বাংলার মাটির ক্ষোভ আর বঞ্চনার দিন এবার শেষ। অন্নদাতাদের কান্না এবার মুছতে চলেছে। নবান্নের মসনদে শুভেন্দু অধিকারী বসার পর থেকেই একের পর এক জনকল্যাণমুখী প্রকল্পের বন্যা বয়ে যাচ্ছে বাংলায়। আয়ুষ্মান ভারত থেকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার—বিজেপি যা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করছে। আর এবার বাংলার কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে রাজ্যজুড়ে চালু হতে চলেছে মোদীজির স্বপ্নের প্রকল্প—প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি যোজনা।
বিগত ১৫ বছরের তৃণমূলের অপশাসন ও তোষণের রাজনীতিতে সবচেয়ে বেশি ভুগেছেন বাংলার কৃষকেরা। কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার ২০১৮ সালের ১লা ডিসেম্বর থেকেই এই প্রকল্প সারা দেশে চালু করেছিল। দেশের সমস্ত রাজ্যের কৃষকেরা এই সুবিধা পেলেও, কেবল রাজনৈতিক অহংকার আর হিংসার বশবর্তী হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার তা বাংলায় ঢুকতে দেয়নি। কৃষকদের পাওনা টাকা আটকে রেখেছিল তারা। কিন্তু আজ যুগ বদলেছে, চোরদের বিদায় দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। আর আসতেই কৃষকদের হকের টাকা ফিরিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকেরা বছরে মোট ৬০০০ টাকার আর্থিক সাহায্য পাবেন। তবে এই টাকা একবারে নয়, সরাসরি উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে তিনটি কিস্তিতে ঢুকবে। প্রতি কিস্তিতে দেওয়া হবে ২০০০ টাকা করে। নিয়ম অনুযায়ী, এপ্রিল থেকে জুলাইয়ে প্রথম কিস্তি, আগস্ট থেকে নভেম্বরে দ্বিতীয় কিস্তি এবং ডিসেম্বর থেকে মার্চের মধ্যে তৃতীয় কিস্তির টাকা সরাসরি কৃষকদের হাতে পৌঁছে যাবে। মাঝে কোনো তোলাবাজ বা ‘কাটমানি’ খাওয়া তৃণমূলের দালাল থাকবে না। কিন্তু কারা পাবেন এই প্রকল্পের সুবিধা ?
এর জন্য কিছু নির্দিষ্ট যোগ্যতা থাকা প্রয়োজন আবেদনকারীকে অবশ্যই ভারতের স্থায়ী নাগরিক এবং প্রকৃত কৃষক হতে হবে। ভূমি রাজস্ব দফতরের রেকর্ড অনুযায়ী আবেদনকারীর নিজের নামে চাষযোগ্য জমি থাকতে হবে। মনে রাখবেন, কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ভাগচাষী বা কর্পোরেট সংস্থা এই সুবিধা পাবেন না। যদি কোনো অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী হন এবং তাঁর মাসিক পেনশন ১০ হাজার টাকার বেশি হয়, তবে তিনি এই সুবিধা পাবেন না। আবেদনকারীর নিজস্ব সক্রিয় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং পরিচয়পত্র থাকতে হবে। এবার আসি আসল কথায় আবেদন করবেন কীভাবে ?
পদ্ধতি অত্যন্ত সহজ এবং স্বচ্ছ। কৃষকেরা ঘরে বসেই অনলাইনের মাধ্যমে pmkisan.gov.in এই অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন। আবেদনের জন্য আপনার জমির দলিল বা পর্চা, আধার কার্ড বা ভোটার আইডি, বার্ষিক আয়ের শংসাপত্র এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণী প্রয়োজন হবে। বিজেপি সরকারের স্পষ্ট নীতি—কোনো কাটমানি নয়, কোনো স্বজনপোষণ নয়; আপনি যোগ্য হলে মোদীজির সাহায্য আপনার অধিকার।
দিল্লিতে দেশের প্রধান সেবক নরেন্দ্র মোদী আর বাংলায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী—এই ডবল ইঞ্জিন সরকার আজ প্রমাণ করে দিল যে তারা মুখে বড় বড় ভাষণ দেয় না, কাজের মাধ্যমে গরিব কৃষকদের পাশে দাঁড়ায়। তৃণমূল যে বাংলাকে ভিখারি বানিয়ে রেখেছিল, সেই বাংলায় আজ মাথা উঁচু করে বাঁচবেন চাষিরা। কৃষকদের এই সম্মানই হবে নতুন ও উন্নত বাংলা গড়ার আসল ভিত্তি।
আপনার কী মনে হয়? পিএম কিষান যোজনা বাংলায় চালু হওয়ায় কি কৃষকদের ভাগ্য সত্যিই বদলে যাবে? তৃণমূলের এই ১৫ বছরের বঞ্চনার যোগ্য জবাব কি দিলেন শুভেন্দু অধিকারী? কমেন্ট বক্সে জানান আপনার মতামত।