“নামের মধ্যে ‘মন্দির’ শব্দের অজুহাত দেখিয়ে বাংলার গরিব মানুষকে আর বঞ্চিত করা যাবে না!”—রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলার স্বাস্থ্যক্ষেত্রে ঘটে গেল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিপ্লব। ছাব্বিশের নির্বাচনী ইস্তাহারে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক মহা-প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অবশেষে সমস্ত রাজনৈতিক জটিলতার অবসান ঘটিয়ে কেন্দ্রের মোদী সরকারের স্বপ্নের ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের আওতায় চলে এলো পশ্চিমবঙ্গ। দিল্লির বিজ্ঞান ভবন থেকে সরাসরি সাংবাদিক বৈঠক করে রাজ্যবাসীকে এই মেগা সুখবর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আজ থেকেই বাংলার কোটি কোটি মানুষ কীভাবে পাবেন ৫ লক্ষ টাকার এই নিখরচায় চিকিৎসার সুবিধা? কেন এতদিন এই প্রকল্পকে আটকে রেখেছিল পূর্বতন সরকার?
২০১৮ সালে ভারতের প্রতিটি প্রান্তিক মানুষের চিকিৎসার কথা মাথায় রেখে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ যোজনার সূচনা করেছিল কেন্দ্র। কিন্তু গত দীর্ঘ ৬ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এই জীবনদায়ী সুবিধা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত ছিলেন। কারণ, পূর্বতন তৃণমূল সরকার স্রেফ নিজেদের ঢাক পেটাতে এবং তোষণের রাজনীতি করতে গিয়ে এই প্রকল্পকে বাংলায় থমকে রেখেছিল। তার বদলে চালু করা হয়েছিল ‘স্বাস্থ্যসাথী’, যার পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভের শেষ ছিল না বাংলার মানুষের। বহু হাসপাতাল সেই কার্ড ফিরিয়ে দিত। কিন্তু বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসতেই মাত্র এক মাসের মাথায় দিল্লির সঙ্গে ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর করে বাংলার ঘরে ঘরে আসল ডিজিটাল স্বাস্থ্যসুরক্ষা পৌঁছে দিল নবান্ন। শুভেন্দুজীর এই একটি ঐতিহাসিক চালে বাংলার কত কোটি মানুষ উপকৃত হতে চলেছেন, তার খতিয়ানটি শুনলে আপনিও চমকে উঠবেন। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন , বাংলার ১ কোটি ৪৩ লক্ষ পরিবারের প্রায় সাড়ে ৬ কোটি মানুষ সরাসরি এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। এই মেগা প্রকল্পের জন্য রাজ্য সরকারের তরফ থেকে একঝটকায় ৯৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এই কার্ড চালুর প্রথম দিন থেকেই রোগীর সমস্ত পুরনো ও জটিল রোগের কভারেজ মিলবে। রাজ্য এবং দেশের মোট ৩৬,০০০ সরকারি ও বেসরকারি নামী হাসপাতাল এই সুবিশাল নেটওয়ার্কের আওতাভুক্ত। এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ ধেয়ে আসতে চলেছে বাংলার লাখ লাখ পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য। কাজের খোঁজে যে সমস্ত যুবকেরা ভিন রাজ্যে গিয়ে কঠিন রোগে আক্রান্ত হতেন, তাঁরা এতদিন ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ড দিয়ে ভিন রাজ্যে চিকিৎসা করাতে পারতেন না। কিন্তু ‘আয়ুষ্মান ভারত’ একটি জাতীয় প্রকল্প হওয়ায়, এবার মুম্বাই, দিল্লি বা চেন্নাইয়ের মতো বড় বড় শহরের হাসপাতালেও বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকেরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিশ্বমানের চিকিৎসা পাবেন। সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলের এক ভয়ঙ্কর মানসিকতার মুখোশ টেনে খুলে দিয়েছেন। তিনি খোলসা করেন, ঠিক কী কারণে পূর্বতন সরকার এই প্রকল্পের বিরোধিতা করেছিল। শুভেন্দুজী বলেন, কেন্দ্রের এই প্রকল্পের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির নাম রাখা হয়েছিল ‘আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির’। আর এই ‘মন্দির’ শব্দটি শুনলেই তৎকালীন শাসকদলের তোষণের রাজনীতিতে আঘাত লাগত। স্রেফ নামের মধ্যে ‘মন্দির’ থাকার কারণে কোটি কোটি মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছিল তৃণমূল! আজ সেই সংকীর্ণ মানসিকতাকে উপড়ে ফেলে বাংলায় প্রকৃত সুশাসন প্রতিষ্ঠা করল বিজেপি সরকার।
ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি খতম, এবার বাংলায় শুরু হলো মানুষের জীবনের অধিকার রক্ষার লড়াই। মোদী-শুভেন্দুর ডবল ইঞ্জিন সরকারের এই যুগান্তকারী মাস্টারস্ট্রোকে রক্ষা পাবে বাংলার কোটি কোটি মানুষের প্রাণ।
আপনার কী মনে হয়? স্রেফ ‘মন্দির’ নামের বিরোধিতায় বাংলার মানুষকে এতদিন বঞ্চিত রাখার তৃণমূলী রাজনীতির বিরুদ্ধে শুভেন্দু অধিকারীর এই জবাব কি একদম সঠিক? কমেন্ট বক্সে আপনার বলিষ্ঠ মতামত অবশ্যই জানান।
