২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন শুধু একটি ভোট ছিল না, এ ছিল ক্ষমতার পালাবদলের এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ২০৭টি আসনে জয় পেয়ে বিজেপি গঠন করেছে সরকার। আর তৃণমূল কংগ্রেসকে বসতে হয়েছে বিরোধী আসনে। সবচেয়ে চমকে দেওয়া ঘটনা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত পরাজয়। যে ভবানীপুরকে এতদিন তাঁর অজেয় দুর্গ বলা হত, সেখানেও ভেঙেছে মিথ।নন্দীগ্রামেও হয়নি প্রত্যাবর্তন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটা শুধু ভোটে হার নয়, এটা মানুষের মানসিকতার বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত।
কিন্তু রাজনীতির পাশাপাশি এখন আলোচনায় এসেছে আরেকটি বিষয় জ্যোতিষশাস্ত্র। কারণ বহু মানুষ বিশ্বাস করেন, ক্ষমতার উত্থান-পতনের পিছনেও কাজ করে গ্রহের খেলা। নির্বাচনের ফল প্রকাশের সময় আকাশে তৈরি হয়েছিল এক বিশেষ যোগ ‘অঙ্গারক যোগ’। জ্যোতিষশাস্ত্রে মঙ্গল ও রাহুর সংযোগকে অত্যন্ত বিস্ফোরক বলে মনে করা হয়। অনেক জ্যোতিষীর মতে, এই যোগ পুরনো শক্তিকে ভেঙে নতুন শক্তির উত্থান ঘটায়। ঠিক সেটাই কি ঘটল বাংলায়?
কিছু জ্যোতিষী আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, এইবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভাগ্য কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে পারে। তাদের দাবি ছিল, গ্রহের অবস্থান স্পষ্টভাবে ক্ষমতার পরিবর্তনের দিকেই ইঙ্গিত করছিল। তবে মজার বিষয় হল, সব জ্যোতিষী কিন্তু একই কথা বলেননি। কলকাতার একাধিক খ্যাতনামা জ্যোতিষী দাবি করেছিলেন, মমতার জন্মছক অত্যন্ত শক্তিশালী। তাঁর ‘বিজয় স্থান’ নাকি অটুট ছিল। কেউ কেউ তো এমনও বলেছিলেন, তিনি চতুর্থবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হয়ে ইতিহাস গড়বেন! কিন্তু বাস্তবের ফল অন্য কথা বলেছে। এতেই প্রশ্ন উঠছে, গ্রহ কি সত্যিই সব বলে দেয়? নাকি মানুষের রায়ই শেষ কথা?
জ্যোতিষ বিশ্লেষণে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে শনিকে নিয়ে। কারণ ২০২৬ সালে শনির অবস্থান নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। জ্যোতিষ মতে, শনি হলেন বিচার ও জনমতের প্রতীক। আর শনির প্রতিকূল অবস্থান মানেই কঠিন পরীক্ষা, চাপ এবং জনরোষ। আর তারই প্রতিফলন দেখা গেছে ভোটবাক্সে। কিছু জ্যোতিষ বিশ্লেষণ বলছে, এই পতন স্থায়ী নাও হতে পারে। কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মছকে বৃহস্পতির অবস্থান তাঁকে এখনও একজন লড়াকু নেত্রী হিসেবে শক্তি দিচ্ছে। অর্থাৎ তিনি হয়তো এখন ক্ষমতার বাইরে, কিন্তু রাজনীতি থেকে হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি আবার বাংলার ক্ষমতায় ফিরতে পারবেন?জ্যোতিষীদের একাংশ বলছেন, হ্যাঁ, সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে সেই প্রত্যাবর্তন হবে ধীরগতির। তাঁকে দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। আগামী কয়েক বছর তাঁর জন্য হবে আত্মসমালোচনা, সংগঠন পুনর্গঠন এবং জনসংযোগ বাড়ানোর সময়। অর্থাৎ, এই হার হয়তো রাজনৈতিক সমাপ্তি নয়, বরং নতুন অধ্যায়ের শুরু।