বাঙালির প্রাণের উৎসব দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে এবার উঠে এল এক অভাবনীয় ও বিস্ফোরক দুর্নীতির অভিযোগ! আরজি কর কাণ্ডের দুর্নীতির কালো ছায়ার পরই এবার দুর্গোৎসবের প্রমোশন ও প্রচারের নামে কোটি কোটি টাকার নয়ছয়ের অভিযোগ ঘিরে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। ইউনেস্কোর মর্যাদাপূর্ণ ‘আবহমান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ বা ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ স্বীকৃতির নাম ভাঙিয়ে, ভিআইপি পাস ও টিকিট বিক্রির আড়ালে অন্তত তিনটি স্তরে সুপরিকল্পিত আর্থিক অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে বলে সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টে দাবি করেছে রাজ্য সরকার।
অভিযোগের প্রধান তির রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা গায়ক ইন্দ্রনীল সেন এবং তাঁর স্ত্রীর ব্যক্তিগত সংস্থা ‘মাস আর্ট’-এর দিকে। মামলাকারীদের অভিযোগ, ইউনেস্কোর স্বীকৃতিকে বাণিজ্যিক হাতিয়ার বানিয়ে প্রমোশন ও প্রদর্শনী আয়োজনের নাম করে বিপুল পরিমাণের অর্থ লেনদেন করা হয়েছে। বিষয়টি সামনে আসতেই অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের একক বেঞ্চ ঘটনার গভীরতা অনুধাবন করে প্রাক্তন মন্ত্রীর স্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থা ‘মাস আর্ট’-এর ব্যাংক অ্যাকাউন্টের যাবতীয় আর্থিক লেনদেনের নথি আদালতে জমা দেওয়ার স্পষ্ট নির্দেশ জারি করেছেন।
আইনি শুনানির সময় অত্যন্ত বিস্ময় ও অসন্তোষ প্রকাশ করে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ মন্তব্য করেন— “এই সংস্থা কি দুর্গাপুজোর প্রমোটিং বা প্রচার করা ছাড়া আর অন্য কোনো কাজকর্ম করত?” বিচারপতির এই প্রশ্নের পর উক্ত সংস্থার সার্বিক কাজের পরিধি এবং আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে মামলাটি এক নতুন ও স্পর্শকাতর মোড় নিয়েছে। রাজ্য সরকারের তরফে আদালতে স্পষ্ট জানানো হয়, বাংলার হেরিটেজ সংস্কৃতিকে হাতিয়ার করে যেভাবে বাণিজ্য করা হয়েছে এবং টাকা ঘোরানো হয়েছে, তা কোনো সাধারণ ঘটনা নয়, বরং এক গভীর আর্থিক চক্রান্তের অংশ।
দুর্নীতির জাল ঠিক কতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল, তা নিরূপণ করতে ব্যাংক লেনদেনের এই নথিপত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক ও আইনি বিশেষজ্ঞ মহল। হাইকোর্ট এই হাই-প্রোফাইল মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে আগামী ২৭শে আগস্ট। ওই দিনই ব্যাংক হিসেব ও নতুন তথ্যপ্রমাণের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী আইনি নির্দেশ আসবে। তো বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবকে ঘিরে এমন চাঞ্চল্যকর অভিযোগ আর আদালতের এই কঠোর নজরদারি— বঙ্গ রাজনীতিতে যে এক বিরাট তোলপাড় ফেলে দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।
