Tensions Flare in Sandeshkhali: Allegations of ‘Goonda Raj’ Against Trinamool; BJP Candidate Rekha Patra at the Police Station!

সন্দেশখালিতে উত্তাপ: তৃণমূলের বিরুদ্ধে ‘গুন্ডারাজ’-এর অভিযোগ, থানায় বিজেপি প্রার্থী রেখা পাত্র!

সপ্তাহ পেরোলেই পশ্চিমবঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে প্রথম দফার ভোট। আর তার আগে যে কদিন সময় রয়েছে তাতে জোর কদমে প্রচার কাজ চালাতে ব্যস্ত প্রার্থীরা। তেমনই হিঙ্গলগঞ্জের বিজেপি প্রার্থী রেখা পাত্র-ও নিজের প্রচার কাজে মনোনিবেশ করেছেন। আর এখানেই সমস্যার সূত্রপাত! যার জেরে সন্দেশখালির লড়াকু মুখ তথা হিঙ্গলগঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী রেখা পাত্র আবারও খবরের শিরোনামে। এবার তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরাসরি ‘অত্যাচার’ ও হুমকির অভিযোগ তুলে থানায় দ্বারস্থ হলেন তিনি। রেখা পাত্রের অভিযোগ, হিঙ্গলগঞ্জে নির্বাচনী প্রচার চালানোর সময় তাকে ও তার কর্মীদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি, এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব সইদুল্লা গাজী ও তার দল-বল সাধারণ মানুষকে ভয় দেখাচ্ছে এবং বিজেপি সমর্থকদের ওপর মানসিক ও শারীরিক চাপ সৃষ্টি করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

তার কথায়, “তৃণমূল কংগ্রেসের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গিয়েছে। ওরা ভয় পেয়েছে, তাই এখন আমাদের কর্মীদের মারধর করছে আর আমাকে প্রচারে বাধা দিচ্ছে। আমি সন্দেশখালির মেয়ে, ধমক-চমক দিয়ে আমাকে বসানো যাবে না। সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার চালানো হচ্ছে। বাড়ির মা-বোনেদের ভয় দেখানো হচ্ছে যাতে তারা বিজেপির প্রচারে না আসে। পুলিশ প্রশাসন সব দেখছে, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।” তিনি আরও বলেন, “আমরা থানায় সইদুল্লা গাজীর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে এসেছি, কারণ আইনের ওপর আমার ভরসা আছে। কিন্তু পুলিশ যদি কাজ না করে, তবে আমরা পথ অবরোধ করবো, আন্দোলন করবো। প্রতিটি অত্যাচারের হিসাব এবার ব্যালট বক্সে হবে। শেখ শাহজাহানরা জেলে থাকলেও তাদের চ্যালা-চামুণ্ডারা এখনও হিঙ্গলগঞ্জের গ্রামে গ্রামে সাধারণ মানুষের ওপর জুলুম চালাচ্ছে। আমরা এই গুন্ডারাজ বন্ধ করতে লড়াই করছি এবং এই লড়াই চলবে।” এ প্রসঙ্গে তৃণমূলের তরফে বলা হয়েছে, আগামী ২৯শে এপ্রিল হিঙ্গলগঞ্জে ভোট। মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে সেই ভোট দান করবেন। এরপর ৪ঠা মে রেজাল্ট বেরোবে। আর তারপর রেখা পাত্রকে থানাতেই থাকতে হবে, তাই এখন থেকেই তিনি থানায় থাকার অভ্যাস করছেন।

তৃণমূলের তরফে সত্যিই ভয় দেখানো হচ্ছে কিনা তা জিজ্ঞেস করা হলে তাদের দাবি, প্রতিটি সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধি জানেন দলের মানুষের ব্যবহার কেমন। তাই নতুন করে নিজেদের দলের প্রসঙ্গে আর কিছুই বলার নেই তাদের। আসলে রেখা পাত্র সন্দেশখালীর মানুষ তাই হিঙ্গলগঞ্জ তার কাছে অচেনা মাটি। ফলে এমনটা বলাই স্বাভাবিক। এতে তাদের কোনো সমস্যা নেই। যদিও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের অনেকেই রেখা পাত্রের থানায় গিয়ে এমন অভিযোগ জানানোর ঘটনাটি কেবল একজন প্রার্থীর নিছক পুলিশি অভিযোগ হিসেবে দেখছেন না। বরং, তাদের অনেকেই এটি বর্তমান বাংলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক গভীর সংকটের প্রতিফলন বলেও মনে করছেন। আসলে যে সন্দেশখালি গত কয়েক মাস ধরে গোটা দেশের বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছিল, সেই আন্দোলনের মুখ যখন হিঙ্গলগঞ্জের বিজেপি প্রার্থী হিসেবে থানায় দাঁড়ান, তখন বুঝতে হবে লড়াইটা আর কেবল ভোটের নেই—লড়াইটা হয়ে দাঁড়িয়েছে অস্তিত্ব রক্ষার। তাছাড়া, তৃণমূলের বিরুদ্ধে তার এই অভিযোগগুলো প্রমাণ করে যে, নিচুতলায় রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা এখনও কতটা প্রবল।

যদিও হিঙ্গলগঞ্জের এই লড়াই এখন কেবল রেখা পাত্র বনাম তৃণমূল প্রার্থীর লড়াই নয়। বরং, এই লড়াই হয়ে উঠেছে ‘ভয় বনাম নির্ভয়’-এর লড়াই। পুলিশ এই অভিযোগের ভিত্তিতে কতটা নিরপেক্ষ পদক্ষেপ নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে এই ঘটনা নিশ্চিতভাবে লোকসভা নির্বাচনের আগে হিঙ্গলগঞ্জের পারদ যে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল, তা বোঝাই যাচ্ছে। কিন্তু ব্যালট বক্সে সাধারণ মানুষ এই ‘অত্যাচার’ না কি ‘উন্নয়ন’—কোনটিকে বেছে নেয়, তার উত্তর মিলবে রেজাল্টের দিন। তবে রেখা পাত্রের এই থানায় পৌঁছে যাওয়ার ঘটনা স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে, সন্দেশখালির আগুন এখন হিঙ্গলগঞ্জের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়েছে, যা দমানো শাসক শিবিরের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *