অবশেষে অবসান হলো দীর্ঘ প্রতীক্ষার। পিসি-ভাইপোর সিন্ডিকেট রাজ আর দুর্নীতির অন্ধকার কাটিয়ে বাংলা আজ দাঁড়িয়ে এক নতুন ভোরের দোরগোড়ায়। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই ঝোড়ো ব্যাটিং শুরু করলেন বাংলার ভূমিপুত্র শুভেন্দু অধিকারী। মাত্র পাঁচজন মন্ত্রীকে নিয়ে আয়োজিত প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই তিনি প্রমাণ করে দিলেন—এই সরকার কথা দেয় না, কাজ করে। যে বাংলা গত এক দশক ধরে বঞ্চনা আর অপশনের শিকার ছিল, সেখানে মাত্র ৪৫ দিনের ডেডলাইন বেঁধে দিয়ে পরিবর্তনের আসল রূপ দেখালেন শুভেন্দু সরকার। আসুন দেখে নিই, প্রথম বৈঠকেই জনহিতকর কোন ৬টি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল বিজেপি সরকার।
১. শহীদ সম্মান ও ন্যায়ের প্রতিশ্রুতি –
তৃণমূলের হার্মাদ বাহিনীর হাতে প্রাণ হারিয়েছেন বিজেপির শত শত নির্ভীক কর্মী। প্রথম বৈঠকেই সেই শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন, বিগত দিনে রাজনৈতিক হিংসায় অকালে ঝরে যাওয়া ৩২১ জন বিজেপি কর্মীর পরিবারের সম্পূর্ণ সামাজিক দায়িত্ব নেবে বর্তমান সরকার । পিসি-র রাজত্বে যারা বিচার পায়নি, শুভেন্দু সরকার তাদের বিচারের গ্যারান্টি দিচ্ছে।** খুনিদের ঠাঁই হবে জেলে, আর শহীদ পরিবারগুলো পাবে সম্মানের জীবন। এটাই হলো অন্ত্যোদয়—বিজেপি সরকারের আসল লক্ষ্য।
২. বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তর –
এতদিন অভিযোগ ছিল, ভোটব্যাংকের নোংরা রাজনীতির জন্য তৃণমূল সরকার বিএসএফ-কে সীমান্ত রক্ষা করতে বাধা দিত। অনুপ্রবেশকারীদের লাল গালিচা পেতে স্বাগত জানানো হতো। কিন্তু দিন বদলেছে। প্রথম ক্যাবিনেটেই মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, বিএসএফ-এর প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া আজ থেকেই শুরু হবে। আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে এই কাজ সম্পূর্ণ করার জন্য কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ভূমি ও রাজস্ব সচিবকে। বাংলার নিরাপত্তা মানে দেশের নিরাপত্তা—আর মোদী-শুভেন্দু ডাবল ইঞ্জিন সরকারে অনুপ্রবেশকারীদের জন্য বাংলার দরজা এখন চিরতরে বন্ধ।
৩. স্বাস্থ্য ও কেন্দ্রীয় প্রকল্পের অধিকার –
বাংলা এতদিন বঞ্চিত ছিল কেন্দ্রের দেওয়া আয়ুষ্মান ভারত থেকে। স্রেফ নিজের নাম জাহির করার তাগিদে কোটি কোটি মানুষের ৫ লক্ষ টাকার চিকিৎসার সুযোগ কেড়ে নিয়েছিল তৃণমূল। শুভেন্দু সরকার প্রথম দিনেই ঘোষণা করেছে—বাংলা এখন আয়ুষ্মান ভারতের অংশ। আর ‘না’ নয়, এখন থেকে দিল্লির টাকা সরাসরি বাংলার গরিব মানুষের চিকিৎসার কাজে লাগবে।
শুধু তাই নয়, পিএম কিষাণ, উজ্জ্বল যোজনা ৩.০ থেকে শুরু করে বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও—সব কেন্দ্রীয় প্রকল্প এখন থেকে বাংলার প্রতি ঘরে ঘরে পৌঁছাবে। পূর্বতন সরকারের জেলাশাসকরা যেসব ফাইল ধামাচাপা দিয়ে রেখেছিলেন, সেই ৮ লক্ষ ৬৫ হাজার আবেদন দ্রুত কেন্দ্রের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
৪. প্রশাসনিক সংস্কার ও আইনের শাসন –
প্রশাসনকে দল দাসে পরিণত করেছিল তৃণমূল। কিন্তু শুভেন্দু সরকার ফিরিয়ে আনছে সংবিধানের শাসন। এবার থেকে বাংলায় কার্যকর হবে ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ বা BNS । মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, প্রশাসনের আধিকারিকদের এখন কেন্দ্রীয় ট্রেনিং নিতে হবে। আইএএস এবং আইপিএস অফিসাররা আর কোনো দলের ক্যাডার হিসেবে কাজ করতে পারবেন না। সংবিধান অনুযায়ী কাজ হবে, গুন্ডারাজ নয়—আইনের শাসনই হবে শেষ কথা।
৫ . বেকারদের জন্য বড় উপহার ও স্বচ্ছতা –
২০১৫ সালের পর বাংলায় নিয়োগ যেন থমকে গিয়েছিল। মেধার বদলে চাকরি মিলত তৃণমূলী নেতাদের আশীর্বাদে বা লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে। সেই অচলাবস্থা কাটতে শুভেন্দু সরকার সরকারি চাকরির আবেদনের বয়স ৫ বছর বাড়িয়ে দিয়েছে। বেকার যুবকদের প্রতি সহানুভূতিশীল এই সিদ্ধান্ত বাংলার যুবসমাজের মনে নতুন আশার আলো জাগিয়েছে। আর লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ? তৃণমূল ভয় দেখিয়েছিল যে বিজেপি এলে প্রকল্প বন্ধ হবে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন—সব জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চলবে, তবে তা হবে স্বচ্ছভাবে। সিন্ডিকেট বা কাটমানি নয়, টাকা সরাসরি পৌঁছাবে প্রকৃত প্রাপকের অ্যাকাউন্টে।
এখানেই শেষ নয় আর জি করের বিচার থেকে শুরু করে ডিএ এবং সপ্তম পে কমিশন—সবটাই এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা তা বোঝা গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর কথা থেকেই । আগামী ক্যাবিনেট বৈঠকেই আসতে চলেছে আরও বড় ধামাকা। দুর্নীতিমুক্ত, সুরক্ষিত এবং উন্নত বাংলার স্বপ্ন সার্থক করতে বদ্ধপরিকর এই নতুন সরকার। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বাংলা আবার বিশ্বসভায় শ্রেষ্ঠ আসন নেবে—এটাই আজ বাংলার সাধারণ মানুষের বিশ্বাস।
