পরীক্ষা থাকবে, কিন্তু পরীক্ষার কোনো গুরুত্ব থাকবে না—এমন আত্মঘাতী নিয়ম আর বাংলায় চলবে না। শিক্ষাঙ্গনে সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং মেধার প্রকৃত মূল্যায়ন করতে এবার এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। হ্যাঁ, ঠিকই শুনছেন! বাংলার স্কুলগুলোতে এবার পাকাপাকিভাবে ফিরতে চলেছে ‘পাশ-ফেল’ প্রথা। শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের এক বড় বয়ান ঘিরে এখন খুশির হাওয়া বাংলার শিক্ষক ও অভিভাবক মহলে।
মনে করে দেখুন বিগত এক দশকেরও বেশি সময়ের কথা। তৃণমূলের জমানায় ভোটের রাজনীতি আর তোষণের চক্করে শিক্ষাকে বানিয়ে দেওয়া হয়েছিল একটি প্রহসন। ‘কাউকে ফেল করানো যাবে না’—এই সস্তা পপুলিস্ট নীতি এনে বাংলার ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিয়েছিল পিসি-ভাইপোর সরকার। পড়াশোনা না করলেও যদি পরের ক্লাসে উঠে যাওয়া যায়, তবে ছাত্ররা কেন কষ্ট করে পড়াশোনা করবে? এই ভুল নীতির কারণে বাংলার শিক্ষার মান তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল। কিন্তু বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই সেই কালো আইন বাতিলের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে। প্রকৃতপক্ষে, ২০২৪ সালের ২৩শে ডিসেম্বরই কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক এক ঐতিহাসিক বিজ্ঞপ্তি জারি করে শিক্ষার অধিকার আইনে বড় সংশোধনী এনেছিল। সেই নিয়ম অনুযায়ী, পঞ্চম এবং অষ্টম শ্রেণিতে প্রত্যেক পড়ুয়াকে পরীক্ষায় পাশ করতেই হবে। যদি কেউ প্রথমবারে উত্তীর্ণ হতে না পারে, তবে তাকে দ্বিতীয়বার সুযোগ দেওয়া হবে। কিন্তু তারপরেও পাশ করতে না পারলে, তাকে সেই ক্লাসেই আবার পড়তে হবে। কেন্দ্র এই দূরদর্শী নিয়ম আনলেও, কেবল বিরোধিতার খাতিরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার তা বাংলায় চালু করতে দেয়নি।
তবে শুভেন্দু জমানায় আর কোনো টালবাহানা চলবে না। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে শিক্ষা ব্যবস্থার পুনর্গঠন নিয়ে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমে পড়েছেন শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ এবং বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী স্বপন দাশগুপ্ত। শঙ্কর ঘোষ স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিজেপির যে সমস্ত বিধায়কেরা শিক্ষা জগতের সাথে যুক্ত, তাঁদের পাশাপাশি রাজ্যের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের সাথেও আলোচনা শুরু হয়েছে। মানুষ ঠিক কী চাইছে, তা নতুন সরকার খুব ভালো করেই জানে। খুব শীঘ্রই এই সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত রিপোর্ট মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়া হবে। এই পাশ-ফেল প্রথা চালু হলে লাভটা কার হবে? লাভ হবে বাংলার আগামী প্রজন্মের। পরীক্ষা আর ফেল করার একটা সুস্থ ভয় যখন মনের মধ্যে থাকবে, তখন ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে পড়াশোনার প্রতি হারিয়ে যাওয়া আগ্রহ আবার দ্বিগুণ গতিতে ফিরে আসবে। অভিভাবকেরা নিশ্চিন্ত হতে পারবেন যে তাঁদের সন্তানরা স্কুলে গিয়ে আসলেও কিছু শিখছে। তৃণমূলের জমানায় শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর থেকে মানুষের যে ভরসা সম্পূর্ণ উঠে গিয়েছিল, বিজেপি সরকারের এই একটি পদক্ষেপেই সেই হারিয়ে যাওয়া বিশ্বাস আর সম্মান আবার পুনরুত্থিত হবে।
শিক্ষা কোনো খয়রাতি বা দান নয়, শিক্ষা হলো একটি জাতির মেরুদণ্ড। আর সেই মেরুদণ্ডকে সোজা করতে শুভেন্দু অধিকারীর এই মাস্টারস্ট্রোক বাংলার ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। নকল মেধার দিন শেষ, এবার শুরু হচ্ছে যোগ্যতার জয়গান।
আপনার কী মনে হয়? স্কুলগুলোতে পাশ-ফেল প্রথা ফিরিয়ে আনার এই সিদ্ধান্ত কি ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ গড়ার ক্ষেত্রে সবথেকে বড় পদক্ষেপ? কমেন্ট বক্সে আপনার মূল্যবান মতামত জানান।