The Commission takes a major step to ensure transparency in voting by Muslim voters in Bengal.

বাংলায় মুসলিম ভোটারদের ভোটদানে স্বচ্ছতা আনতে বিরাট পদক্ষেপ কমিশনের! ছাপ্পা আর অবৈধ ভোট আটকাতেই কি এমন পদক্ষেপ?

গণতন্ত্রের শ্রেষ্ঠ উৎসব দোরগোড়ায়। আর এই উৎসবকে কলঙ্কমুক্ত করতে এবার কোমর বেঁধে নেমেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। কিন্তু অদ্ভুত বিষয় দেখুন, যখনই ভোটপ্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ করার চেষ্টা হয়, তখনই কোনো কোনো রাজনৈতিক মহলের বুক ধড়ফড়ানি বেড়ে যায়! মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের একটি নতুন নির্দেশিকা ঘিরেই এখন তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। বিরোধীরা একে বলছেন ‘হয়রানি’, কিন্তু সাধারণ ভোটাররা বলছেন ‘সুরক্ষা’। কেন এই দু’দফায় পরিচয় যাচাই? কেন বিএলও এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিয়ে এত ভয়? আজ আমরা এই ভিডিওতে পুরো পর্দাফাঁস করব।

নিয়মটা আসলে খুব সহজ, যদি আপনার মনে কোনো চুরির ভয় না থাকে। কমিশন জানিয়েছে, এবার থেকে বুথে ঢোকার মুখে ভোটারদের পরিচয় যাচাই হবে দু’টি স্তরে। প্রথম ধাপে গেটেই থাকবেন বন্দুকধারী কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। কেন? যাতে বাইরের কোনো অনুপ্রবেশকারী বা ভুয়া ভোটার বুথের ভেতরে ঢুকে জবরদস্তি করতে না পারে। জওয়ানরা শুধু দেখবেন আপনার কাছে কমিশনের বৈধ পরিচয়পত্রের মূল কপি বা অরিজিনাল কপি আছে কি না। সেখানে পাশ করলে দ্বিতীয় ধাপে আপনার পরিচয় নিশ্চিত করবেন খোদ বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও। তিনি মিলিয়ে দেখবেন যে ব্যক্তি ভোট দিতে এসেছেন, তিনি আসলেও সেই ভোটার কি না। অর্থাৎ, জাল ভোট বা রিগিংয়ের যে সংস্কৃতি দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে এক শ্রেণির নেতা লালন-পালন করে এসেছেন, তার কফিনে শেষ পেরেকটা পুঁতে দিতে চাইছে কমিশন।

এবার আসি আসল কথায়। একটি বিশেষ রাজনৈতিক মহল প্রচার শুরু করেছে যে এটি নাকি নির্দিষ্টভাবে ‘মুসলিম’ বা সংখ্যালঘু ভোটারদের আটকানোর ছক! আচ্ছা বলুন তো, পরিচয়পত্র তো হিন্দু-মুসলিম-শিখ-ইশাই—সবার জন্যই বাধ্যতামূলক। তাহলে একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের নাম নিয়ে কেন রাজনীতি করা হচ্ছে? উত্তরপ্রদেশের উদাহরণ টানা হচ্ছে, বলা হচ্ছে সেখানে নাকি ডাবল চেকিংয়ে বাধা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবটা কি জানেন? বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশে এই কড়াকড়ির ফলেই সাধারণ শান্তিপ্রিয় মুসলিম মানুষ শান্তিতে ভোট দিতে পেরেছিলেন, কোনো সমাজবিরোধী তাদের হয়ে ভোট দিয়ে দিয়ে আসেনি। আসলে ভয়টা সাধারণ ভোটারের নয়, ভয়টা তাদের যারা মৃত ব্যক্তিদের নামে বা এলাকাছাড়া মানুষের নামে ছাপ্পা ভোট দিয়ে জেতার স্বপ্ন দেখেন। জ্ঞানেশ কুমারের এই সিদ্ধান্ত সেই অশুভ শক্তির বিরুদ্ধেই এক বড় সার্জিক্যাল স্ট্রাইক।

বিরোধীরা বলছেন এটি নাকি হয়রানি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, দেশের জওয়ানরা যদি আপনার পরিচয়পত্র দেখে আপনাকে ভেতরে যেতে দেন, তাতে আপনার সম্মানহানি হবে কেন? বরং সাধারণ মানুষ তো কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দেখে ভরসা পায়। এর আগে ঘোষণা করা হয়েছিল বিএলও বুথের ১০০ মিটারের বাইরে থাকবেন। এবার সেই ১০০ মিটারের গণ্ডির মধ্যেই নিরাপত্তা এবং স্বচ্ছতার এক দুর্ভেদ্য দেওয়াল তোলা হচ্ছে। বিজেপির পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হয়েছে—’ভোট হোক স্বচ্ছ এবং অবাধ’। আর নির্বাচন কমিশন ঠিক সেই কাজটাই করছে। যারা বছরের পর বছর ভোট লুঠের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে রেখেছে, তাদের কাছে এই ‘ডাবল চেকিং’ তো যমদূত মনে হবেই! কারণ পরিচয় একবার নয়, দু’বার যাচাই হলে ‘বেআইনি’ কারবার যে ধরা পড়ে যাবে।
পরিশেষে একটাই কথা। সাধারণ মানুষের হয়রানি নয়, বরং এক শ্রেণির নেতার রাজনৈতিক দেউলিয়াপনাই আজ স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যারা নির্বাচন কমিশনকে ‘বেহায়া’ বলছেন, তারা আসলে ভয় পাচ্ছেন স্বচ্ছতাকে। ভারতীয় গণতন্ত্রে একজন নাগরিকের একটিই ভোট। সেই অধিকার রক্ষা করতেই মোতায়েন থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী, কাজ করবেন বিএলও-রা। তাই বিভ্রান্ত হবেন না। আপনার কাছে যদি বৈধ পরিচয়পত্র থাকে, তবে বুক ফুলিয়ে বুথে যান। আপনার সুরক্ষা এবং আপনার ভোটের মর্যাদা রক্ষা করতেই কমিশনের এই কড়াকড়ি। মনে রাখবেন, স্বচ্ছ নির্বাচনই পারে এক শক্তিশালী সরকার উপহার দিতে। আর যারা এই নিয়মকে ভয় পাচ্ছেন, তাদের জন্য জনগণের একটাই বার্তা—যতই চেষ্টা করুন, এবার আর ছাপ্পা চলবে না!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *