The BJP government's first budget aimed at building a 'Sonar Bangla'! However, it is not just the government's budget; this time, Bengal has received a 'people's budget'!

সোনার বাংলা গড়ার লক্ষে বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেট! তবে শুধু সরকারের বাজেট নয় এবার বাংলা পেল জনতার বাজেট !

বাংলার সাধারণ মানুষের ভাগ্যবদল এবং এক নতুন উন্নত পশ্চিমবঙ্গ গড়ার লক্ষ্যে পেশ হলো নতুন সরকারের প্রথম বাজেট। বিধানসভার অলিন্দে দাঁড়িয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত যে সমস্ত জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের ঘোষণা করলেন, তা এককথায় নজিরবিহীন। সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ মেটানো থেকে শুরু করে বেকার যুবকদের মাসিক ভাতা, নারীদের জন্য অন্নপূর্ণা যোজনা এবং রাজ্যের ভৌগোলিক মানচিত্র বদলে দিয়ে ৫টি নতুন জেলা গঠন—এই বাজেটে রয়েছে এক নতুন ভোরের রূপরেখা। নতুন সরকারের এই প্রথম বাজেটের শীর্ষ ১০টি বড় ঘোষণা ঠিক কী কী? কীভাবে এই বাজেট আপনার জীবনে প্রভাব ফেলতে চলেছে? আসুন এক নজরে দেখে নেওয়া যাক ২০২৬ সালের এই বাজেটের প্রধান ১০টি মাস্টারস্ট্রোক ঘোষণা:

১. সরকারি কর্মচারীদের ডিএ একধাক্কায় ৩৮% :

রাজ্য সরকারি কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে একধাক্কায় ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) বৃদ্ধির ঐতিহাসিক ঘোষণা করেছে সরকার। এর ফলে কর্মীরা আগে যেখানে ১৮ শতাংশ ডিএ পেতেন, এবার থেকে তাঁরা মোট ৩৮ শতাংশ হারে ডিএ পাবেন। আগামী ১ অক্টোবর থেকেই এই নতুন সুবিধা চালু হতে চলেছে।

২.৫ নতুন জেলা ও ৪ বিমানবন্দর:
প্রশাসনিক কাজের সুবিধার জন্য পশ্চিমবঙ্গের মানচিত্র বদলে দিয়ে নতুন ৫টি জেলা গঠনের ঘোষণা করা হয়েছে। জেলাগুলি হলো— কলকাতা, বসিরহাট, সুন্দরবন, জঙ্গিপুর ও আরামবাগ। এর পাশাপাশি টুঙ্গিদিঘি, কামারপুকুর, কোলাঘাট, বেলদাসহ মোট ১০টি নতুন পুরসভা এবং কাঁথিতে নতুন পুলিশ জেলা গঠিত হবে। রাজ্যের ৪টি জেলায় তৈরি হবে নতুন বিমানবন্দর।

৩. সরকারি চাকরিতে ১ লক্ষ মেগা নিয়োগ:

বেকারত্ব দূর করতে রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দফতরে ১ লক্ষ শূন্যপদ পূরণের ঘোষণা করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩০ শতাংশ পদ মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। এছাড়া ২০ হাজার পুলিশ কর্মী এবং ৫০ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগ করা হবে।

৪. বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য ‘ভরসা’ প্রকল্প:

রাজ্যের ২১ থেকে ৪৫ বছর বয়সী যোগ্য ও শিক্ষিত কর্মহীন যুবকদের পাশে দাঁড়াতে চালু হচ্ছে ‘ভরসা কর্মসূচি’। এই যোজনার অধীনে স্নাতকদের প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা আর্থিক ভাতা । অন্যান্য যোগ্য আবেদনকারীদের জন্য প্রতি মাসে ২০০০ টাকা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে।

৫. নারীশক্তি ও সামাজিক ভাতার মেগা ধামাকা:

অন্নপূর্ণা যোজনায় মা-বোনেদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার জন্য বাজেটে রেকর্ড ৩৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। মহিলাদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বাস পরিষেবা চালু হচ্ছে, যার জন্য দেওয়া হবে বিশেষ ‘পিঙ্ক কার্ড’।
এছাড়া গর্ভবতী মায়েদের জন্য ২১ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি ৬টি পুষ্টি কিট দেওয়া হবে। শুধু তাই নয় উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে অবিবাহিত ছাত্রীদের দেওয়া হবে এককালীন ৫০ হাজার টাকা।

প্রবীণ, বিধবা এবং বিশেষভাবে সক্ষমদের মাসিক পেনশন ৫০০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। এছাড়াও আশা কর্মীদের ৫ হাজার এবং সিভিক ভলান্টিয়ার, গ্রিন পুলিশ ও হোমগার্ডদের ভাতা ২ হাজার টাকা করে বৃদ্ধি পেয়েছে।

৬. শিক্ষা ক্ষেত্রে আধুনিকীকরণ:

আদর্শ বিদ্যালয় তৈরিতে ২১০০ কোটি টাকা বরাদ্দের পাশাপাশি শিলিগুড়িতে বিশ্বমানের IIT এবং IIM গড়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ঝাড়গ্রাম ও বাঁকুড়ায় দুটি নতুন কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় এবং প্রতি জেলায় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য ফ্রি কোচিং সেন্টার তৈরি হবে। মিড-ডে মিলে পড়ুয়াপিছু বরাদ্দ বাড়িয়ে ১০ টাকা করা হয়েছে।

৭. স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে ‘উত্তরবঙ্গ এইমস’ :

স্বাস্থ্য পরিকাঠামো মজবুত করতে উত্তরবঙ্গে একটি অত্যাধুনিক AIIMS বা এইমস এবং ক্যানসার হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে। এছাড়া ৫টি নতুন মেডিকেল হাব এবং সুন্দরবনে চালু হবে মোটর বোট অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা। ভেলোর ও মুম্বইয়ে চিকিৎসা করাতে যাওয়া রাজ্যের রোগীদের পরিবারের জন্য থাকার বিশেষ ব্যবস্থাও করবে সরকার।

৮. শিল্পায়ন:

সেমিকন্ডাক্টর ও ইভি ফ্যাক্টরি:
রাজ্যের শিল্পায়নে জোয়ার আনতে দুর্গাপুরে গড়ে উঠবে অত্যাধুনিক সেমিকন্ডাক্টর ইউনিট। উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তৈরি হবে ব্যাটারিচালিত বা ইলেকট্রিক গাড়ির কারখানা। এছাড়া শিলিগুড়িতে আইটি পার্ক ও লজিস্টিক হাব এবং দক্ষিণ দিনাজপুরে একটি টেক্সটাইল হাব তৈরি করা হবে।

৯. ঐতিহাসিক ‘শক্তিপীঠ সার্কিট’:

বাংলার ধর্মীয় পর্যটনকে চাঙ্গা করতে কালীঘাট, তারাপীঠ, ফুল্লরা ও বক্রেশ্বরকে একত্রিত করে একটি চমৎকার ‘শক্তিপীঠ সার্কিট’ গড়ে তোলার মহতী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

১০. শ্যামাপ্রসাদের ঐতিহ্য সংরক্ষণ:

বাংলার ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে একটি নতুন হেরিটেজ কমিশন গঠনের পাশাপাশি, মহান রাষ্ট্রনায়ক ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পৈত্রিক বাড়ি সংরক্ষণের জন্য বাজেটে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

ভোটব্যাংকের সস্তা রাজনীতিকে দূরে সরিয়ে রেখে, বাংলাকে ভারতের প্রথম সারির উন্নত রাজ্য হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে শুভেন্দু সরকারের এই প্রথম বাজেটকে আপনি ১০ নম্বরের মধ্যে কত দেবেন? কমেন্ট বক্সে অবশ্যই জানান আপনার মূল্যবান মতামত ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *