This special campaign will run from August 9 to August 17. The state government has appealed for the national flag to be hoisted at every home.

৯ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত চলবে এই বিশেষ অভিযান প্রতিটি বাড়িতে জাতীয় পতাকা তোলার আবেদন জানিয়েছে রাজ্য সরকার

স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে এবার বাংলায় নতুন মাত্রা যোগ করতে চলেছে হর ঘর তিরঙ্গা কর্মসূচি। ৯ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে এই কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের দাবি, জাতীয় পতাকার মাধ্যমে স্বাধীনতার চেতনা ও দেশপ্রেমকে ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।এই কর্মসূচির প্রচারের সূচনা হবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুর থেকে। ৭ আগস্ট তিনি জাতীয় পতাকা হাতে তিরঙ্গা যাত্রায় অংশ নেবেন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে পদযাত্রা করবেন। একই সঙ্গে রাজ্যবাসীর কাছেও কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানাবেন।

নবান্ন ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসন ও পুরসভাগুলির জন্য বিশেষ নির্দেশিকা জারি করেছে। বিভিন্ন জেলায় কর্মসূচি সফল করতে অর্থ বরাদ্দের পাশাপাশি জাতীয় পতাকা বিতরণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রশাসনিক স্তর থেকে কর্মসূচিকে বিস্তৃতভাবে বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।শুধু পতাকা উত্তোলনেই সীমাবদ্ধ থাকছে না এই উদ্যোগ। প্রভাতফেরি, দেশাত্মবোধক গান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্মরণে নানা আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ফলে স্বাধীনতা দিবসকে ঘিরে এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরির লক্ষ্য স্পষ্ট। সরকারি দফতর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার, দোকান এবং অন্যান্য জনসমাগমস্থলেও এই কর্মসূচির প্রভাব দেখা যাবে। বন্দে মাতরম ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশনের পাশাপাশি প্রতিটি বাড়ি ও প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনে উৎসাহ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে কর্মসূচির পরিধি আরও বিস্তৃত হতে পারে।

এর আগে হর ঘর তিরঙ্গা মূলত কেন্দ্রের উদ্যোগে এবং বিজেপির সাংগঠনিক কর্মসূচি হিসেবে বাংলায় পালিত হতো। তবে এবার রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর প্রথমবার সরকারিভাবে এই কর্মসূচি আয়োজন করা হচ্ছে। তাই রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক দুই দিক থেকেই এই উদ্যোগের আলাদা গুরুত্ব তৈরি হয়েছে। স্বাধীনতার মাসে এই কর্মসূচিকে ঘিরে রাজ্যে দেশাত্মবোধ, সাংস্কৃতিক অংশগ্রহণ এবং প্রশাসনিক সক্রিয়তার এক নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এই উদ্যোগ কতটা সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারে, সেদিকেও নজর থাকবে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, হর ঘর তিরঙ্গা কর্মসূচিকে এবার শুধুমাত্র একটি সরকারি অনুষ্ঠান হিসেবে দেখলে ভুল হবে। স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষের মধ্যে জাতীয় ঐক্য ও দেশপ্রেমের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি সরকারের জনসংযোগ আরও শক্তিশালী করার একটি প্রচেষ্টাও এতে দেখা যাচ্ছে।বিশেষভাবে মুখ্যমন্ত্রীর ভবানীপুর থেকে নিজে পদযাত্রায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তেরও আলাদা তাৎপর্য রয়েছে। সরকারের শীর্ষ নেতৃত্ব সরাসরি মাঠে নেমে মানুষের সঙ্গে যুক্ত হতে চাইছে এই বার্তাই তুলে ধরতে চায় প্রশাসন। ফলে কর্মসূচিটি শুধুমাত্র সরকারি দফতরের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে জনঅংশগ্রহণের উৎসবে পরিণত করার চেষ্টা স্পষ্ট।

৯ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এই কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ কতটা হয়। কারণ, যেকোনও জনমুখী উদ্যোগের সাফল্য শেষ পর্যন্ত নির্ভর করে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের উপর। তাই স্বাধীনতার আবেগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ মানুষের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *