বাংলার শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় আর ধামাকাদার সুখবর! নির্বাচনের আগে দেওয়া মহা-প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে এক নজিরবিহীন মাস্টারস্ট্রোক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের বেকার যুবকদের হাতে আর্থিক সচ্ছলতা ও কর্মসংস্থানের চাবিকাঠি তুলে দিতে সরকারিভাবে আত্মপ্রকাশ করল মোদী-শুভেন্দু সরকারের স্বপ্নের প্রজেক্ট—‘যুব শক্তি ভরসা কার্ড’! পূর্বতন তৃণমূল সরকারের নামমাত্র ‘যুবশ্রী’ প্রকল্পকে পুরোপুরি উপড়ে ফেলে এই নতুন জনকল্যাণমুখী উদ্যোগ নিয়ে এসেছে বর্তমান বিজেপি সরকার। ভাতার পরিমাণ এক ধাক্কায় দ্বিগুণ করার পাশাপাশি ক্যারিয়ার গড়ার জন্য এই প্রকল্পে রাখা হয়েছে একগুচ্ছ ঐতিহাসিক চমক! এই কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে কীভাবে পাবেন কড়কড়ে ৩,০০০ টাকা? আবেদনের খুঁটিনাটি নিয়মগুলো কী কী?
বিগত জমানায় বাংলার যুবসমাজকে স্রেফ ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করে প্রতি মাসে দেওয়া হতো মাত্র ১,৫০০ টাকার যৎসামান্য ভাতা, যা দিয়ে আজকের দিনে একটি যুবকের হাতখরচও চলে না। কিন্তু শুভেন্দুজীর সুশাসনের সরকার ক্ষমতায় আসতেই বেকার যুবকদের সেই বঞ্চনার দিন শেষ। নতুন নিয়মে ‘যুব শক্তি ভরসা কার্ড’-এর আওতায় প্রতিটা যোগ্য উপভোক্তা প্রতি মাসে সরাসরি নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পেয়ে যাবেন ৩,০০০ টাকা! শুধু তাই নয়, যুবকেরা যাতে নিজেদের পায়ে দাঁড়িয়ে ব্যবসা বা ক্যারিয়ার গড়তে পারেন, তার জন্য এই প্রকল্পে একটি অতিরিক্ত এককালীন অনুদানের বিশেষ সুবিধাও যুক্ত করা হয়েছে। নবান্ন সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই এই মেগা প্রকল্পের জন্য একটি অত্যন্ত আধুনিক ও সুরক্ষিত অফিসিয়াল পোর্টাল তৈরি হয়ে গেছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই সেখানে অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া পুরোদমে শুরু হতে চলেছে।
এবার ভালো করে জেনে নিন—কারা এই ‘যুব শক্তি ভরসা কার্ড’-এর জন্য আবেদন করতে পারবেন এবং এর আসল শর্তগুলি কী কী। আবেদনের মূল ৪টি শর্ত ।
শিক্ষাগত যোগ্যতা: আবেদনকারী যুবক বা যুবতীকে অবশ্যই ন্যূনতম শিক্ষিত হতে হবে।
স্থায়ী বাসিন্দা: প্রার্থীকে বাধ্যতামূলকভাবে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
কর্মহীন অবস্থা: আবেদনের সময় প্রার্থীকে সম্পূর্ণ বেকার বা কর্মহীন থাকতে হবে।
বয়সসীমা: এই প্রকল্পের জন্য বয়সসীমা অত্যন্ত নমনীয় রাখা হয়েছে, যা হলো ২১ থেকে ৪০ বছর।
তবে মনে রাখবেন, শুভেন্দু অধিকারীর এই ডবল ইঞ্জিন সরকারে কোনো রকম স্বজনপোষণ বা কাটমানির খেলা চলবে না। নবান্নের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, অনলাইনে আবেদন জমা পড়ার পর প্রতিটি প্রার্থীর দেওয়া তথ্য অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে অডিট বা স্ক্রুটিনি করা হবে। যদি কোনো আবেদনকারী জালিয়াতি করে বা তথ্য লুকিয়ে ফর্ম ফিলাপ করেন, তবে তাঁর আবেদনপত্রটি সরাসরি বাতিল করে দেওয়া হবে। কোনো ভুঁইফোড় বা অযোগ্য ব্যক্তি যাতে গরিবের হকের টাকা লুটে নিতে না পারে, তার জন্য এই কড়া স্ক্রুটিনির ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন। সফল যাচাইকরণের পরই সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো শুরু হবে।
চাকরি বিক্রির অন্ধকার জমানা শেষ করে মোদী-শুভেন্দুর নতুন সরকার আজ বাংলার যুবকদের কেরিয়ার গড়ার আসল ‘ভরসা’ জোগাচ্ছে। সস্তার রাজনীতির দিন শেষ, এবার বাংলায় শুরু হলো যুবশক্তির উত্থানের এক সোনালী অধ্যায়! তৃণমূলের ১৫০০ টাকার প্রকল্প বদলে সরাসরি ৩০০০ টাকা আর ক্যারিয়ার অনুদান দেওয়ার এই ঐতিহাসিক শুভেন্দু মডেল নিয়ে আপনার কী মতামত? আপনি কি এই কার্ডের জন্য আবেদন করছেন? কমেন্ট বক্সে জানান আপনার মতামত ।
