২০২৪ সালের ৯ই অগাস্টের সেই নারকীয় ঘটনা গোটা দেশের বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছিল। দেখতে দেখতে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের তরুণী চিকিৎসকের সেই মর্মান্তিক ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের আজ দুই বছর পূর্ণ হলো। আর এই দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতেই নির্যাতিতার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল নব্য রাজ্য সরকার। স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বৈঠকের পর রাজ্য জুড়ে জারি হয়েছে বিশেষ বিজ্ঞপ্তি। রবিবার বেলা ১১টায় রাজ্যের সমস্ত সরকারি হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে প্রদীপ জ্বালিয়ে দুই মিনিটের নীরবতা পালন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর পাশাপাশি, পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক তথা নির্যাতিতার মায়ের উদ্যোগে আয়োজিত বিশেষ স্মরণসভায় উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী নিজে। তবে কেবল স্মরণেই সীমাবদ্ধ থাকছে না বিষয়টিকে, কারণ ক্ষমতায় আসার পরই আরজি কর কাণ্ডের ফাইল পুনরায় খোলার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল রাজ্য সরকার, তা বাস্তবায়নে এবার বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে স্বাস্থ্য দফতর। নিজস্ব উদ্যোগে এক পৃথক বিভাগীয় তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করতে চলেছে তারা, যেখানে ঘটনার দিন রাতে ঘটনাস্থলে কারা উপস্থিত ছিলেন তাঁদের সবাইকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। পরবর্তীতে এই রিপোর্ট হস্তান্তর করা হবে সিবিআই-এর হাতে।
অন্যদিকে সিবিআই-এর তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ— সিবিআই-এর নতুন তদন্তকারী দলটি পুরনো চার্জশিট ও বিভ্রান্তিকর দিকনির্দেশনা দ্বারাই প্রভাবিত হচ্ছে। বিশেষ করে ঘটনার দিন রাতে নির্যাতিতার সাথে থাকা চারজন জুনিয়র ডাক্তারের ভূমিকা এবং সন্দীপ ঘোষের সাথে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। আদালতের কড়া প্রশ্নের মুখে পড়ে এখন কোণঠাসা সিবিআই। তিলোত্তমার বিচার পাওয়ার এই আইনি লড়াই ও রাজ্য সরকারের নতুন তদন্ত প্রক্রিয়া সত্যিই এক সত্য উদঘাটনের নতুন আশা জোগাচ্ছে।