The RSS is set to gain greater clout in Bengal following the BJP's rise to power!

বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরই বাংলায় বাড়তে চলেছে RSS-এর দাপট !

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পরিবর্তনের ঠিক এক মাসের মাথায় এবার এক অবিশ্বাস্য এবং ঐতিহাসিক রেকর্ড! রাজ্যে নতুন সরকার আসতেই চারদিকের রাজনৈতিক সমীকরণ তো বদলাচ্ছেই, কিন্তু তার চেয়েও বড় চমক তৈরি হয়েছে মাটির স্তরে। তৃণমূলের উঁচুতলার ভাঙন এবং সাংসদদের এনডিএ জোটকে সমর্থনের আবহেই, এবার আমজনতার মধ্যে আরএসএস বা রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘে যোগ দেওয়ার এক অভূতপূর্ব হিড়িক পড়ে গিয়েছে। সূত্রের দাবি, সঙ্ঘের সাথে যুক্ত হতে কেবল অনলাইনেই রাজ্যজুড়ে জমা পড়েছে ২৫ লক্ষেরও বেশি আবেদন! আর তার মধ্যে শুধু উত্তরবঙ্গ থেকেই এসেছে রেকর্ড ৮ লক্ষ অ্যাপ্লিকেশন! সঙ্ঘের সাম্প্রতিক প্রারম্ভিক শিবিরে উপচে পড়া এই ভিড় আসলে কোন নতুন সামাজিক বদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে? সঙ্ঘের আসন্ন মেগা বৈঠকে কী বড় সিদ্ধান্ত হতে চলেছে?

বিজেপি সরকার গঠনের পর থেকেই দেশাত্মবোধের এক নতুন জোয়ার লক্ষ্য করা যাচ্ছে বাংলায়। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের একটা মস্ত বড় অংশ এবার সরাসরি শাখার পরিমণ্ডলে আসতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। বিচার পরিবারের অনেকেই তাঁদের ঘরের কমবয়সিদের ইতিমধ্যেই তিনদিনের প্রারম্ভিক প্রশিক্ষণ শিবিরে পাঠিয়ে দিয়েছেন। তবে সঙ্ঘের কঠোর শারীরিক কসরত ও পরিশ্রম প্রবীণ বা মাঝবয়সিদের অনেকের পক্ষে করা সম্ভব না হলেও, তাঁরা দমে যাননি। উত্তরবঙ্গের প্রায় ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ সরাসরি সঙ্ঘের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে যুক্ত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। সাংগঠনিক বিচারে উত্তরবঙ্গের ১২টি জেলার গ্রামীণ ও শহর স্তরের প্রতিটি খণ্ড থেকেই এই বিপুল সাড়া গেরুয়া শিবিরকে এক অনন্য শক্তির জোগান দিচ্ছে।

হঠাৎ আসা এই লক্ষ লক্ষ নতুন আবেদনকারীদের নিয়ে সঙ্ঘ কিন্তু হাত গুটিয়ে বসে নেই। ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে বিশেষ ‘পরিচয়বর্গ’। নির্দিষ্ট বৈঠকে ডেকে নতুনদের শাখার নিয়মনিষ্ঠা, জাতীয়তাবাদী আদর্শ এবং প্রচারের মূল ভাবনাগুলি সহজ ভাষায় বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

আগামী ২৮ জুন সঙ্ঘের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠক রয়েছে, যেখানে নতুন যোগদানকারীদের চূড়ান্ত তালিকা নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা হবে।

শিক্ষক, ব্যবসায়ী, কৃষক বা শ্রমিক—যাঁরা যে পেশায় যুক্ত, তাঁদের রুচি ও পারদর্শিতা অনুযায়ী আলাদা আলাদা শাখা বা মিলনের বৈঠক তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাতর্ভ্রমণকারীদের নিয়েও হতে পারে পৃথক শাখা। সঙ্ঘ এখনই নতুনদের হাতে বড় দায়িত্ব দেবে না। প্রথমে শাখায় নিয়মিত সুশৃঙ্খল প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, তারপর যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ বণ্টন করা হবে।

তবে এই বিপুল ভিড়ের মাঝে এক চরম ও স্পষ্ট হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছে আরএসএস নেতৃত্ব। সঙ্ঘের একাংশের সাফ কথা—কেউ যদি মনে করেন রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে বলে সঙ্ঘের মঞ্চ ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক ফায়দা তুলবেন, তবে সেই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল! কারণ সঙ্ঘ কোনো রাজনৈতিক লাভ-লোকসানের জায়গা নয়। এটি মূলত সমাজ গড়ার কারিগর। মানুষের চরিত্র নির্মাণ এবং দেশ গঠনের কাজে নিঃস্বার্থভাবে যুক্ত থাকার শিক্ষাই দেওয়া হয় এখানে। ক্ষমতার লোভে নয়, বরং আদর্শের টানেই এই বিপুল যোগদান—এমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর সঙ্ঘের এই অভূতপূর্ব বিস্তার প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, বাংলার মানুষ এখন তোষণের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এক সুশৃঙ্খল ও জাতীয়তাবাদী সমাজ গঠনে কতটা উদগ্রীব। ২৮ জুনের বৈঠকের পর বাংলার এই সামাজিক মানচিত্র কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার।

বাংলায় মাত্র এক মাসে আরএসএস-এ ২৫ লক্ষ আবেদনের এই ঐতিহাসিক রেকর্ডকে আপনি কীভাবে দেখছেন? কমেন্ট বক্সে আপনার মতামত জানাতে ভুলবেন না ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *