বাংলায় বিমান পরিষেবার পরিকাঠামো আরও বাড়ানোর উদ্যোগের মধ্যেই সামনে এল পাইলট প্রশিক্ষণের প্রসঙ্গ। রবিবার নবান্নে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে বাংলায় চারটি নতুন বিমানবন্দর চালু করা নিয়ে মউ স্বাক্ষর হয়। সেই অনুষ্ঠানেই স্মিত মচ্ছরের সাহসিকতার কথা তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য ভারতের প্রত্যেক পাইলটই দেশের প্রতি দায়বদ্ধ। কিন্তু স্মিত মচ্ছর যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তা নিঃসন্দেহে নজিরবিহীন। শুভেন্দুর আবেদন, বাংলার মাটি থেকেও যেন এমন দক্ষ, সাহসী এবং দেশপ্রেমিক পাইলট তৈরি হতে পারেন।
বেহালায় একটি ফ্লাইং ট্রেনিং ইনস্টিটিউট তৈরির প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন মিললে বাংলার তরুণ-তরুণীদের বিমান চালনার প্রশিক্ষণের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ভারতের প্রত্যেক পাইলট দেশকে ভালোবাসেন। কিছুদিন আগে আমাদের এক পাইলট নিজের সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। বহু নিরপরাধ জীবন বাঁচিয়েছেন তিনি। বাংলা থেকে যেন এরকম পাইলট তৈরি হতে পারে সেই আর্জি জানিয়েছি।”
গত বুধবার দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাই দুবাইয়ের বিমানটি মাঝ আকাশে বিরাট বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে। ককপিটে আচমকা ভারতীয় পাইলট স্মিতকে পিছন দিক দিয়ে হামলা চালায় কো-পাইলট হামাম। কুঠার দিয়ে মাথায় একাধিক কোপ দেয় সে। ধস্তাধস্তিতে বিমানটি দুই মিনিটে ৩৬ হাজার ফুট থেকে ১৭ হাজার ফুটে নেমে আসে। অতিরিক্ত চাপে রাডারের অংশ খুলে যায়। শেষ পর্যন্ত গুরুতর জখম অবস্থায় ককপিটের দরজা খুলে দেন স্মিত। এরপরেই বিমানে থাকা অন্য দুই পাইলটের সাহায্যে বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করে। কিন্তু প্রথম থেকে গোটা ঘটনাক্রম নিয়ে অনেক প্রশ্ন ছিল।
পরে জানা যায়, হামামের পরিকল্পনা ছিল সন্ত্রাসী হামলা। এই ঘটনায় ভারতীয় কো-পাইলট স্মিতের প্রশংসা করেন একাধিক দেশের রাষ্ট্রনেতারা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও তাঁর সঙ্গে কথা বলেন। এবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও তাঁর সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানালেন।