SIR নিয়ে এতদিন যে প্রশ্ন উঠছিল, এবার তার জবাব দিল নির্বাচন কমিশন!

SIR নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। এর মধ্যেই শনিবার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল নির্বাচন কমিশন। কমিশনের দাবি, ২০২৫ সালের ২৪ জুন দেশজুড়ে SIR চালানোর যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, সেটি তিন নির্বাচন কমিশনারের সর্বসম্মত অনুমোদনেই জারি হয়েছিল। সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে এমন রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছিল যে SIR এবং ভোটার তালিকা সংক্রান্ত কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল।

তারপরই শনিবার ফুল বেঞ্চের বৈঠক। বৈঠকের পর কমিশন জানাল, গত কয়েক মাসে SIR-সহ গুরুত্বপূর্ণ যে সিদ্ধান্তগুলি নেওয়া হয়েছে, সেগুলির ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ কমিশনের অনুমোদন ছিল। প্রথমে বিহারে SIR-এর প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরে পশ্চিমবঙ্গ-সহ আরও বেশ কিছু রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে তা সম্প্রসারিত করা হয়। কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, পরবর্তী পর্যায়েও SIR-এর সময়সূচি ঘোষণার ক্ষেত্রে তিন কমিশনারের সম্মতি ছিল। তাদের দাবি, ২০২৬ সালের ২৭ মে সুপ্রিম কোর্টের রায়েও SIR সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বহাল ছিল।

দুই নির্বাচন কমিশনারের ক্যাবিনেট সচিবকে লেখা চিঠি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। এ বিষয়ে কমিশন জানিয়েছে, ওই চিঠিগুলি কোনও নীতিগত সিদ্ধান্ত বা IT বিভাগের নীতি নিয়ে ছিল না। বরং নির্বাচন কমিশনে ডেপুটেশনে থাকা একজন আধিকারিকের কাজ বণ্টন সংক্রান্ত প্রশাসনিক বিষয় নিয়েই চিঠি লেখা হয়েছিল বলে কমিশনের দাবি। কমিশনের বক্তব্য, ওই আধিকারিক কাজ বণ্টনের যে নির্দেশ দিয়েছিলেন, দুই কমিশনারের হস্তক্ষেপের পরে সেটি কার্যকর হয়নি। তবে শনিবারের বৈঠকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলির একটি হল, SIR-এর প্রক্রিয়ায় কিছু পরিবর্তন।

ধরুন, কোনও ভোটার ‘Unmapped’ বা ‘Logical Discrepancy’ সংক্রান্ত নোটিস পেলেন। আগে নথি জমা দেওয়ার জন্য তাঁকে ERO দফতরে যেতে হতে পারে এমন আশঙ্কা ছিল। এখন কমিশন জানিয়েছে, প্রয়োজনে BLO-রা ভোটারের বাড়িতে গিয়ে নথি সংগ্রহ করবেন এবং ECINet-এ আপলোড করবেন। শুনানির প্রয়োজন হলে সেটিও সম্ভব হলে অনলাইনে করার কথা জানিয়েছে কমিশন। বিশেষ করে যারা দূরে থাকেন বা প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে অফিসে পৌঁছতে সমস্যায় পড়েন, তাঁদের জন্য অনলাইন শুনানির পরিকাঠামো আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এমনকি ভোটারের অনুমতি থাকলে পরিবারের কোনও প্রাপ্তবয়স্ক সদস্য তাঁর হয়ে শুনানিতে অংশ নিতে পারবেন। তবে কমিশন জানিয়েছে, প্রত্যেক ক্ষেত্রে শুনানি হবে না। প্রয়োজন মনে করলে ERO শুনানির নির্দেশ দিতে পারবেন।

শুধু তাই নয়। গৃহহীন মানুষ, পরিযায়ী শ্রমিক, দরিদ্র মানুষ এবং রাতের আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা নাগরিকদের জন্য পর্যাপ্ত হেল্প ডেস্ক এবং বিশেষ ক্যাম্প করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের। SIR-এর ক্ষেত্রে Form 6-এর সঙ্গে থাকা ঘোষণাপত্রও বহাল রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন। SIR শেষ হয়ে গেলেই ভোটার তালিকায় নাম তোলার সুযোগ শেষ হয়ে যাচ্ছে না। কমিশনের দাবি, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ-সহ ২০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে SIR শেষ হওয়ার পরেও যদি কারও নাম বাদ পড়ে যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ERO-র কাছে Continuous Updation-এর মাধ্যমে নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করা যাবে। নতুন ভোটার এবং প্রথমবার ভোট দিতে চলা নাগরিকরাও এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।

শুধু SIR নয়, নিজেদের কাজের পদ্ধতিতেও পরিবর্তনের কথা জানিয়েছে কমিশন। এখন থেকে কমিশনের বৈঠকের আলোচ্যসূচি আগেই সব কমিশনারকে জানাতে হবে।
বৈঠক শেষ হওয়ার পর তৈরি করতে হবে লিখিত নথি বা মিনিটস। এছাড়াও কমিশনাররা নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের যে নির্দেশ দেবেন, তা যথাযথভাবে পালন করতে হবে বলে জানানো হয়েছে। ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে আধিকারিকদের APAR সম্পূর্ণ করা এবং বিদেশ সফরের আগে কমিশনের অনুমোদন নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *