বিজেপিকে সন্ন্যাসে না পাঠানো পর্যন্ত লড়াই চলবে! ফের রাস্তায় নামার হুঁশিয়ারি মমতার।

বিজেপিকে সন্ন্যাসে না পাঠানো পর্যন্ত লড়াই চলবে। প্রয়োজনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটার হুঁশিয়ারি দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার ফেসবুক লাইভে এসে একাধিক ইস্যুতে রাজ্যের বর্তমান বিজেপি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। একইসঙ্গে রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং আন্দোলনের অধিকার নিয়েও সরব হন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।

মমতার বক্তব্য, বিজেপি যদি মনে করে মিটিংয়ের অনুমতি না দিয়ে বা পুলিশ দিয়ে ভয় দেখিয়ে বিরোধীদের আন্দোলন থামিয়ে দেওয়া যাবে, তাহলে সেই ধারণা ভুল। তাঁর কথায়, “আপনাদের সন্ন্যাসে না পাঠানো পর্যন্ত আমার লড়াই থামবে না।” এরপরই আন্দোলনের বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “দেখা হবে রাস্তায়, রাস্তাই আমাদের রাস্তা দেখাবে।”

শুধু বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আক্রমণ নয়, পুলিশি ভূমিকা নিয়েও গুরুতর অভিযোগ তোলেন মমতা। তাঁর দাবি, বহু মানুষের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে এবং রাতের অন্ধকারে পুলিশ ডেকে গ্রেপ্তারের ভয় দেখানো হচ্ছে। এমনকী রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কাউকে এলাকা ছাড়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, আইনকে কার্যত ‘বেলাইন’ করে দেওয়া হয়েছে।

এদিন বিজেপিকে বর্জনের ডাকও দেন তৃণমূল নেত্রী। মমতার অভিযোগ, বর্তমান সরকার অন্যায় ও অত্যাচারের পথে হাঁটছে। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষ খুব শীঘ্রই এর জবাব দেবে। তবে এই অভিযোগগুলির বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কী বক্তব্য, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

মিটিং-মিছিলের অনুমতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মমতা। তাঁর প্রশ্ন, গণতান্ত্রিক দেশে রাজনৈতিক দলগুলি কেন নিজেদের কর্মসূচি করতে আদালতের অনুমতির মুখাপেক্ষী হবে? যাদবপুরের সাম্প্রতিক ঘটনাকে টেনে তিনি ছাত্র-যুবদের কর্মসূচি নিয়েও সরব হন। তাঁর অভিযোগ, স্বাধীনতা দিবসে পতাকা তুলতে যাওয়া ছাত্র-যুবদের আটক করা হয়েছিল।

বিজেপির বিরুদ্ধে স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস নিয়েও আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন তৃণমূল নেত্রী। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপের ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্ব করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।

হকার উচ্ছেদ অভিযান নিয়েও এদিন সরব হন মমতা। তাঁর অভিযোগ, বুলডোজার ব্যবহার করে বহু হকারের জীবন-জীবিকা বিপন্ন করা হয়েছে। হকারদের মুখের গ্রাস কেড়ে না নিয়ে তাঁদের জীবিকা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

সবশেষে মমতা বলেন, বাংলার সম্প্রীতির বন্ধন নষ্ট করা যাবে না। তাঁর হুঁশিয়ারি, রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে মানুষের অধিকার খর্ব করার চেষ্টা হলে বাংলাতেও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে উঠতে পারে। মমতার এই বার্তার পর আগামী দিনে পুলিশি পদক্ষেপ, মিটিং-মিছিলের অনুমতি এবং হকার উচ্ছেদ নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিরুদ্ধে তৃণমূলের আন্দোলনের কর্মসূচি কতটা জোরদার হয়, আগামী দিনে তৃণমূল কীভাবে পথে নামে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *