প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রাজনৈতিক জীবনে ৭ অক্টোবর দিনটির আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। প্রথমে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দীর্ঘ সময় প্রশাসনের দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। এরপর দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সরকারের প্রধান হিসেবে তাঁর এই দীর্ঘ প্রশাসনিক সফরকে সামনে রেখেই বিজেপির তরফে শুরু হয়েছে ‘সেবা সংকল্প অভিযান’। গত ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির সমাপ্তি হবে আগামী ৭ অক্টোবর। আর সমাপ্তি পর্বেই দেশজুড়ে আয়োজন করা হবে ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’।
সোমবার এই কর্মসূচির বিস্তারিত রূপরেখা প্রকাশ করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য অনুযায়ী, একটানা ২৫ বছর সরকারের প্রধান পদে থাকা সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা। সেই বিষয়টিকে সামনে রেখেই ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ আয়োজন করা হয়েছে। ৭ অক্টোবর দেশজুড়ে ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’ হবে বলে জানান তিনি। পশ্চিমবঙ্গেও প্রতিটি জেলায় এই কর্মসূচিকে ঘিরে বিশেষ আয়োজন করা হচ্ছে।
বিজেপির রাজ্য সভাপতির ঘোষণা অনুযায়ী, রাজ্যের ২৩টি জেলার প্রত্যেক জেলা সদরে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হবে। কর্মসূচির শুরুতেই থাকবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের বক্তব্য। সরাসরি উপস্থিত থেকে তাঁদের বক্তব্য শোনার সুযোগ না থাকলেও, সাধারণ মানুষ যাতে সেই বক্তব্য শুনতে পারেন, তার জন্য বিভিন্ন জায়গায় বসানো হবে জায়ান্ট স্ক্রিন। কোথাও প্রকাশ্য জায়গায়, আবার কোথাও ইনডোর স্টেডিয়ামে এই জায়ান্ট স্ক্রিনের ব্যবস্থা করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং নীতিন নবীনের বক্তব্য শেষ হওয়ার পর জেলায় জেলায় শুরু হবে পদযাত্রা। হাতে থাকবে মশাল। বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা মশাল হাতে এই যাত্রায় অংশ নেবেন। তবে শুধু দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেই এই কর্মসূচিকে সীমাবদ্ধ রাখতে চাইছে না বিজেপি। সাধারণ মানুষকেও ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’-য় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। মোদীর দীর্ঘ প্রশাসনিক যাত্রাকে সামনে রেখে তাঁর প্রতি সমর্থন এবং জনসংযোগ দুই লক্ষ্যেই এই কর্মসূচিকে ব্যবহার করতে চাইছে বঙ্গ বিজেপি।
গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থেকে দেশের প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘ এই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সফরের ২৫ বছর পূর্তিকে সামনে রেখে বিজেপির এই আয়োজন। ১৭ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া ‘সেবা সংকল্প অভিযান’-এর শেষ পর্বে এবার রাজ্যজুড়ে মশাল হাতে পথে নামবেন বিজেপির কর্মীরা।
