একটি ছবিতে দেখা যায়, কয়েকজন মুসলিম নারী হিজাব ও হাতে দস্তানা পরে খাবার খাচ্ছেন। ছবিটি দেখেই তসলিমা নাসরিন ধর্মীয় অনুশাসন এবং নারীর স্বাধীনতা নিয়ে তীব্র মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্যের মূল প্রশ্ন—একজন নারী তার শরীরের কোন অংশ ঢাকবেন, কীভাবে পোশাক পরবেন, কিংবা কীভাবে জীবনযাপন করবেন, এই সিদ্ধান্তটা কি তাঁর নিজের হওয়া উচিত, নাকি সমাজ ও ধর্মীয় কর্তৃত্ব সেই সিদ্ধান্ত ঠিক করে দেবে? তসলিমার মন্তব্যে আরও উঠে আসে পরকাল, জান্নাত এবং ৭২ হুরের প্রচলিত ধারণা। তিনি এই ধরনের ধর্মীয় বিশ্বাসকে রূপকথার সঙ্গে তুলনা করে প্রশ্ন তোলেন, মৃত্যুর পর মানুষ কোথায় যাবে, কিংবা সেখানে কী হবে, এসব নিয়ে বর্তমান জীবনের স্বাধীনতাকে নিয়ন্ত্রণ করা কতটা যুক্তিসঙ্গত?
অবশ্য এই বক্তব্য নিয়েই তৈরি হয়েছে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক। কারণ একদিকে যেমন অনেকে তসলিমা নাসরিনের বক্তব্যকে নারীর স্বাধীনতা এবং মানবাধিকারের পক্ষে অবস্থান হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে অনেকেই মনে করছেন, এ ধরনের মন্তব্য মুসলিমদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও অনুভূতিকে আঘাত করতে পারে। বিশ্বের বহু মুসলিম নারী নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাস, সংস্কৃতি বা ব্যক্তিগত পছন্দ থেকে হিজাব পরেন। আবার কিছু সমাজে নারীদের পোশাক নিয়ে সামাজিক বা পারিবারিক চাপও থাকে। অর্থাৎ একই পোশাকের পেছনে ভিন্ন মানুষের ভিন্ন অভিজ্ঞতা থাকতে পারে।
একজন নারী যদি নিজের ইচ্ছায় হিজাব পরেন, সেটি তাঁর ব্যক্তিগত অধিকার।
আবার কেউ যদি হিজাব পরতে না চান, তাঁকেও কি সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা দেওয়া হচ্ছে? এই জায়গাতেই ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিস্বাধীনতার মধ্যে বিতর্ক তৈরি হয়। তসলিমা নাসরিন তাঁর বক্তব্যে আরও দাবি করেছেন, ধর্মীয় কর্তৃত্বের মাধ্যমে মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হয়। তাঁর সমালোচনার লক্ষ্য শুধু সাধারণ ধর্মবিশ্বাসী মানুষ নয়; বরং তিনি বারবার ধর্মীয় কর্তৃত্ববাদ এবং ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। সমালোচকদের একটি অংশ মনে করেন, ধর্মের সমালোচনা করতে গিয়ে সাধারণ মুসলিম নারী ও পুরুষের বিশ্বাসকে একসঙ্গে ‘ধর্মান্ধতা’ হিসেবে দেখানো ঠিক নয়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বিতর্কের সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতনের অভিযোগও টেনে আনছেন অনেকে। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন, নারীদের পর্দার মধ্যে রাখার কথা বলা হলেও, কিছু ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু যৌন নির্যাতনের অভিযোগ কেন দেখা যায়?
