে এবং কোনোভাবেই মাঝপথে নয়ছয় না হতে পারে।
কেবল ব্যাংক ডিটেইলসই নয়, পুজো কমিটিগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চাওয়া হয়েছে আয়-ব্যয়ের পাই-টু-পাই হিসাব। আবেদনের সাথে জমা দিতে হবে গত বছরের পুজোর আনুষ্ঠানিক প্রশাসনিক অনুমতিপত্র এবং বিগত বছরের পূর্ণাঙ্গ অডিট বা হিসাবের নথি। একই সাথে পুজো কমিটির সমস্ত পদাধিকারী ও কার্যকরী সদস্যদের নাম, বর্তমান ঠিকানা ও সক্রিয় ফোন নম্বরের সম্পূর্ণ তালিকা লেটারহেডে উল্লেখ করে জমা দিতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— গত বছর যে সমস্ত কমিটি সরকারি অনুদান পেয়েছিল, সেই টাকা সঠিক খাতে খরচ হয়েছে কি না, তার সরকারি ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট বা ইউসি জমা দেওয়ার প্রমাণপত্র যুক্ত না করলে এবার একটি কানাকড়িও মিলবে না।
চলতি মাসের ৭ তারিখ মিলন মেলা প্রাঙ্গণে পুজো কমিটিগুলির সাথে ঐতিহাসিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী এই নতুন দিশা দেখিয়েছিলেন। অনুদানের পাশাপাশি মণ্ডপের জন্য বিদ্যুতের মাশুল পুরোপুরি মকুব করার মতো জনকল্যাণমূলক স্বস্তি দিয়েছে নতুন প্রশাসন। তবে স্পষ্ট নীতিগত অবস্থান নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন— সনাতনী শাস্ত্রীয় নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পিতৃপক্ষে বা মহালয়ার আগে কোনো পুজো উদ্বোধন করা চলবে না; মায়ের বোধন ও উদ্বোধন হবে মহালয়ার পরেই। একই সাথে বিগত তৃণমূল জমানায় রেড রোডে আয়োজিত বিতর্কিত ও বিতর্ক সৃষ্টিকারী কার্নিভাল প্রথা পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে বর্তমান বিজেপি সরকার। উৎসবের নামে অযথা প্রদর্শনীর ইতি টেনে, শাস্ত্রীয় নিয়ম রক্ষা এবং কড়া প্রশাসনিক নজরদারিতে এবার খাঁটি ঐতিহ্যের দুর্গাপূজা দেখার অপেক্ষায় গোটা বাংলা।