দীর্ঘ কয়েক দশকের বঞ্চনা, অনিশ্চয়তা আর রাজনৈতিক বিভ্রান্তির মেঘ কাটিয়ে অবশেষে নতুন ভোরের সাক্ষী থাকলেন মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষজন। “নাগরিকত্ব কাড়তে নয়, বরং সম্মানজনক নাগরিকত্ব প্রদান করতেই সিএএ আইন”— নিউটাউনের বিশেষ প্রশাসনিক মঞ্চ থেকে আরও একবার এই স্পষ্ট বার্তা দিলেন মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী। বহু প্রতিক্ষিত এই ক্ষণে উত্তর ২৪ পরগনার প্রায় ৩০০ জন মতুয়া শরণার্থীর হাতে ভারত সরকারের বৈধ্য নাগরিকত্ব সার্টিফিকেট তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে সিএএ নিয়ে এতদিন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার যে ভয় ও মিথ্যা অপপ্রচারের রাজনীতি তৈরি করেছিল, তা এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপে সম্পূর্ণ ধূলিসাৎ হয়ে গেল।
মতুয়াদের নাগরিকত্বের দাবি নিয়ে বিগত কয়েক বছর ধরেই উত্তাল থেকেছে বাংলার রাজ্য রাজনীতি। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই মতুয়াগড়ে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, বাংলাদেশ থেকে অত্যাচারিত হয়ে আসা শরণার্থীদের স্থায়ী নাগরিকত্ব দেবে কেন্দ্র। পরবর্তীতে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও একই অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন। কিন্তু করোনা অতিমারি এবং তৎকালীন তৃণমূল সরকারের কড়া বিরোধিতার কারণে এই প্রক্রিয়ায় খানিকটা বিলম্ব হয়। এদিনের অনুষ্ঠানে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকাকে তীব্র ভাষায় বিঁধে শুভেন্দু অধিকারী স্মরণ করিয়ে দেন যে, কীভাবে সিএএ বিরোধিতার নামে ট্রেন, বাস ও সরকারি সম্পত্তি জ্বালিয়ে দিয়ে রাজ্যে এক নৈরাজ্যের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল।
তবে অতীতের সমস্ত বাধা কাটিয়ে নব্য সরকারের আমলে শুরু হয়ে গেল অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার কাজ। মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন— দেশের প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিটি কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে, এবং আগামী দিনগুলোতে দফায় দফায় আরও হাজার হাজার মতুয়া ও শরণার্থী পরিবারকে সম্মানজনক নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। বিগত জমানার অপপ্রচার ও রাজনৈতিক স্বার্থের শিকার না হয়ে, সাধারণ মানুষকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সিএএ-র মাধ্যমে নাগরিকত্বের আবেদন জানানোর আহ্বান জানান শুভেন্দু অধিকারী। তো সিএএ ঘিরে সমস্ত মিথ্যা ভীতি দূর করে মতুয়া সমাজের মুখে হাসি ফুটিয়ে তোলার এই পদক্ষেপ সত্যিই এক প্রগতিশীল, নিরাপদ ও সুশাসিত ভারতের এক নতুন ইতিহাস রচনা করল।
